পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা দরকার
শারমিন সুলতানা ত্বন্নি । মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১৪:৩৫
পর্যটনে সম্ভাবনাময় একটি দেশ হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ। একটু নজর দিলে এ খাত থেকে প্রচুর আয় করা সম্ভব। এটিকে বলা হয় অদৃশ্য অর্থনৈতিক শক্তি। পর্যটন হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম আয়ের খাত। অনেক উন্নয়নশীল দেশের অন্যতম আয়ের খাত হচ্ছে পর্যটন।
কোনো দেশের পর্যটনশিল্প তত বেশি উন্নত যত বেশি সে দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা বিদ্যমান এবং হাতের নাগালে সব নাগরিক সুবিধা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে পোশাক, চা বা পাটশিল্পের মতোই পর্যটনশিল্প একটি বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হতে পারে। কিন্তু দিনকে দিন এখানকার অবস্থা আরও নাজুক হচ্ছে। বেড়াতে এসে ঘটছে ধর্ষণের মতো অপরাধ। হোটেল রিসোর্টগুলোতেও নিশ্চিত করতে হবে নিরাপত্তা। নিরাপত্তাব্যবস্থায় উন্নত দেশগুলো এগিয়ে থাকায় তারা পর্যটনেও শীর্ষে। এই তালিকার শীর্ষ দশে আছে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডা ও সুইজারল্যান্ড। তারা যেমন নিরাপত্তাব্যবস্থায় জোর দিয়েছে তেমনি পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে নিয়েছে পর্যটনশিল্পকে।
পর্যটনবান্ধব দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখানে তারপরও একটি ব্যাপার বারবার আলোচিত হতে থাকে। হোটেল, রিসোর্ট বা খাবারের রেস্তোরাঁয় স্বস্তি পায় না মানুষ। সুযোগ বুঝে কোপ মারার স্বভাব এ দেশের কতিপয় নীতিহীন মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছে। গেল বছর আলু ভর্তা এবং ডাল-ভাত কিনতে হয়েছে ৩০০ টাকায় যার নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সব ব্যবসা মনোভাবের কারণে পর্যটকদের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে ঘুরতে যাচ্ছেন, যার ফলে এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফেসবুককেন্দ্রিক ভ্রমণপিপাসুদের বিভিন্ন পেজ ও গ্রম্নপে পর্যটকদের ক্ষোভ প্রকাশ যেন একটা অশনি সংকেতের বার্তা দেয়। এভাবে চলতে থাকলে একটা সম্ভাবনাময় শিল্পের সলিল সমাধি হবে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান বিঘ্নিত হবে। পর্যটনশিল্প বিকশিত হওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে যানবাহন ব্যবস্থা। জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সর্বোপরি উন্নত সেবা দিতে পারলে বিশ্ববাসীর নজরে আসবে বাংলাদেশ।
আরেকটি ব্যাপারে মনোনিবেশ করতে হবে তা হলো বর্জ্যব্যবস্থাপনা এবং সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। সমুদ্র সৈকত নোংরা হয়ে থাকছে এবং গবাদিপশুর চারণভূমিও হতে দেখা গেছে যা এ শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। নিরাপত্তা যেমন জোরদার করতে হবে তেমনি রক্ষা করতে হবে সুন্দর পরিবেশের নিশ্চয়তা। যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেললে নষ্ট হবে জীববৈচিত্র্য। দেশীয় পর্যটকদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে। যেখানে-সেখানে পস্নাস্টিকজাতীয় বস্তু ফেলা হতে বিরত থাকতে হবে। পরিশেষে, এখনই সময় এই শিল্পকে একটি অর্থনৈতিক খাত হিসেবে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বিদেশি পর্যটক যে দেশে যত বেশি সে দেশের পর্যটন থেকে আয় ততই বেশি। বিদেশিদের জন্য আমরা আলাদা জোন করতে পারি। সেখানে আবাসিক ব্যবস্থা, বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। ট্রেনে বিদেশিদের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। রেল সুবিধা বাড়াতে হবে যাতে বিদেশিরা আরামদায়ক বোধ করে। যেসব পর্যটন এলাকাগুলোতে রেললাইন নেই সেখানে রেললাইন সম্প্রসারণ করতে হবে। পর্যটনে সম্ভাবনাময় একটি দেশ হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ। একটু নজর দিলে এ খাত থেকে প্রচুর আয় করা সম্ভব। জাতীয় পরিকল্পনায় পর্যটনশিল্পকে আগ্রাধিকার প্রদান, জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যটন পুলিশ গড়ে তোলা, পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো, দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। নিরাপত্তার অভাব, চুরি বা ছিনতাই, রাস্তা বা ট্যুরিস্ট স্পটের নোংরা পরিবেশ ইত্যাদি বিদেশিদের কাছে চিন্তার কারণ। ইংরেজি বা বিদেশি ভাষায় দক্ষ গাইড বিদেশিদের সন্তুষ্ট করতে পারবে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাংলাদেশও পর্যটন খাত থেকে প্রচুর আয় করতে পারবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, যানবাহনগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে আমরা বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে পারি। ফেসবুকে বা ইন্টারনেট/গণমাধ্যম বা দূতাবাসের মাধ্যমে আমাদের পর্যটন এলাকা নিয়ে লিফলেট, প্রামাণ্যচিত্র, ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পারি।
লেখক: কলামিস্ট।
ইউডি/সুস্মিত

