তরুণ সমাজকে গ্রাস করছে পর্নোগ্রাফির ভয়ঙ্কর ছোবল
আয়েশা সিদ্দিকা । বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ । আপডেট ১৩:৩০
পর্ন বা পর্নোগ্রাফি শব্দটা শুনলেই একটা সময় তরুণরা আড়ষ্ট হয়ে যেত। সেইসাথে লজ্জাও পেত। কিন্তু এখন পর্নোগ্রাফি যেন তেমন কিছু নয়। আগেরকার সেই আড়ষ্টতা নেই। নেই সহজাত সেই লজ্জাও। এখন বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা পর্নোগ্রাফি ছবি, ভিডিও, অডিও এবং টেক্সট আকারে ব্যবহার করে। এই শিক্ষার্থীরা প্রধানত মোবাইল ফোনে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখে। এর বাইরে ট্যাব, ল্যাপটপেও তারা দেখে। আবার পেনড্রাইভ ব্যবহার করে বিনিময়ও করে।। ইদানিং পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তের সংখ্যা ভয়াবহ আকারে বেড়ে যাচ্ছে। ছোটো ছোটো বাচ্চা থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্কদের মাঝেও আসক্তির মাত্রা প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। সম্পর্কগুলো দিন দিন বেশ জটিলতার দিকে এগোচ্ছে। কখনো কখনো তা সম্পর্কচ্ছেদের করুণ পরিণতিতে গিয়ে শেষ হয়। যৌনতা প্রাণীজগতে খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু সমস্যাটা তখনই হয়, যখন তা পর্নোগ্রাফির মতো একটি বিষয়ে আসক্তির পর্যায়ে চলে যায়।
নৈতিক শিক্ষার অভাব আগে পরিবারেও ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা ছিল। শাসন ছিল। কিন্তু এখন আর আগের মতো নেই। সবকিছুই যেন উঠে যাচ্ছে। নৈতিক শিক্ষা আর এতে করেই তরুণদের পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি বাড়ছে বলে জানা যায়। বিনোদনের অভাব বর্তমান সময়ে বিনোদনের অনেক মাধ্যম তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেইসাথে হারিয়ে গেছে সুস্থ বিনোদন। আর এতে করেই তরুণদের মধ্যে এই ধরণের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সামাজিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে একটা সময় খেলাধুলার জন্য মাঠ ছিল। তরুণদের খেলাধুলার পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। কিন্তু এখন আর মাঠ চোখে পড়ে না। এতে করে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগে পরিবারের সবাই মিলে টেলিভিশন দেখার একটা বিষয় ছিল। কিন্তু সুস্থ বিনোদন দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, শুধু তরুণরা নয় সব বয়সের মানুষই পর্নোগ্রাফি দেখে। আর পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এর ব্যবহারকারী বা গ্রাহক বাড়িয়ে দিচ্ছে। পর্ণোগ্রাফির সরবরাহ বন্ধ না করলে এর ব্যবহার কমানো কঠিন বলে মনে করেন অনেকে। তারা বলেন, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন এবং ব্যবহার দুটোই নিষিদ্ধ করা দরকার। পর্নোগ্রাফিতে যারা আসক্ত হয়ে পড়েন, তারা বিকৃত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। এটা নিজেদের ক্ষতির দিক হলেও শিকার হন নারী ও শিশুরা। অনেকেই পর্নোগ্রাফির সহজলভ্য প্রাপ্তিকে তরুণদের আসক্তির বড় কারণ হিসেবে দেখছে।
তথ্য ও প্রযুক্তির এই যুগে আমরা প্রতিনিয়ত সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মধ্যে বাস করি। বাঙালি সংস্কৃতি এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। আমাদের গণমাধ্যমগুলোও প্রতি নিয়ত আধুনিকতার নামে ভিন্ন সংস্কৃতির চর্চা করছে। ফলে অনেক সময় তারা এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে পারছে না। অসুস্থ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন তরুণদের পর্নোগ্রাফিতে আসক্তির অনেক বড় কারণ। যে কোন দেশের জন্যই সুস্থ সংস্কৃতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এক্ষেত্রে অনেক বড় একটি বাধা। এছাড়া অজানা কৌতূহলও একটা বড় কারণ। অজানা জিনিসের প্রতি শিশুদের কৌতূহল নতুন নয়। আমরা মানুষেরা সব সময় অজানাকে জানার জন্য ছুটছি। প্রতিনিয়ত ছুটছি। তরুণরাও বয়সের কারণে একটা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে যায়। ফলে পর্নোগ্রাফির প্রতি তাদের একটি অজানা আকর্ষণ কাজ করে। ফলে একসময় এতে আসক্তি হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইদানিং পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তের সংখ্যা খুব ভয়াবহ আকারে বেড়ে যাচ্ছে। ছোটো ছোটো বাচ্চা থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্কদের মাঝেও আসক্তির মাত্রা প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। সম্পর্কগুলো দিন দিন বেশ জটিলতার দিকে এগোচ্ছে। কখনো কখনো তা সম্পর্কচ্ছেদের করুণ পরিণতিতে গিয়ে শেষ হয়। ভয়াবহ পর্ণ আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজেকে নিজের প্রতি সৎ থাকতে হবে। প্রথমেই আপনার সংগ্রহে থাকা পর্ণ ভিডিওগুলো ডিলিট করুন। কারণ এ ব্যাপারে আসক্তদের সংগ্রহশালা বেশ উন্নত এবং পরিবর্ধনশীলনিয়মিত যেসব সাইটে ভিজিট করে আপনি আসক্ত হয়েছেন সেসব সাইট ব্লক করুন। আপনার পরিবারের সদস্যদের পর্ণ জগতের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রাখতে হলে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিংবা আপনি চাইলে বাচ্চার কম্পিউটার টেবিল বাসার এমন জায়গায় সেট করতে পারেন যেখান থেকে তার মনিটর দেখা যায়। এতে আপনার সন্তান কিছুটা হলেও এর থেকে রক্ষা পাবে।
লেখক- অনলাইন বিশ্লেষক।
ইউডি/সুস্মিত

