আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা প্রচলনে উন্নত হবে বাংলাদেশ

আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা প্রচলনে উন্নত হবে বাংলাদেশ
কৃষি_উত্তরদক্ষিণ

সুপ্রিয়া দেবনাথ । বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ । আপডেট ১০:২০

কৃষি বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। হাজার বছরের অবহেলিত ও শোষিত এ বাংলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এখনও কৃষির কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় খাতও এই কৃষি। কৃষি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি প্রদানের উপকরণ। দেশের অর্থনীতি বহুলাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিবিএস প্রতিবেদন-২০২০ অনুযায়ী দেশের শ্রমশক্তির ৪০.৬ শতাংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৩.৩১ শতাংশ। কৃষির উন্নতি মানে দেশের উন্নতি। কৃষি আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বর্তমানে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, জনসংখ্যা বাড়ছে, সেজন্য কৃষির উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কৃষির উন্নয়নে নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার, গুণগত মানসম্পন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন, সারের মূল্য হ্রাস, সুষম সার প্রয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বেসরকারি কোম্পানিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বেসরকারি খাতে দেশে মানসম্পন্ন সবজি বীজ উৎপাদন করে বীজের জোগান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শত প্রতিকূলতা সত্যেও বাংলাদেশের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের কৃষকরা। কৃষিবিদরা যথাসম্ভব তাদের সহায়তা করছেন। আর এই কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। যদিও ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে উপরে বর্ণিত বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এসব পদক্ষেপে শতকরা প্রায় ৮৪ ভাগ ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক কীভাবে লাভবান হবে সেটিই দেখবার বিষয়। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতায় সরকারের নানা পদক্ষেপ দরিদ্র কৃষকের পক্ষে খুব বেশি কাজে আসেনি। সেই বিবেচনায় বাজেট প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বেসরকারি অলাভজনক উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ আরও গতিশীল করা দরকার। এ ছাড়া এনজিওর মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এলাকা উপযোগী ফসলের জাত উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ, সেচ অবকাঠামো নির্মাণের দ্বারা সেচের আওতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি মৎস্য গবেষণার মাধ্যমে দেশে মাছের নতুন জাত উদ্ভাবন, এসব জাতের পোনা ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যাবে। তা ছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগি পালনের নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জনগণকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎপাদিত কৃষি উন্নয়নের নতুন নতুন পদ্ধতি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কৃষির উন্নয়ন করা সম্ভব। পতিত জমি কাজে লাগানো, এক জমিতে বছরে চার ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে পারলে কৃষি সমৃদ্ধি হবে।

আমরা জানি কৃষিতে নানা সমস্যা আছে, যার সমাধানও রয়েছে। আমরা এখনও কৃষিতে অনেক দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছি। আমাদের চাল উৎপাদন যথেষ্ট, যা ধরে রাখতে হবে। এখন চাল রপ্তানি হচ্ছে। তাপমাত্রা সহিষুষ্ণ গমের জাত উদ্ভাবনের ফলে গমের আবাদ বৃদ্ধি হচ্ছে। সারা বছরব্যাপী ফল উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কলা, পেঁপে, থাই পেয়ারা, আপেল কুল চাষ বেড়েছে। আংশিক বৃষ্টি নির্ভর আউশ ও পুরো বৃষ্টি নির্ভর রোপা আমন চাষে সরকার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কৃষি খামার স্থাপন, খামার যান্ত্রিকীকরণ ও সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিরলস প্রচেষ্টা বর্তমান কৃষিকে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে যাবে। যেখানে কৃষি, কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষিত হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করে সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ক্রমহ্রাসমান কৃষিজমি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, বন্যা, লবণাক্ততা, পোকামাকড়, পশু ও ফসলের রোগ ইত্যাদি গুরুত্ব দিয়ে কৃষির উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। আশা করি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা প্রচলনের মাধ্যমে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে বাংলাদেশ। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় এই খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading