দুর্নীতি করে দেশকে ফোকলা বানিয়েছে সরকার: ফখরুল
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ৪ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৮:৫৫
সরকার ‘দুর্নীতি করে দেশকে ফোকলা’ বানিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৪ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে তিনি বলেন, “সরকার মিথ্যা কথা বলে, মানুষকে বোকা বানিয়ে নিজেদের যে দুর্নীতি…নিজেরা আজকে চুরি করে বাংলাদেশকে ফোকলা বানিয়ে দিয়েছে। “সরকার সেটা আড়াল করতে চায়, ঢাকতে চায়। তারা মিথ্যাচারের কৌশল নিয়েছে।”
এভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই,… মিথ্যা কথা বলে, জনগণকে ভুল বুঝিয়ে, প্রতারণা করে টিকে থাকা যাবে না। যত কিছু্ই করেন, বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে তাকে আটকে রাখা যাবে না।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুসহ আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দা্বিতে এই সমাবেশ করে বিএনপি।
ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক এগিয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া আছে না আপনাদের, সারাক্ষণ ফেইসবুক করেন। ওখানে কী কথা ভেসে আসে?
“ভেসে আসে যে, এদের বড় বড় নেতারা একদম উপর থেকে শুরু করে নিচ পর্যন্ত, কীভাবে দুর্নীতি করছে তা আপনারা দেখতে পারছেন। যদি ভালোয় ভালোয় বিদায় নিতে চান তবে দুর্নীতি বন্ধ করেন।”
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “কথা খুব স্পষ্ট,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, মজনুসহ (রফিকুল আলম মজনু) সকল রাজবন্দিকে মুক্ত করতে হবে।
“তাদের মুক্ত করতে হলে আমাদের আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নাই।… তাদেরকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের হাতে এই সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।”
ফখরুল বলেন, “একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করে জনগণের সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা- সেটাই একমাত্র তাদের (সরকারের) রক্ষার উপায়, এ ছাড়া রক্ষার কোনো উপায় নেই।”
সরকার ‘অনর্গল মিথ্যা কথা বলে’ মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, তারেক রহমান সাহেব সম্পর্কে ইদানিং শুরু করেছে। উনার জন্য নাকি টাটার (ভারতের টাটা কোম্পানি) ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসে নাই। আচ্ছা একটা পাগল যে, সেও তো বুঝবে সরকারে ছিল তখন বিএনপি। তো বিএনপি বিনিয়োগ আনতে চাইবে না কেন? ‘মানুষের নয়, ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে আওয়ামী লীগের’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ক্ষতি হচ্ছে, মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তারা কষ্ট পাচ্ছে। আজকে পত্রিকায় দেখলাম-এক মন্ত্রী বলেছেন, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। দ্রব্যমূল বৃদ্ধি আর ক্রয়ক্ষমতা এক জিনিস নয়। মন্ত্রী সাহেব আপনাকে প্রথমে শিখতে হবে- দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর ক্রয় ক্ষমতা এক কথা নয়। আর যদি ক্রয় ক্ষমতা বেড়েই থাকে, সেই ক্ষমতা বেড়েছে আওয়ামী চামচাদের, সাধারণ মানুষের নয়।”
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে ‘দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে’ বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তা্র এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া এ কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
বিএনপির খায়রুল কবির খোকন, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ইশরাক হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, ইউনুস মৃধা ও লিটন মাহমুদ, উত্তরের আমিনুল হক, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিমসহ মহানগর নেতারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/সুস্মিত

