সুন্দর এই পৃথিবীকে বাঁচাতে প্রয়োজন বৃক্ষরোপণ

সুন্দর এই পৃথিবীকে বাঁচাতে প্রয়োজন বৃক্ষরোপণ

তানিশা একরাম । সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৬:২০

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি দেশে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। এক সময়ের সবুজ দেশ বাংলাদেশের বনাঞ্চল অনেক কম। বাংলাদেশে বনভূমির সঠিক পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এর পরিমাণ ১০ শতাংশের নিচে। কোনো কোনো সূত্রের দাবি, বাংলাদেশে এখন বনভূমির পরিমাণ ৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে এবং দ্রুত তা কমছে। বনাঞ্চলের উপকারিতার শেষ নেই। কিন্তু চরম দুর্ভাগ্যের কথা, প্রকৃতি প্রদত্ত অমূল্য এ সম্পদের সংকোচন ঘটেছে দ্রুতহারে। একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গাছপালা শুধু কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে উপকারের পরিসমাপ্তি ঘটায়, তা না। বড় বৃক্ষ বজ্রপাত প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য আজ বজ্রপাতে মানুষ মারা যাচ্ছে।

দেশে বজ্রপাত, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তাই গাছ কাটা ও বনভূমি উজাড় করা ঠিক নয়। বনাঞ্চল না থাকলে প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়ে উঠতো উষ্ণ, পৃথিবী হয়ে উঠতো মরুভূমি এবং মানুষের অস্তিত্ব হতো বিপন্ন। বনাঞ্চলের মাধ্যমে এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে হবে। এ প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সন্তানদেরও এই পরিবেশবাদী কাজ শেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার তাগিদ দিয়েছেন। নতুন প্রকল্প গ্রহণকালে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিকহারে বৃক্ষরোপণের প্রতি সব সময় গুরুত্বারোপ করে এসেছেন। বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যাকে দেশবাসীর অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি নাগরিক যাতে গাছ রোপণ এবং সুরক্ষায় মনোযোগী হয় সে ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। আমাদের বেশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে বন ও পরিবেশ বিভাগকেও দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে। সর্বোপরি বৃক্ষ নিধন প্রতিরোধে সৃষ্টি করতে হবে ব্যাপক জনসচেতনতা।

পরিবেশের দূষণ ও বিপর্যয়সহ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর একটি। উষ্ণায়ন বৃদ্ধির ফলে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে ভুগছে দেশ। ফলে নানাবিধ ক্ষতির সঙ্গে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগও। বাংলাদেশকে ষড়ঋতুর দেশ বলা হলেও এখন তিনটি ঋতু ছাড়া অন্যান্য ঋতু এখন আর দৃশ্যমান ও অনুভূত হয় না! আবার এখন জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে চিরচেনা গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত ঋতুর বিশৃঙ্খল আচরণ প্রকৃতিকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে ভালো উপায় হচ্ছে বেশি বেশি করে গাছ লাগানো।

বিভিন্ন জরিপে দেশে প্রাকৃতিক বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বনের বাইরে অর্থাৎ সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। মানুষের সচেতনতা, কমিউনিটি উদ্যোগ এবং সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির কারণে লোকালয়ে গাছের সংখ্যা বাড়ছে। ‘এসডিজি’তে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ ২২ শতাংশের বেশি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এমন সব প্রশংসনীয় ও সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (এসডিজি) অর্জন সহজ হবে। সরকার থেকে বারবার প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিক হারে বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থলে-বাসস্থানে বনজ, ফলদ ও ভেষজগাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষমেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আঙিনা, ছাদ, সড়কসহ অফিস-আদালতের যেখানে পরিত্যক্ত জায়গা আছে, সেখানেই গাছ লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে। তাপমাত্রা বেড়ে যায়, অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পায়। তাই বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদ অথবা পতিত জমি সবখানেই বৃক্ষরোপণ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, গাছ আমাদের প্রকৃত বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, ছায়া দেয়। আবার ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। তাই আমাদের সুন্দর এই পৃথিবীকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণ খুব প্রয়োজন।

লেখক- সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading