কর্মসংস্থান নিশ্চিতে আত্নকর্মসংস্থানই হতে পারে পাথেয়

কর্মসংস্থান নিশ্চিতে আত্নকর্মসংস্থানই হতে পারে পাথেয়

মিজানুর রহমান । শুক্রবার, ৬ মে ২০২২ । আপডেট ১১:২০

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তাদের কর্মক্ষেত্র যেমন শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের মানব সম্পদের শতভাগ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেই একেকটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি মূলত দেশের শিল্পায়ন, ব্যবসায়-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভর করে। বর্তমান আধুনিক বিশ্বের অনুন্নত, স্বল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত যা দিনদিন আরো সীমিত আকার ধারণ করছে। ফলাফল হিসেবে এসব দেশসমূহে বেকারত্ব ও দারিদ্রতার হার গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেকারত্বের হার বাড়তে থাকলে সামাজিক অনাচার-পাপাচার এবং অপরাধ প্রবণতাও বহুগুণে বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর যে অনুপাতে চাকরি প্রত্যাশী গ্র্যাজুয়েটরা বেরিয়ে আসছে তার তুলনায় চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ একেবারেই নগন্য। দেশের শিক্ষিত শ্রেণী লেখাপড়া শেষ করে বসে থাকে একটি ভালো চাকরির প্রত্যাশায়। কিন্তু ভালো মানের ডিগ্রি এবং উপযুক্ত মেধা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পদ না থাকায় অনেকেই পছন্দমত চাকরিতে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়। ফলশ্র“তিতে সময়ের পরিক্রমায় এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহের তাড়নায় এসব মেধাবী শিক্ষিত জনশক্তিকে পেয়ে বসে হতাশা, বিষণ্নতা এবং নানাবিধ দুশ্চিন্তায়। এছাড়াও দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় দেশের অধিকাংশ মানুষই নিুবিত্ত, নিু-মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির। এ শ্রেণির মানুষেরা নানাবিধ প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি মোকাবেলা করে জীবন সংগ্রামে ব্রতী হয়। আর্থিক অস্বচ্ছলতা এসব পরিবারের নিত্যদিনের সঙ্গী। আর এ আর্থিক অস্বচ্ছলতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বানিজ্যের সাথে যুক্ত হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করা হয়ে উঠেনা। এ রকম উদাহরণ অনেক। যা বাংলাদেশের মত একটি দেশে এটি চরম বাস্তবতা।

এ সমস্ত পরিস্থিতির স্বীকার জনগোষ্ঠীর কাছে বেকারত্ব এক ধরনের মহামারি রূপে আবির্ভূত হচ্ছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। এ অবস্থায় আমাদের শিক্ষিত সমাজকে খুঁজতে হবে ভিন্ন পথ, সে ভিন্ন পথ হতে পারে আÍকর্মসংস্থানের মতো পথকে বেছে নেয়া। আÍকর্মসংস্থান বলতে বোঝায় নিজের বিবেক-বুদ্ধি, বিচার-বিশ্লেষণ, মেধা ও প্রায়োগিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিকটবর্তী বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে একান্ত ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের পথ সুগম করা। বর্তমান সময়ে উন্নত বিশ্বের যতগুলো দেশ রয়েছে তারা শিল্পোন্নত দেশ হওয়ার আগ থেকেই আÍকর্মসংস্থানে নিজেদের দক্ষতার যথার্থ পরিচয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে নজির সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাম্প্রতিক সময়েও এসমস্ত দেশে আÍকর্মসংস্থান অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পেশা হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। আর তাই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে অনুসরণের মাধ্যমে দেশের মানব সম্পদের যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আÍকর্মসংস্থানই হতে পারে একমাত্র পথ।

আÍকর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষ তার নিজস্ব কাজের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিজের সিদ্ধান্তে অর্থ উপার্জনে আÍনিয়োগ করতে পারে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বের পরিচিত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ উন্নয়নশীল দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে আমাদের সবাইকে আগাতে হবে সমান তালে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে চাকরি না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হলে চলবে না। আমাদের দারিদ্রতা ও বেকারত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। সেক্ষেত্রে আÍকর্মসংস্থানই হতে পারে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রধান হাতিয়ার। বাংলাদেশে আর্থিকভাবে কিছু নিুশ্রেণির মানুষ রয়েছে যারা চাকরির মাধ্যমে ভাগ্য ফেরাতে চেয়ে ব্যর্থ হয়, তাদের কাছে আÍকর্মসংস্থান একটি অমিয় সম্ভাবনার হাতছানি। আÍকর্মসংস্থান মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সমাজের ধনী-গরিবের বৈষম্য ঘোচাতে পালন করতে পারে সহায়ক ভূমিকা। আর তাই আÍকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরিকে সহজতর করতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা সবার জন্য অবারিত করে দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, কৃষি অধিদপ্তর, পশুসম্পদ অধিদপ্তর, এন.জি.ও, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সংস্থাসহ আরো নানা প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে পুঁজি বিনিয়োগসহ প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যক্তি উদ্যোগে বেসরকারিভাবে কিছু ক্ষেত্র তৈরি হলেও সেগুলো বৃহত্তর পরিসরে সামান্যই ভূমিকা রাখতে পারবে। কিন্তু সমাজের কর্মক্ষম বৃহত্তর শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে যেহেতু রাষ্ট্রের চাকরিতে প্রবেশ করানোর সুযোগ একেবারেই নেই, সেহেতু আÍকর্মসংস্থানের মতো সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পথ সুগম করে তাদেরকে কাজের আওতায় নিয়ে এসে দেশের জাতীয় অর্থনীতির পথকে গতিশীল করাই আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। এর ফলে বদলে যাবে হতাশাগ্রস্ত শিক্ষিত বেকারদের জীবন, তৈরি হবে উদ্যোক্তা তৈরির কারখানা। আÍকর্মসংস্থান এর মাধ্যমে একজন মানুষ শুধু একা নয়, বরং নিজের পাশাপাশি আরো অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজ তথা রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আসুন সকলে মিলে দেশকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে সহযোগী হিসেবে কাজ করি।

লেখক: শিক্ষার্থী

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading