পুঁজিবাজার রক্ষা করুন : বিনিয়োগকারীদের বাঁচান
শেখফারুক । বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ । আপডেট ১৩:২৫
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন সামগ্রিকভাবে এগিয়ে চলেছে সেই সময় পুঁজিবাজার তথা শেয়ারবাজারে চলছে এক ভয়াবহ সংকট। কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অব্যাহত দরপতনের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্রমান্বয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারী ও জনসাধারণ ধীরে ধীরে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। অধিকাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী সর্বশান্ত হওয়ার পথে। আমার দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হচ্ছে, প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে বেড়ে গুটি কয়েক “বিগ ফিশ” ও “নাটের গুরু”দের বহুমুখী ষড়যন্ত্র। মূলতঃ তাদের কারণে পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনে এখন গভীর সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে রয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষপাতদুষ্ট ভুমিকা, দেশের ও বাইরের বিভিন্ন ঘটনা ও বাস্তবতা। নাটের গুরুদের সঙ্গে আরও রয়েছে সুদের কারবারী “কাবুলিওয়ালাদের” ফোর্স-সেল নামক ভয়াবহ মারণাস্ত্র যেটা দিয়ে প্রতিদিন হত্যা করছে (বিনিয়গকারীদের) অর্থ-সম্পদ। পর্দার আড়ালের রাজনৈতিক ইন্ধনের আলামত পাওয়া যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সাফল্যকে ম্লান করার অপচেষ্টা চলছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে এক একেক জন বিনিয়োগকারী যেন মহাপাপ করেছেন, বিনিয়োগকৃত অর্থ হারিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে। অব্যাহত দরপতনের পুঁজিবাজারে তীব্র সংকট “তৈরী করে” বিনিয়োগকারীদেরকে সর্বশান্ত করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে ও পর্দার আড়ালে থেকে “কুশিলব”রা নানামুখী ষড়যন্ত্র করে কৃত্রিম ভাবে সংকট সৃষ্টি করে “ষড়যন্ত্রকারীরা” সংকটকে আরও দীর্ঘ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। “কৃত্রিম ভাবে সৃষ্ট” এই সংকটের কালো ছায়া পুঁজিবাজার থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকে ধাবিত হতে পারে। অতি দ্রুততার সঙ্গে সংকটের সমাধান ও বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে, এমন আশংকা উঁকি দিচ্ছে।
আমার বিশ্বাস, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সংকট থেকে পরিত্রাণ করে একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-ই পারেন পুঁজিবাজার তথা শেয়ার মার্কেটকে রক্ষা করতে ও বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে। প্রধানমন্ত্রী সঠিক ও সময়োচিত পদক্ষেপ ব্যতিত এই মুহুর্তে পুঁজিবাজার রক্ষা হবে না। এ কথা সর্বজনবিদিত যে, মানুষের কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে তিনি সবসময় নিবেদিত প্রাণ। রাষ্ট্রের অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মতো পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নতির জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর মহতি উদ্যোগ ও দায়িত্ববোধের জন্য তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
পুঁজিবাজার রক্ষা করার ও বিনিয়োগকারীদের বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সকল সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি বিশেষভাবে একটি অনুরোধ করছি, অবিলম্বে স্থায়ীভাবে “ডায়নামিক ফ্লো-প্রাইস” বা “পরিবর্তনশীল/গতিশীল ফ্লোর-প্রাইস” প্রথা/নিয়ম চালু করুন। এই মুহুর্তে দ্রুততার সঙ্গে দরকার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন-দর “ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইস” (Dynamic Floor Price) ভিত্তিতে নির্ধারণ করে স্থায়ীভাবে চালু করা। এটার কোন বিকল্প আছে বলে আমার জানা নেই।
এখানে উল্লেখ্য যে, বিগত ২০২০ সালে দরপতনে জর্জরিত পুঁজিবাজার রক্ষা করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নির্দেশনায় বিএসইসি’র উদ্যোগে “ফ্লোর-প্রাইস” চালু করা হয়েছিল যেটা পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত (প্রায় ১৫ মাস) বহাল ছিল। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ওই ফ্লোর-প্রাইসের মাধ্যমে সেই সময়ে ধ্বংসের কবল থেকে পুঁজিবাজার দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাড়িয়েছিল, নিঃস্ব হওয়ার হাত থেকে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীরা রক্ষা পেয়েছিল। কিন্তু ১৫ মাস পরে বিএসইসি হঠাত ফ্লোর-প্রাইস প্রত্যাহার করে নেয়। সম্ভবতঃ ওই প্রত্যাহারের মধ্যেই পুঁজিবাজারের বর্তমান পতনের বীজ লুকিয়ে ছিল।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত পূর্বের ফ্লোর-প্রাইসের প্রতি সম্মান রেখে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর-প্রাইস নির্ধারণের জন্য আমি নতুন ধরনের একটি ফ্লোর-প্রাইসের প্রস্তাব করছি যেটা হবে স্থায়ী ও পরিবর্তনশীল/গতিশীল। প্রতিদিন-ই আপডেট হবে। পুঁজিবাজার সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা ও নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা থেকে আমি নতুন ধরনের “ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইস” ধারনাটি সকলের সুবিবেচনার জন্য পেশ করছি।
প্রস্তাবিত ধারনার শিরোনাম: ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইস (Dynamic Floor Price) বা পরিবর্তনশীল/গতিশীল সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ।
রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
প্রযোজ্য ক্ষেত্র: বাংলাদেশের সকল (ডিএসই ও সিএসই) শেয়ার মার্কেট/এক্সচেঞ্জ।
ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইসের ভিত্তি: সর্বশেষ দিনের লেন-দেন (Last Trading Day)-এর সমাপনী-মূল্য সহ ০১ বছরের সমাপনী-মূল্যের (Closed Price)র গড় মূল্য (Average Price) হবে সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর-প্রাইস।
লেনদেন শেষে প্রতিদিন-ই ফ্লোর-প্রাইস আপডেট হয়ে নতুন করে নির্ধারিত হবে। এই ফ্লোর-প্রাইসের মাধ্যমে একদিকে বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে শেয়ার বাজারের গতিশীলতা ও প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ডাটা ধরণ (Data Mode)
** এই ফ্লোর প্রাইস স্থির (Static) হবে না। এটা হবে গতিশীল (Dynamic) ও ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তনশীল (Continiously Changeable) যেটা প্রতিদিন-ই পুনঃনির্ধারিত হবে।
** প্রতিদিনের বাজার-মূল্যের উঠা-নামা সাথে সাথে ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইস (Dynamic Floor Price) উঠা-নামা করবে ও প্রতিদিন-ই পরিবর্তিত হয়ে নতুন সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস নির্ধারিত হবে।
প্রক্রিয়া:
** চলমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা নির্ধারিত হবে।
** প্রতিদিনের ক্লোজড-প্রাইস যুক্ত হয়ে সর্বশেষ ০১ (এক) বছরের সমাপনী-মূল্যের গড় পরিবর্তিত হয়ে প্রতিদিন-ই নতুন ফ্লোর প্রাইস নির্ধারিত হবে। সেটাকে সর্দনিম্ন দর বিবেচনা করে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হবে।
ট্রেডিং বা ক্রয়-বিক্রয়ের সীমা:
** সাধারণ বা পাবলিক মার্কেটে কোনভাবেই ফ্লোর-প্রাইসের নীচে কোন শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।
** পাবলিক মার্কেটে ফ্লোর-প্রাইসের উপরে পূর্ববর্তী দিনের সমাপনী-মূল্যের +/- ১০% হারে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হবে।
** ব্লাক ট্রেডিং বা ব্লক মার্কেটে ফ্লোর প্রাইসের ১০% নীচে ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ থাকবে। মেয়াদ কাল স্থায়ীভাবে চলমান থাকবে।
আমার প্রস্তাবিত এই ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইস ধারনাটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের। আমার জানা মতে বিশ্বে এটার কোন নজির নেই। আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে বিশ্বে অনুকরণীয় ও অনুসরনীয় হয়ে উঠতে পারে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সু-রক্ষার্থে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত (ও ভবিষ্যতে অন্তর্ভূক্ত হবে) সকল কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের বাজার-দর ”ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইস” ভিত্তিতে সর্বনিম্ন-মূল্য নির্ধারণ করে স্থায়ীভাবে চালু জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট সবিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।

এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের বাঁচানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহসী ও সময়োপযোগী ভূমিকার বিকল্প নেই। এই সংকটকালে দ্রুততার সাথে তিনি-ই পারেন ধ্বংসের কবল থেকে শেয়ার মার্কেটকে রক্ষা করতে, তিনি-ই পারেন বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে। পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত (ও ভবিষ্যতে অন্তর্ভূক্ত হবে) সকল কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের বাজার-দর ”ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইস” ভিত্তিতে অবিলম্বে স্থায়ীভাবে চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ করছি।
আমি মনে করি, এই ”ডায়নামিক ফ্লোর-প্রাইস” প্রথা/নিয়ম স্থায়ীভাবে চালু হলে পুঁজিবাজার দৃঢ় ও শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করবে য্রা ধারাবাহিক ভাবে ভবিষ্যতেও বহাল ও চলমান থাকবে, ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজয় হবে। যার ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আরও উন্নত ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লাহ।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
ইউডি/সুপ্ত

