বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার সাহসী বাজেট
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১০ জুন ২০২২ । আপডেট ১১:১৫
মহামারীর পর যুদ্ধের বাস্তবতায় দাঁড়িয়েও উন্নয়নের হারানো গতিতে ফেরার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) চেয়ে ১৪.২৪ শতাংশ বেশি। টাকার ওই অংক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৫.২৩ শতাংশের সমান। বিস্তারিত লিখেছেন আসাদুজ্জামান সুপ্ত
২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট দিতে গিয়ে জীবন ও জীবিকার কঠিন সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করতে হয়েছিল অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালকে। এবার নতুন সংকট রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির নাজুক অবস্থান। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেট বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। করোনা মহামারির ধাক্কা বেশ ভালোভাবেই সামাল দিতে পারায় অর্থমন্ত্রী এবার সরকারের উন্নয়ন দর্শনে মনোযোগ ফেরাতে চান। তার এবারের বাজেটের শিরোনাম ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
ব্যাপক কর্মসৃজন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই মূল চ্যালেঞ্জ: বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি এবং দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্ব। সংগত কারণেই কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন যুদ্ধ উদ্ভূত অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলা করে দেশের সর্বস্তরের জনগণের জীবন-জীবিকা এবং সর্বোপরি ব্যাপক কর্মসৃজন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখা এবারের বাজেটে প্রাধান্য পাবে। বিগত দুই অর্থবছরে আমরা যেভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে করোনা মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতিকে মূল গতিধারায় ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলাম, অনুরূপভাবে আগামী অর্থবছরেও ইউক্রেন সংকট উদ্ভূত বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখব।
৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব: ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেটে এবার উন্নয়ন ব্যয় ১৭ শতাংশ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। এরই মধ্যে এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে। এবার পরিচালন ব্যয় (ঋণ, অগ্রিম ও দেনা পরিশোধ, খাদ্য হিসাব ও কাঠামোগত সমন্বয় বাদে) ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ১২.২১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা যাবে সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধে, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ। অনুন্নয়ন ব্যয়ের আরও প্রায় ১৮ শতাংশের বেশি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় হয়ে, যার পরিমাণ অন্তত ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা: বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস হতে বাজেট ঘাটতি পূরণ করা হবে। ঘাটতি পূরণের একটি রূপরেখাও দিয়েছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।
তিনি জানান, ঘাটতি অর্থায়নের উৎস হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক উৎস (অনুদানসহ) থেকে ৯৮ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস হতে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা হতে সংগৃহীত হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। তবে সংশোধিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা: আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। আর এই খাতে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এনবিআর থেকে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার কোটি টাকা। আর কর ছাড়া মোট প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এসব মিলিয়ে মোট চার লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই খাতে পরিচালন আবর্তক ব্যয় বাবদ তিন লাখ ৭৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা, উন্নয়ন ব্যয় বাবদ দুই লাখ ৫৯ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা (তার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাবদ দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা) ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৪৫ হাজার ২০৫ কোটি টাকার রাজস্ব ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এসব মিলিয়ে মোট ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে তিন লাখ ২৮ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে চার লাখ ৬০ হাজার ১৬০ কোটি টাকা রাজস্ব ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
এ হিসেবে ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৪ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হলো। আর ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮৪ হাজার ৫৬৪ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ৫.৬ শতাংশ: ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে অসঙ্গতি রোধের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মূলত বহিঃস্থ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ কারণে সম্প্রতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির বৈশ্বিক কারণমূহের মধ্যে রয়েছে, বাণিজ্য সহযোগীদের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, টাকার অবচিতি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ- যে বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালের গড় মূল্যস্ফীতি যথাক্রমে ৭.৬৮ এবং ৭.৪১ শতাংশ হবে মর্মে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ: এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, করোনা অতিমারির কারণে শুধুমাত্র ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। নতুন ভিত্তিবছর অনুসারে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে ৩.৪৫ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অতি দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করতে পেরেছিলাম। ফলে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কোভিড-১৯-এর প্রভাব অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ অব্যাহত থাকলেও অর্থনীতির উপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়।

কোন খাতে কত বরাদ্দ: প্রস্তাবিত বাজেটে জানা গেছে মোট ৬২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের আওতায় এ ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয় এক লাখ ৯০ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪০ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় পাচ্ছে ৩১ কোটি টাকা, জাতীয় সংসদের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩৪১ কোটি টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাচ্ছে পাঁচ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ১৩৭ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট পাচ্ছে ২৩০ কোটি টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাদ্দ এক হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চার হাজার ৭৪ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পাচ্ছে ১২৩ কোটি টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাচ্ছে ৫৪৫ কোটি টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এক হাজার ৬৫১ কোটি টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৪০ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ পাচ্ছে ৪৫ কোটি টাকা, আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ এক হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩১ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বরাদ্দ ৩৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১৬ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ ২৯ হাজার ২৮২ কোটি টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য এক হাজার ৯১৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইউডি/সুস্মিত

