আজ মহান স্বাধীনতা দিবস: ৭১-এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার দাবি
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৬ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:৫১
আজ বাংলাদেশের ৫২তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এরআগে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে অপারেশন সার্চলাইট নামে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাংলাদেশীদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। ২৫ মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত জঘন্যতম গণহত্যার এখনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশ। এবার গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার চায় বাংলাদেশ। বিস্তারিত লিখেছেন সাইফুল অনিক
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এ দেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশ। এখন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ৯ মাসের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। সে জন্য ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার যে প্রস্তাব ২০১৭ সালে সংসদে পাস হয়েছিল, তাতে সংশোধন আনতে হবে। পাশাপাশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সহায়তা পেতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ শুরু করতে হবে।
গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ: ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালীদের উপর চালানো গণহত্যার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে যে গণহত্যা হয়েছে, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ব্যাপক ও পরিকল্পিত হত্যা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে হত্যাকাণ্ডের খবর ২৭ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। খবরে বলা হয়েছিল, এক লাখ পর্যন্ত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড বিজয়ের দিন ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ২৫ মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের কোনো স্বীকৃতি না থাকায় ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস করে। এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় এখন সরকারকে ৯ মাসের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন ও এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার যে প্রস্তাব সংসদে পাস হয়েছিল তাতে সংশোধন আনতে হবে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যেসব দেশে গণহত্যা হয়েছে, তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
গণহত্যা জাদুঘর দেশব্যাপী যে গণহত্যা-নির্যাতন, বধ্যভূমি ও নির্যাতনকেন্দ্রের জরিপ কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাতে বিস্ময়কর চিত্র উঠে আসছে। রেফারেন্স বইয়ে গণহত্যা, বধ্যভূমি, গণকবর ও নির্যাতন কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৯০৫, আর চলমান জরিপে ৩৪টি জেলায় সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৮৬। ৬৪ জেলার সে সংখ্যা কত দাঁড়াতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। একেকটি গণহত্যার ঘটনায় ৫ জন থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। গণহত্যা নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধচর্চার ইতিহাস ও গণহত্যার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা হয়েছে। কারণ, গণহত্যার কথা বলা হলেই কারা হত্যাকারী, সে তথ্য বেরিয়ে আসবে, এ কারণে অনেক তথ্য চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে আগে।
সম্প্রতি একটি প্রবন্ধে ধর্ষণের শিকার নারীর প্রকৃত সংখ্যা ৪ লাখের বেশি হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সরকারি হিসাবে আছে ধর্ষণের শিকার নারীর সংখ্যা ২ লাখ। এ হিসাবটি এসেছে, যারা সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে এসে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন আর রেডক্রসের সেবাগ্রহীতার তথ্য থেকে। ওই সময় রেডক্রস জানিয়েছিল, তারা দেড় লাখ নারীর গর্ভপাত করিয়েছিল। কিন্তু অনেক নারী গর্ভধারণ করেননি, আবার অনেকে সন্তান জন্ম দিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া অনেকে লোকলজ্জায় ধর্ষণের কথা চেপেও গিয়েছিলেন। রেডক্রসের মতে, মোট হিসাবে এ সংখ্যা ৪ লাখের বেশি হতে পারে।
গণহত্যার দায় এড়াতে চায় পাকিস্তান: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা চালালেও তার দায় এড়াতে চায় পাকিস্তান। গণহত্যার জন্য তারা কোনো ক্ষমা না চেয়ে সামনে আগাতে চায়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব সময় তাগিদ দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তান যেন গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চায়। এদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫১ বছরেও ১৯৭১ সালের নৃশংস খুন, ধর্ষণ, অপহরণের জন্য পাকিস্তানের কোনো শীর্ষ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। গণহত্যার দায় এড়িয়ে সব সময় পাকিস্তান দাবি করছে, ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। এছাড়া পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি বলেছেন, অতীত ভুলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে বড় বাঁধা পাকিস্তান: ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া সরকার ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন, যেটি আদায়ের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল ’৭১-এর ঘাতক দালান নিমূর্ল কমিটি এবং সহায়তায় ছিলেন বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা জনাব তোফায়েল আহমেদ। জাতীয়ভাবে এই স্বীকৃতি আমাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ খুলে দিলেও এখনো বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান এবং এই মুহূর্তে তার বিশিষ্ট বন্ধুরাষ্ট্র চীন এবং সম্ভবত তুরস্ক। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে এরই মধ্যে চেতনা বোধের এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্নে বিস্তর পরিবর্তন সাধিত হওয়ায় এদের অধিকাংশ দেশই আমাদের দাবির সমর্থনে আসবে বলে আশা করা যায়, যা অবশ্য নির্ভর করছে এ বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষ লবিংয়ের ওপর। তবে যে যুক্তরাষ্ট্র ’৭১-এ আমাদের চরম বিরুদ্ধে ছিল, ২০২২-এ তার মধ্যে ১৬০ ডিগ্রি পরিবর্তনের ফলে সে দেশটি এরই মধ্যে ’৭১ সালে আমাদের দেশে পাকিস্তান কতৃর্ক চালিত গণহত্যার স্বীকৃতি দিতে অনেকখানি এগিয়ে গেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেও ভয়াবহ: বাংলাদেশে চালানো গণহত্যা নিশ্চিতভাবে আর্মেনিয়ার গণহত্যার চেয়ে নৃশংস ছিল এবং এমনকি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে নাত্সিদের দ্বারা ঘটানো গণহত্যার চেয়েও ব্যাপক ছিল এই অর্থে যে, সেখানে জার্মানিতে চার বছরে ৬০ লাখ লোককে হত্যা করা হয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৩০ লাখ লোককে শহীদ করা হয়েছিল, ৯ মাসে। গণহত্যাকারী পাকিস্তানি সৈন্যদের বিচার করা হবে, এই প্রতিজ্ঞা করে পাকিস্তান তাদের সৈন্যদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করলেও দায়ী দেশটি তাদের প্রতিজ্ঞা রক্ষা তো করেইনি, বরং বাংলাদেশে তাদের দোসর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে, তারা সংসদে নিন্দা প্রস্তাব করে বাংলাদেশে বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের দেশপ্রেমিক বলে আখ্যায়িত করে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছিল।
স্বীকৃতি দিতে উদাসীন জাতিসংঘ: জাতিসংঘ এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রাচীন ও সাম্প্রতিক গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিরোধ-প্রতিবাদ সত্ত্বেও দিয়েছে। স্বীকৃতি দিয়েছে অটোমান তুর্কিদের হাতে ১৯১৫ সালে ১৫ লাখ আর্মেনীয় হত্যা; ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় ৮ লাখ তুতসি জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা। এমনকি স্বীকৃতি দিয়েছে ১৯৯২ সালের বসনিয়া ও ১৯৭৫ সালের কম্বোডিয়ার গণহত্যা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে যে ৩০ লাখ বাঙালির পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ ঘটে ১৯৭১ সালে; তার কোনো স্বীকৃতি আজও দিতে পারেনি বিশ্ব সংস্থা! সেই বর্বরতার স্বীকৃতি জাতিসংঘ থেকে ৫১ বছরেও মেলেনি! এমন একটি ব্যর্থতা কেবল দুঃখজনক নয়; বিশ্ব সংস্থার চরম ব্যর্থতা ও দৈন্যেরই বহিঃপ্রকাশও বটে। শুধু তাই নয়; এমন ব্যর্থতার যুক্তিসংগত কারণও দেয়নি জাতিসংঘ।

স্বীকৃতি আদায়ে উদ্যোগী হতে হবে: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা আন্তর্জাতিকভাবে ভুলে যাওয়ার একটি গণহত্যায় পরিণত হয়েছে। আমাদের সমন্বিতভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হবে। সরকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করার জন্য দাপ্তরিকভাবে আবেদন করে কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় হতে হবে। তথ্য, সাক্ষ্য ও যুক্তিসংবলিত আবেদন সরবরাহ করতে হবে। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিল, তাদের আবার এই বিষয়ে সমর্থন আদায় করে নিতে হবে। শুধু সরকারী পর্যায়ে নয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন এনজিও কেও এবিষয়ে কাজ করতে হবে।

স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দেয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, স্বাধীনতার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে আরও বলেছেন,‘এই দিনে আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালালে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।’ এছাড়াও তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন, জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সমর্থক, বিদেশি বন্ধু এবং সর্বস্তরের জনগণকে, যারা অধিকার আদায় ও মুক্তিসংগ্রামে বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন।
স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে উন্নয়নের যে গতিধারা সৃষ্টি হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আরও বলেছেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে, ২০২০-২০২১ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যুগপৎভাবে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করেছি।’ স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সকল বাংলাদেশীকে ভেদাভেদ ভুলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে লালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

সব দেশেই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের স্বীকৃতি ও বিচারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবতার লড়াই, মানব সভ্যতার লড়াই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা আন্তর্জাতিকভাবে ভুলে যাওয়া একটি গণহত্যায় পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হবে। এ জন্য সরকারকে কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় হতে হবে। এ গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

