উন্নত শিল্প সমৃদ্ধ দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর ছিল স্বতন্ত্র ভাবনা
আবুল হাসনাত । বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১২:০০
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বিজয়ীর বেশে ফিরে আসেন স্বাধীন বাংলাদেশে। নিজেকে নিয়োজিত করেন স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে। দেশের জনগণকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু করেন অর্থনৈতিক মুক্তিলাভের সংগ্রাম। শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনা থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য কৃষি ও শিল্প বিল্পবে ঝাঁপিয়ে পরেন। একটি উন্নত শিল্প-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে তার ছিলো একটি স্বতন্ত্র ভাবনা। আর সেই ভাবনা থেকেই শিল্প ও শিল্পায়নের জন্য গ্রহণ করেন নানামুখী পরিকল্পনা। বঙ্গবন্ধুর সেই পরিকল্পনার ফলে দেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নীত হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি, একটি সমৃদ্ধশালী জাতি গঠনে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পায়ন বিকাশে অবদান রেখেছেন। একটি জাতিকে উন্নত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে শিল্প-কারখানার যে বিকল্প নেই তা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তিনি জোর দিয়েছিলেন দেশের সর্বত্র ছোটো-বড়ো শিল্প গড়ে তোলা আর সেই সাথে উদ্যোক্তা তৈরি করা ওপর। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দারিদ্র্য বিমোচনের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যান বঙ্গবন্ধু। শিল্পায়নে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কার, শিল্প বিকাশে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা প্রদানসহ, কৃষির আধুনিকায়নে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে শিল্প বিকাশকে অন্যতম খাত হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনার কারণে আমরা আজ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় আর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের পথে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অগ্রসরমান। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের যে স্বপ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেখিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে বঙ্গবন্ধুর টেকসই শিল্পায়ন ভাবনাকে সামনে এনে এগিয়ে যেতে হবে। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে দলবল নির্বিশেষে সবাই একসাথে কাজ করতে হবে, তৈরি করতে হবে টেকসই শিল্পায়নভিত্তিক অর্থনীতি।
ইউডি/সুস্মিত

