ঈদের ছুটিতে রাজধানীর ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া যানবাহন

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া যানবাহন

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৪ মে ২০২২ । আপডেট ২১:৫৫

চলছে ঈদের ছুটি। রাজধানীর প্রায় এক কোটি মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা ছেড়েছেন। সেই সুবাদে ফাঁকা জ্যামের শহর ঢাকা। যানবাহনের চলাচলও অনেকটা কম। তবে বিকেলের দিকে রাস্তায় মানুষ ও যানবাহন দুটির উপস্থিতিই বেড়ে যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই তখন ঘুরতে বের হন।

এদিকে ঢাকার ফাঁকা সড়কে কতিপয় মোটরসাইকেল চালকদের বেপরোয়া চলাচলে অতিষ্ঠ বিনোদনের উদ্দেশে ঘর বের হওয়া মানুষজন। শুধু যে প্রধান সড়কগুলোতেই, তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন আবাসিক এলাকার অলিগলিতেও কিছু চালকদের বেপরোয়াভাব মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেছে। যার কারণে রাস্তা পারাপার নিয়ে অনেকেই আতংকিত। অনেক সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এছাড়াও ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বেশি গণ-পরিবহনেরগুলোর মধ্যেও দেখা গেছে অসম প্রতিযোগিতা। বুধবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগ, পল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, রামপুরা ও হাতিরঝিল এলাকা ঘুরে এমন সব চিত্র দেখা যায়।

কাঁঠাল বাগান থেকে হাতিরঝিলে স্ত্রীকে নিয়ে বেরাতে এসেছেন মো. শাজাহান। মোটরসাইকেল নিয়ে হাতিরঝিলে উঠছিলেন তিনি। এ সময় বেশ কয়েকজন তরুণদের একটি দল বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে তার পাশ কাটিয়ে যায়। অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান শাজাহান ও তার স্ত্রী।

তিনি বলেন, এফডিসি হয়ে হাতিরঝিল উঠার পরই ১৮-২০ বছরের তরুণদের একটি গ্রুপ বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাতে থাকে। তাদের বেপরোয়া ও বিশৃঙ্খল বাইক চালানোর জন্য বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে যাচ্ছিলাম। এই বেপরোয়া তরুণদের জন্য ঈদের সময় রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হতে ভয় হয়। আর তাদের আটকাতে রাস্তায় কোনো ব্যবস্থাই নেই।

সদরঘাট থেকে উত্তরাগামী আকাশ ও ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের দুইটি বাস বেপরোয়াভাবে চালানোয় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। এদের মধ্যে শিবলি নয়ন নামে এক যাত্রী রামপুরা ব্রিজে আকাশ পরিবহনের বাসটি থেকে নামেন। তিনি বলেন, কাকরাইল থেকে আকাশ পরিবহনের বাসটিতে উঠি। উঠার পরই দেখি বাস দুটির একটি আরেকটির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বেপরোয়াভাবে চালাচ্ছ। রামপুরা আসলে তাদের মধ্যে দুর্ঘটনার রূপ নিতে নিতে বেঁচে যায়। যাত্রীদের কথাও কানে তুলছিলেন না চালকরা। পরে রামপুরা ব্রিজে আমরা কয়েকজন যাত্রী নামার পর এই প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়।

এ বিষয়ে কথা বললে আকাশ পরিবহনের বাসটির হেলপার মো. ইমন মিয়া বলেন, আমাগো কোনো দোষ নাই। ভিক্টর বাসের চালক ফাঁকা রাস্তায়ও সাইট দিতেছিল না। যেন আমরা যাত্রী উঠাতে না পারি। এহন আমাগোও তো যাত্রী উঠান লাগব। ঈদের সময় যদি দুইটা পয়সা আয় না হয় তাহলে কেমনে কী!

এদিকে ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টরা। ফার্মগেট মোড়ে কর্তব্যরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঈদের সময় এই এক সমস্যা, বেপরোয়া গতি। বিশেষ করে তরুণ বয়সী বাইকাররা। মামলা দিয়ে এবং নানাভাবে বুঝিয়ে এদের থামানো যায় না। আর ফাঁকা রাস্তায় সব চেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার এরাই হন।

তিনি বলেন, বাসে যাত্রী উঠানো নিয়ে বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতাও এ সময় বেড়ে যায়। এছাড়া ফাঁকা রাস্তায় উল্টো পথে যান চলাচলের সংখ্যাও বাড়ে।

বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ে ঈদের আগে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেছিলেন, ঈদের ছুটির কারণে রাজধানীতে মানুষ কমে গেছে। প্রায় নীরব হয়ে গেছে ঢাকা শহর। বেপরোয়া গতিতে যানবাহনের চলাচল ঠেকাতে ট্রাফিক বিভাগ চেকপোস্ট স্থাপন ও ব্যারিকেড দিয়েছে।

ইউডি/সিফাত

melongazi

Leave a Reply