উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই

উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই

জাহাঙ্গীর আলম সরকার । বৃহস্পতিবার, ০৭ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:৪৫

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। কারণ যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই দেশের সমৃদ্ধি অনিবার্য বৈকি। বিজয় অর্জনের পর ৫১ বছরের পথচলায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে দেশটি। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যেমন একটি স্বাধীন দেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পেয়েছে, ঠিক তেমনি আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সৃষ্টি হচ্ছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। বিলম্বে হলেও আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫১ বছর উদযাপন করছে। দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের জন্য বাংলাদেশ আজ রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।

এ অভূতপূর্ব অগ্রগতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকগুলো আমাদের তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। উন্নয়নের এ ধারা সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে উন্নয়ন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ফলে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র আয়তনের একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও দেশটির বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতেই উল্লেখ করার মতোই উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে অন্তত কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশেষত শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ মৃত্যুহার-জন্মহার হ্রাস করা, গরিব মানুষদের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম সে সকলের মধ্যে অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে লালন করে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, মেট্রোরেল, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ চলমান রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে অনেকে বিবেচনা করছে। এ দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিবেচনা করছে ‘এশিয়ান টাইগার’ হিসেবে। একসময় দক্ষিণ কোরিয়াকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। এখন সে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তাদের পূর্বাভাসে বলেছে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলার পথে রয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা আমাদের স্বপ্নের দিগন্ত আরও প্রসারিত করেছেন। দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে উচ্চ প্রবৃদ্ধির সোপানে আরোহণ এবং মাথাপিছু আয়ের ধারাবাহিক উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশের কাতারে শামিল হওয়ার জন্য উপযোগী করেছে দেশকে। বর্তমানে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে আরও কয়েক ধাপ এগিয়েছে।

রূপকল্প ২০২১-কে সামনে রেখে যখন ২০০৯ সালে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শেখ হাসিনার অভিযাত্রা হয়, তখন অনেকেই এই স্বপ্নকে বিলাসিতা, আকাশ-কুসুম ভাবনা বললেও আজ প্রকৃত ঘটনা দৃশ্যমান। শুরুর সময়টা বিশ্ব যেমন ছিল মন্দা কবলিত, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশও ছিল মারাত্মক নাজুক বৈকি। কিন্তু শেখ হাসিনার সময়োপযোগী দৃঢ় পদক্ষেপের কারণেই দেশের আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে লক্ষণীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিনিয়তই উন্নয়ন আর অগ্রগতির নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে উন্নয়ন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দুই ধাপ পিছিয়েছে। দেশের এই পিছিয়ে যাওয়াই হচ্ছে বাংলাদেশে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা নিরূপণের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়া। বিশ্বের ১৫৩টি দেশের মধ্যে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ৫০তম।

ডব্লিউইএফ-এর বৈশ্বিক নারী-পুরুষের বৈষম্য প্রতিবেদনে এমন তথ্যই প্রকাশ হয়েছে। গতবারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪৮তম। আমাদের প্রত্যাশা- একদিন ১৫৩তম অবস্থানে গিয়ে বাংলাদেশ হবে নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন একটি আদর্শ দেশ। ওয়াল্ড ইকোনোমিক ফোরাম কর্তৃক প্রকাশিত বৈশ্বিক নারী-পুরুষ বৈষম্য হ্রাসে ভালো পারফরম্যান্স করা ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ। অন্য দেশগুলো হলো- আইসল্যান্ড, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, জার্মানি ও রুয়ান্ডা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ ও সুযোগ; শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন-এই চারটি সূচক দিয়ে কোনো দেশে নারী-পুরুষের বৈষম্য কেমন, তা নির্ধারণ করা হয়। এবারের তালিকায় শীর্ষ স্থানে আছে আইসল্যান্ড। দুই ধাপে পেছানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের ওপরে অবস্থান বাংলাদেশের।

দীর্ঘ সংগ্রাম আর শত বাধা বিঘ্নকে পেছনে ফেলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৃষ্টি করেছে নতুন ইতিহাস। কাজেই আজ আমাদের অঙ্গীকার হোক এমন একটি বাংলাদেশের যেখানে প্রতিটি মানুষের শিক্ষা, অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থান নিশ্চয়তা থাকবে। যে চেতনা ও উদ্দেশ্য নিয়ে একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আপামর জনসাধারণ, তার বাস্তবায়নই আজ আমাদের প্রত্যাশা। আমরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই। বাংলাদেশ নামক দেশটিও জন্মের পর থেকেই নানা সঙ্কট কাটিয়ে সমৃদ্ধির পথে যাত্রা করে এগিয়ে চলেছে। এবারও পিছু হটবে না। একাত্তরে সঙ্কট উত্তরণে নতুন স্বপ্নের নেতৃত্বে ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর বিজয়ের ৫০ বছর পর উন্নত বাংলাদেশের সামনে রয়েছেন তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই এবারও তারুণ্যনির্ভর এই জাতি সব বাধা উপেক্ষা করে ফের আকাশে বিজয় পতাকা ওড়াবে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading