আলবার্ট আইনস্টাইন: মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী

আলবার্ট আইনস্টাইন: মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৪:১৫

আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। তাকে মানব ইতিহাসের সব থেকে বুদ্ধিমান ব্যাক্তি বলা হয়। তিনি এতোটাই মহান ও লোকপ্রিয় ছিলেন যে তিনি যখনি বাইরে বের হতেন মানুষ তাকে রাস্তায় দাঁড় করে তার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করতেন। বিশ্বখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন কিফায়েত সুস্মিত

আলবার্ট আইনস্টাইন কে ছিলেন?
আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী। আলবার্ট আইনস্টাইন মূলত আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের দুটি স্তম্ভের একটি) এবং ভর-শক্তি সমতুল্যতার সূত্র, E = mc2 (যা বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত সমীকরণ হিসেবে খেতাব দেওয়া হয়েছে) আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।

আলবার্ট আইনস্টাইন ভুল করতে কখনো ভয় পেতেন না, তার কথা ছিলো যে ব্যাক্তি কখনও ভুল করেনি সে ব্যাক্তি কখনো নতুন কিছু করার চেষ্টা করেনি। তিনি সবসময় বলতেন যে, আমার মধ্যে এমন বিশেষ কোনো গুন নেই যেটা আপনারা ভাবেন। আমিতো এমন একজন ব্যাক্তি, যার মনের মধ্যে জিজ্ঞাসা ও জানার ইচ্ছায় পরিপূর্ণ।

আইনস্টাইনের জন্ম ও ছোটবেলা
১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দের ১৪ই মার্চ জার্মানীর ব্যাভরিয়া অঞ্চলের ছোট একটি শহর উলমে জন্মগ্রহণ করেন। আলবার্ট আইনস্টাইনের বাবা হার্মান আইনস্টাইনের একটা ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির দোকান ছিলো। মা পলিন কোচ খুব ভালো পিয়ানো বাজাতে পারতেন। আইনস্টাইন মায়ের কাছে বেহালা বাজানো শেখেন। পরবর্তীকালে তিনি যে তিনটি বিষয়ে যথার্থবুৎপত্তি অর্জন করেন যথা অংক, পদার্থবিদ্যা এবং বেহালা বাজানো। তার মধ্যে বেহালা বাজানো শেখার জন্য মায়ের কাছে ঋণী।

সকালটা দেখেই বোঝা যায় সারাটা দিন কেমন যাবে— এই প্রবাদ বাক্যের অযথার্থতা প্রমাণিত হয়ে যায় এই মনীষীর জীবনী পর্যালোচনা করলে। কারণ ছোটবেলা থেকে তিনি পরবর্তীকালে কোনোভাবেই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী হবার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হননি। বরং ছোটবেলায় তিনি হাবাগোবা ধরনের এবং তোতলা ছিলেন। বাবা ছেলেকে নিয়ে হতাশ হলেও মা আশা করতেন ছেলে একদিন অধ্যাপক হবে।

আইনস্টাইনের শিক্ষাজীবন
ছোটবেলা থেকেই আলবার্ট আইনস্টাইন এমন সব বই পড়তেন, যেগুলি পড়লে চিন্তা করতে হয়, চিন্তাশক্তি বাড়ে। মাত্র তেরো বছর বয়সেই তিনি কান্টের দর্শনের বইগুলো সব পড়ে ফেলেন। তবে স্কুলে ভালো ছাত্র হিসাবে তার তেমন সুনাম ছিলো না।

আলবার্ট আইনস্টাইনের কর্মজীবন
১৯০০ সালে তিনি সুইস নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ১৯০১ সালে চাকরি যোগাড় করার আগে তিনি মিলেভা নামে এক সহপাঠিনী মেয়েকে বিয়ে করেন। ১৯০২ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরের পেটেন্ট অফিসে একটা কেরানির চাকরি পান। তিনি বিজ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করার সুযোগ পেলেন।

