বঙ্গবন্ধুর মতো কীর্তিমানের কখনো মৃত্য হয় না
রোমান কবির মৃধা । শনিবার, ১১ জুন ২০২২ । আপডেট ১৩:৫০
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারি। তার ডাকে পাকিস্তানের শোষক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্তি পেতে জাতি র্ধম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। মূলত বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। বাঙালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুকে জীবনের অধিকাংশ সময় কারাভোগ করতে হয়েছে। দেশ স্বাধীন হলেও এ দেশের মানুষের আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্পদায়িক, শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক ও পরিপূর্ণ বাঙালি ছিলেন। বঙ্গবন্ধু একটি বিশ্বাস, একটি আদর্শ, একটি দর্শন। বঙ্গবন্ধুর মতো কীর্তিমানের কখনো মৃত্য হয় না। তিনি মৃত্যঞ্জয়ী। বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা। তিনি কখনোই পরাভব মানেননি। মানুষ হিসেবে সীমিত পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক, আর একজন পরিপূর্ণ বাঙালি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানোর দৃপ্ত প্রত্যয় ও দৃঢ়চেতা মানসিকতায় সিঞ্চিত ছিল বঙ্গবন্ধুর অভিজ্ঞতালব্ধ জীবন। তিনি কখনো ক্ষমতায় আকৃষ্ট ছিলেন না। বঙ্গবন্ধু গেরিলা আন্দোলন করতেন না, বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিলেন না। মানুষকে তিনি গেরিলা আন্দোলনের জন্য, নকশালপন্থী আন্দোলন করার জন্য প্রস্তুত করেন নাই। তিনি চেয়েছিলেন মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা উজ্জীবিত করে একটা স্বাধীন রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা করার জন্য। এই ধারাবাহিক রাজনীতির অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা পেশ করেন। তার ছয় দফা দাবির মধ্যেই মূলত এদেশের স্বাধীনতা অন্তর্নিহিত ছিল। মাওলানা ভাসানী পরে বলেছিলেন ওই ছয় দফার মধ্যেই তো এক দফা নিহিত আছে। এভাবেই বঙ্গবন্ধু নিজের প্র্যাগমেটিক লিডারশিপের পরিচয় দিয়েছেন।
বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একইভাবে প্রজ্জ্বলিত হবেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে, প্রতিটি মুক্তিকামী, শান্তিকামী, মানবতাবাদীর হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে- পথ দেখাবে। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের কালজয়ী এ মহাপুরুষকে চিরকাল স্মরণ করবে। নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর সত্তা ও আদর্শের শিক্ষা দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করে আমাদের অস্তিত্বের শেকড়ে ফিরে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মতিথিতে তাই মানুষের কল্যাণে আত্মোৎসর্গের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। এ প্রতিজ্ঞায় বহির্বিশ্বে বাঙালির স্বতন্ত্র সত্তার পরিচয় তুলে ধরতে হবে।
ইউডি/সুস্মিত

