মানব উন্নয়নই ছিল বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক দর্শন
মইনুল ইসলাম । মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২ । আপডেট ১০:৫৫
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরুর লগ্নে বাংলাদেশ ছিল একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদ। সাড়ে সাত কোটি জনগণের এক কোটি তখন ফিরে আসছিল ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে। তাদের ঘরবাড়ী ছিল বিধ্বস্ত, লুন্ঠিত কিংবা পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর বাহিনীর অগ্নি-সন্ত্রাসে পুড়ে ছারখার হওয়া ধ্বংসস্তুপ। দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানো আরো দুই-আড়াই কোটি মানুষও তাদের ঘরবাড়ী পুনর্র্নিমাণে এবং সংসার গুছিয়ে তোলার সংগ্রামে ছিল জেরবার। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশ লাখ মানুষের পরিবারের যাঁরা বেঁচেছিলেন তাঁরাও ছিলেন অর্থনৈতিকভাবে সর্বস্বান্ত এবং শোকে পাগলপ্রায়।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসার আগেই প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সরকার এই ভয়াবহ সংকট মোকাবেলার কঠিন সংগ্রামে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্র্নিমাণের পরিকল্পিত সংগ্রাম শুরু করার জন্য বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণের পর সম্প্রসারিত মন্ত্রীসভা গঠন করে বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের দায়িত্বটি কাঁধে তুলে নেন, ঐ মন্ত্রীসভার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্বটি অর্পণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধের কান্ডারি তাজউদ্দিন আহমদের ওপর। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন তাঁরই উদ্ভাবিত স্বদেশজাত উন্নয়ন দর্শনের ওপর ভিত্তি করে এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে, যে দেশ হবে সোনার বাংলা; যে বাংলাদেশে মানব-মুক্তি নিশ্চিত হবে; যে বাংলাদেশে নিশ্চিত হবে মানুষের সুযোগের সমতা; যে বাংলাদেশ হবে সুস্থ-সবল-জ্ঞান-চেতনাসমৃদ্ধ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষের দেশ।
বঙ্গবন্ধু মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে নিয়েছিলেন বহুমুখী পরিকল্পনা, দিয়েছিলেন অর্থনীতির নতুন ফর্মুলা। তাঁরই উদ্ভাবিত উন্নয়ন দর্শন বাস্তবে রূপ দিতে অন্যতম মৌল-উপাদান হিসেবে সমবায়ের অন্তর্নিহিত শক্তি পুরোমাত্রায় ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন গ্রামীণ সমাজে সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের প্রতিটি গ্রামে গণমুখী সমবায় সমিতি গঠন করা হবে, যেখানে গরিব মানুষ যৌথভাবে উৎপাদন যন্ত্রের মালিক হবেন; যেখানে সমবায়ের সংহত শক্তি গরিব মানুষকে জোতদার-ধনী কৃষকের শোষণ থেকে মুক্তি দেবে; যেখানে মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীরা গরিবের শ্রমের ফসল আর লুট করতে পারবে না; যেখানে শোষণ ও কোটারি স্বার্থ চিরতরে উচ্ছেদ হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক চিন্তা, পরিকল্পনা, কর্মসূচি, কৌশল, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, প্রয়োগে অন্তরায়, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে উপযোগিতা।
ইউডি/সুস্মিত