আলবার্ট আইনস্টাইনের বিবাহ জীবন
১৯১২ সালে আইনস্টাইন সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অধ্যাপক পদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পান। ১৯১৩ সালে বার্লিনের অধ্যাপক হয়ে তিনি সেখানে যেতে চাইলেন, কিন্তু স্ত্রী মেলেভা জুরিখ ছেড়ে যেতে চাইলেন না। তখন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলো। দুই পুত্র সন্তান আলবার্ট এবং এডওয়ার্ডকে জুরিখে রেখে আইনস্টাইন বার্লিনে গেলেন। এরপর ১৯১৭ সালে তিনি তার ফুফাতো বোন এলসাকে বিয়ে করেন। এলসা বিধবা ছিলেন। তিনি ১৯৩৬ সালে আমৃত্যু আপনভোলা স্বামীকে সংসার জীবনে সুখী রাখার আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন।

প্রথম সূত্র আবিষ্কার
তিনি পদার্থ বিদ্যায় তার গবেষণালব্ধ ফলাফল সমৃদ্ধ তিনটি মৌলিক প্রবন্ধ পাঠালেন বার্লিনের একটা বিখ্যাত পত্রিকায়। সেগুলো একে একে পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সারা ইউরোপে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওখানকার অনেক পদার্থ বিজ্ঞানীকেই অনন্য সাধারণ এক তত্ব দিলেন আলোর গতি সম্বন্ধে। তিনি বললেন, আলোর গতি অপরিবর্তনীয় এবং ধ্রুব। প্রতি সেকেন্ডে গতি ১,৮৬,০০০ মাইল। এই তত্ব থেকেই পরবর্তীতে আইনস্টাইন পদার্থের শক্তিতে রূপান্তর সম্পর্কিত তার বিখ্যাত সূত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের একীকরণ তত্ত্ব
অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের সমস্ত ক্রিয়াকলাপ আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বকে নিখুঁত করার দিকে মনোনিবেশ করেছিল। এই তত্ত্বের মূল পোষ্টুলেট ছিল তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নয় বরং এমন একটি ক্ষেত্র যা স্থান-কাল ধারাবাহিকতায় একটি ভর উপস্থিতি দ্বারা তৈরি করা হয়। পরে ১৯১৯ সালে তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি বেড়ে যায়, যার ফলে তিনি বিশ্বজুড়ে তার প্রচার সম্মেলনকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলেন। তৃতীয় শ্রেণির রেলপথের ভ্রমণকারীদের একজন হিসাবে তার চিত্রটিও জনপ্রিয় হয়েছিল। তিনি তার বাহুতে বেহালা মামলা দিয়ে সর্বত্র যাওয়ার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। এবং এটি হল তার একটি শখের বেহালা বাজানো হয়েছিল।

পরের দশকে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের সমস্ত প্রচেষ্টা বৈদ্যুতিন চৌম্বকীয়তা এবং মহাকর্ষীয় আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি গাণিতিক সম্পর্ক সন্ধানের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। আইনস্টাইনের মূল লক্ষ্য ছিল মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তুর আচরণের জন্য প্রাপ্ত সাধারণ আইনগুলি আবিষ্কার করুন। এবং এটিই তিনি ভেবেছিলেন যে এমন কোনও আইন আছে যা সমস্ত বস্তুর আচরণ বলেছিল, সেগুলি পার্থিব পদার্থবিজ্ঞান বা স্বর্গীয় পদার্থবিজ্ঞান হোক। এই সমস্ত আচরণকে একক একীভূত ক্ষেত্র তত্ত্বে ভাগ করতে হয়েছিল।

আলবার্ট আইনস্টাইনের নোবেল পুরস্কার
১৯২১ সালে ফোটনতত্ত্বের ভিত্তিতে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দানের জন্য তাকে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হলো। তিনি শুনতে পেলেন জার্মানী আণবিক বোমা তৈরির গবেষণা চালাচ্ছে। বিশ্ববাসীর শান্তির জন্য তিনি তার বিখ্যাত তত্ত্বের সাহায্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে পারমাণবিক বোমা তৈরির পরামর্শ দিলেন। পরবর্তীকালে জাপানের হিরোশিমা–নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষিপ্ত হলে তার ভয়াবহতা উপলব্ধি করে আইনস্টাইন পাপবোধে আক্রান্ত হন। আজীবন তিনি এই পাপবোধে আত্মগ্লানি ভোগ করে গেছেন।

আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যু
১৯৫৫ সালের ১৮ই এপ্রিল এই বিশ্ববরেণ্য মহা বিজ্ঞানী ৭৬ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading