উন্নয়ন অভিযাত্রায় সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ

উন্নয়ন অভিযাত্রায় সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ

রেজাউল করিম শাওন । রবিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৭:১৭

বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে রাজনৈতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ফানুস উড়িয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শুরু হয়েছে উন্নয়নের পথে গণতন্ত্রের অনন্য যাত্রা। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ আজ নিজের অর্থে স্রোতস্বিনী পদ্মায় স্বপ্নের বড় সেতু করার দেশ, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার দেশ। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্র বিজয়, ছিটমহল সমস্যার সমাধান করার দেশ। আর এসবই সম্ভব হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ তনয়া, গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি সংগ্রাম করে চলেছেন প্রতি মুহূর্তে।

অর্থনৈতিক ও চিন্তার মুক্তির জন্য প্রথমিক শর্ত হিসেবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়ও শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তবে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা কখনোই আনন্দঘন ছিল না। বার বার তা বাধা পেয়েছে। ১৯৭১ সালে কোটি মানুষের স্বপ্নের বিজয় অর্জিত হয়েছিল জাতির লাখো বীরসন্তানের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের মধ্যদিয়ে। শুরু হয়েছিল গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সমৃদ্ধ স্বাধীন-সার্বভৌম আত্মমর্যাদা সম্পন্ন স্বপ্নযাত্রার। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে সেই যাত্রা থামিয়ে দেয় কুচক্রীমহল। তবে ২১ বছর পরে বাঙালি বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বেই আবার জেগে ওঠে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র এখন মজবুত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

দেশের আর্থসামাজিক কাঠামোর এক ভঙ্গুর মুহূর্তে ১৯৯৬ সালে বাঙালির স্বপ্নপূরণের আলোকবর্তিকা হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। নানা দুর্যোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে তিনি স্থিতিশীল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে চালাতে শুরু করেন। কিন্তু ২০০১ সালে ফের ছন্দপতন ঘটে। নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে দেশ চলে যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের হাতে। বহু সংগ্রাম ও আন্দোলনের পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি মহাজোট সরকার গঠন করে শেখ হাসিনা সুদৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দেশের উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন; যার ফলে আজকের এই বাংলাদেশ। স্বাধীন দেশ হিসেবে এর জন্মের সূচনালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ এক স্বপ্নতাড়িত দেশ। যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা, তার ভিত্তিমূল তৈরি করেছেন তারই কন্যা শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও ৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে জাতিকে করেছেন দায়মুক্ত। তিনি পিতার মতো রাজনীতিকে মানুষের সেবায় ব্রত হিসেবে গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছেন। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বিচারে বর্তমানে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৩৩তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

২০১৮ সালের নির্বাচনে যে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের ইশতেহার তৈরি করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সুদৃঢ় অবস্থান জনমনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তার বিশেষ অঙ্গীকার হিসেবে ২১টি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ‘আমার গ্রাম-আমার শহর : প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ’, ‘পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা’, ‘তারুণ্য ও শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি : তরুণ-যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা’, ‘সব স্তরে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা’, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ’, ‘নারীর ক্ষমতায়ন’, ‘লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ’, ‘সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল’, ‘মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন’, ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা’, ‘সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি’, ‘দারিদ্র্য নির্মূল, ‘সব স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি’, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা’, ‘সার্বিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার’, ‘আধুনিক কৃষিব্যবস্থা’, ‘দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন’, ‘ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়ন’, ‘নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা’, ‘প্রবাসীকল্যাণ কর্মসূচি’, ‘টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’। এগুলো আজ উন্নয়নের রোল মডেল হওয়ার ‘গোপন জাদু’।

এই জাদুযাত্রায় শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা। তিনি পরিবারের সব আপনজনকে হারিয়ে দেশবাসীর মধ্যেই তার পরিবার ও আপনজন খুঁজে পেয়েছেন। জনগণ তাকে রক্ষা করতে মানববর্ম তৈরি করে বুকে আগলে রেখেছে, বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের জন্যই। পিতার মতো বরাবরই তিনিও ঘাতকের ষড়যন্ত্রের টার্গেট। একবার নয়, দুবার নয়, ১৯ বার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মৃত্যুঞ্জয়ী নেত্রী। তিনি প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায়; বাংলাদেশ বিনির্মাণের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে একটি রাষ্ট্রের সরকারের ইচ্ছা, সদিচ্ছা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতির ওপর। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুযায়ী জনগণের কল্যাণার্থে দেশ চালাচ্ছে। আর সেটি করছে দক্ষতার সঙ্গে,

কৃতিত্বের সঙ্গে। যে জন্য দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নতি এখন দৃশ্যমান। পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হচ্ছে। শহরে এখন প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। এমনকি গ্রামেও প্রচুর রাস্তাঘাট হয়েছে। মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করছে। আমরা কৃষিতে উন্নতি সাধন করেছি, শিল্পে উন্নতি করেছি, রপ্তানি বেড়েছে। সর্বদিক দিয়ে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। শিক্ষায় উন্নতি সাধন হয়েছে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে উদ্দেশ্যে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম সেই উদ্দেশ্যের পরিপূরক একটি সরকার দেশ পরিচালনা করছে। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং চার লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল তার মর্যাদা এই সরকার শুধু রাখছেই না , দেশকে এক অভূতপূর্ব উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading