বঙ্গবন্ধু: যে আদর্শের মৃত্যু ঘটে না কখনো
আলাউদ্দিন মির্জা । শনিবার, ২৬ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:৩২
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন তখন বাংলাদেশের সর্বত্র ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ধ্বংসলীলা। মানুষের মৌলিক অধিকার খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের অভাব ছিল তীব্র। কলকারখানায় উৎপাদনও বন্ধ। সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা এবং এক কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন করারসহ সমস্যা ছিল অগণিত। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলাই ছিল বঙ্গবন্ধুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
মাত্র সাড়ে ৩ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন জাতির জনক। এর মধ্যেই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তিনি। একটি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় এমন কোনো বিষয় নেই, যা তিনি স্পর্শহীন রেখেছেন। বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছেন সব উন্নয়নের শক্ত ভিত হিসেবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বঙ্গবন্ধুর সাফল্যময় শাসনামল ও তার দর্শন নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ বিষয়গুলো তুলে ধরার যথোপযুক্ত উদ্যোগও নেই।
কেমন দেশ চেয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব? সেটি অনুমান করা যায় তার নানা বক্তব্য বিশ্লেষণে। স্বাধীনতার প্রথম বর্ষপূর্তিতে তিনি বলেছিলেন- শ্মশান বাংলাকে আমরা সোনার বাংলা করে গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলায় আগামী দিনের মায়েরা হাসবে, শিশুরা খেলবে। আমরা শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে সেনাবাহিনীর কিছু কুলাঙ্গার বঙ্গবন্ধুকে পরিবারের বহু সংখ্যক সদস্যসহ হত্যা করে। বিশ্ব ও মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেদিন তারা কেবল বঙ্গবন্ধুকেই নয়, বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশার অর্জন স্বাধীনতার আদর্শগুলোকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। ফলে থেমে গিয়েছিল বাংলাদেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাময় অভিযাত্রা। তাঁর অবর্তমানে দেশ চলতে শুরু করে উল্টো পথে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু কখনোই কারো সঙ্গে আপোস করেননি। নিজের পরিবারের দিকে লক্ষ্য না করে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাই এই বাংলায় বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নেই। তাঁর আদর্শেরও মৃত্যু ঘটবে না কখনো।

