দেশের কৃষকদের সহযোগিতায় ঋণ সহায়তা প্রশংসনীয় উদ্যোগ
জয়দেব ভট্টাচার্য । সোমবার, ০৬ জুন ২০২২ । আপডেট ১৩:১০
উৎপাদনশীল ও আয়বর্ধক কার্যক্রমে কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে দেশের ১ লাখ ১৮ হাজার ক্ষুদ্র কৃষককে ঋণ দেবে সরকার। এ ঋণের সুদহার হবে ১১ শতাংশ। তবে সুফলভোগীদের তহবিলে ১ শতাংশ যুক্ত হবে। প্রকল্পের আওতায় কিছু বৃহৎ ঋণও দেওয়া হবে। ফলে প্রকল্প অনুমোদনের পর ঋণের আওতায় আসবে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার কৃষক। আড়াই থেকে ৫ শতাংশ জমি থাকলেই কোনো ব্যক্তিকে ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে বিবেচনা করে এ ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হবে। ঋণ দেওয়ার দুই মাস পর থেকে নেওয়া হবে সুদ। প্রথম ধাপে ক্ষুদ্রঋণের ভলিউম হবে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় কিছু কৃষক বা বর্গা নেওয়া খামারিদের দেওয়া হবে বড় ঋণ। এর ভলিউম দেড় লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত হবে। ‘রূপকল্প-২০৪১: দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র সঞ্চয় যোজন’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (এসএফডিএফ)। প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ১৪৯ কোটি টাকা। দেশের কৃষকদের সহযোগিতায় সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো। ওই অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী খাতে ব্যাংকগুলোর ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ দেয়া হয় ২৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারো বাড়তে থাকায় গত এপ্রিলে কৃষি খাতের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত চার হাজার ২৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর কৃষি খাতের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদে প্রণোদনার ঋণ চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাকালে সরকার কৃষির ওপর বেশ গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ করোনা মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কর্মহীন হয়ে পড়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এরপর এসেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। বাংলাদেশ যেহেতু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সেহেতু আমরা আশাবাদী হতে পারি। তা ছাড়া এবার দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যদি কারসাজি না করে তা হলে দেশ খাদ্য সংকটে পড়বে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের যে সব কৃষক বিপদে পড়েছে তাদের কথা চিন্তা করেই সরকার এই বিশেষ ঋণ সহায়তা দিয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় কৃষকের জন্য আলাদা ‘কৃষি বাজার’ প্রতিষ্ঠা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে হিমাগার ও খাদ্যগুদাম নির্মাণের ব্যাপারেও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান নগরবাসীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি নগরে নগরীয় কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও নজর দিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে শস্যবিমা চালুর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারের গবাদিপশু বিমা চালু করারও পরিকল্পনা আছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের কৃষিযন্ত্রে স্থানীয় ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া এবং ফসল মাড়াই যন্ত্রের কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার প্রতি বছর কৃষি খাতে সার, সেচ ও বিদ্যুতে ভুর্তকি, নগদ সহায়তা ও প্রণোদনা হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। ব্যয়িত অর্থের সিংহভাগই খরচ হয় প্রভাবশালী ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বড় কৃষকদের পেছনে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সব সময় সরকারের এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। থাকেন উপেক্ষিত। দেখা গেছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাই পারিবারিক শ্রম ও নিজস্ব মেধা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কৃষিকে। এসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনার সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগই কেবল পারে কৃষকস্বার্থ সংরক্ষণ করতে।
ইউডি/সুস্মিত

