স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী: কোন ষড়যন্ত্রই দেশের অগ্রগতি থামাতে পারবে না
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১১:৪৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার আহবান জানিয়ে বলেছেন, কোন ষড়যন্ত্রই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে থামাতে পারবে না। তিনি বলেছেন, যে রিজার্ভ আছে তাতে ৩ মাস নয়, ৯ মাসের খাবারও কেনা যাবে। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। এদিন ঢাকায় অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক জোট ডি-৮ এর ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এবং ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ২০ তম অধিবেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেন তিনি। বিস্তারিত লিখেছেন আসাদ এফ রহমান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে অনেক চক্রান্ত চলছে। আমি বিশ্বাস করি যত চক্রান্তই করুক বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি অপ্রতিরোধ্য গতিতে, ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাব। তিনি আরও বলেন, ঝড়-ঝাপটা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশের কারণে অনেক কিছুই মোকাবিলা করতে হবে। আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে যেমন চলি তেমনি বৈশ্বিক যে দুর্যোগ সেটাও মোকাবিলা করে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো, সে বিশ্বাস আমার আছে। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
‘যে রিজার্ভ আছে তাতে ৯ মাসের খাবারও কিনতে পারবো’: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিজার্ভ রাখা হয় যাতে আপদকালীন সময়ে তিন মাসের খাদ্যশস্য কেনা যায়, বাংলাদেশ বর্তমানে যে রিজার্ভ আছে তাতে তিন মাস কেন ৯ মাসের খাবারও কিনে আনতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমলে অর্থাৎ ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রিজার্ভ কত ছিল? তিন বিলিয়নের কিছু ওপরে ছিল। সেখান থেকে আমরা ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত রিজার্ভ বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। করোনাকালে আমাদের আমদানি বন্ধ ছিল। এরপর আমদানি করতে হয়েছে। আমদানি করতে গিয়ে এবং উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে আমাদের রিজার্ভ খরচ করতে হয়েছে। আমরা বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দিলাম। সেখানে তো আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়েছে। এমনকি ভ্যাকসিন দিতে সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে যা যা দরকার সেগুলো বিদেশ থেকে কিনে এনেছি। সেখানে বিরাট অংকের টাকা আমরা খরচ করেছি। এটা মাথায় রাখতে হবে যেসব শিল্প গড়ে উঠবে সেগুলো যখন প্রোডাকশনে যাবে তখন প্রচুর মানুষ লাভবান হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন আমাদের রিজার্ভ থাকে কেন? কোনও আপদকালীন সময়ে তিন মাসের খাদ্যশস্য কেনার মত বা আমদানি করার মত অর্থ যেন আমাদের হাতে থাকে । আমাদের এখন যে রিজার্ভ আছে তাতে তিন মাস কেন ৬ মাস, ৯ মাসের খাবারও আমরা কিনে আনতে পারবো। কিন্তু পদক্ষেপ নিতে হবে যেন খাদ্যশস্য কিনতে না হয়। আমরা যাতে নিজে উৎপাদন করতে পারি। সাশ্রয়ী হতে হবে। আমরা ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি, এখন মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এগুলো কেন তাদের চোখে পড়ে না আমি জানিনা। আমি জানি যে যারা বুদ্ধিজীবী তারা অনেক কথা বলবে।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগকে আজ এটাই বলবো তোমাদের কাজ হবে আমরা যে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, যে উন্নতি দেশের হয়েছে, শিক্ষার দ্বার অবারিত হয়েছে, বহুমুুখি শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি সেই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি- এসব দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপন করেছি, গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থপনায় মানুষের ঘরে বসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, ফ্রিলান্সার সৃষ্টি হয়েছে। বেকারদের ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে, রাস্তাঘাট, পুল, ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছি- এই উন্নয়নের কথাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। প্রত্যেকটি অঞ্চলে গিয়ে মানুষের কাছে বার বার বলতে হবে। কে কি বললো সেদিকে কর্ণপাত করার কোন দরকার নেই। আমরা কি করেছি তা মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলে সেটাই হবে আসল জবাব। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কে কি বললো সেদিকে না যেয়ে আমরা মানুষের জন্য যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্ন্য়নের কথাগুলো একেবারে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বার বার বলতে হবে। এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং এই কাজটা করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ যেভাবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে সেভাবেই কাজ করে যাবে এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত করে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুঃসময়ে যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে তা আব্যাহত রাখবে। একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবে এবং নিবেদিত প্রাণ হয়েই রাজনীতি করবে।স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু। স্বেচ্ছাসেবক লীগের গত এক বছরের কর্মকান্ড এবং সদ্য প্রয়াত দলটির সাবেক সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের ওপর দু’টি পৃথক ভিডিও চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বেচ্ছাসেবার ১ বছর’ শীর্ষক প্রকটি প্রকাশনার মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সঙ্কট উত্তরণে বৈশ্বিক সংহতি আরও বেশি প্রয়োজন: করোনা ভাইরাস মহামারী ও ইউক্রেইন যুদ্ধের সঙ্কটে বিশ্ব যে কঠিন সময় পার করছে, সে কথা তুলে ধরে ডি-৮ কে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বৈশ্বিক সংহতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ডি-৮ এখন সমন্বয় তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আমাদের সরকারি-বেসরকারি খাতের অর্থপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অপার সম্ভাবনা যদি সঠিকভাবে অর্জন করা যায়, তাহলে একটি অর্থনৈতিক ব্লক হিসাবে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে উন্নয়নশীল আটটি দেশের জোট ডি-৮ এর ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ডি-৮ এর মন্ত্রি পর্যায়ের বিংশতম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারী, সংঘাত, খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্ব যেহেতু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেহেতু আগের চেয়ে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও বৈশ্বিক সংহতি আরও বেশি প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি: মহামারীর ক্ষত কাটিয়ে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেইন দ্বন্দ্ব বিশ্বকে নতুন বিপদে ঠেলে দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংঘাতে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় খাদ্য, সার, শক্তি ও বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত করেছে। বাংলাদেশের মত দেশগুলো যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অধিকাংশ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আমাদের সকলের উচিত সাহসিকতার সাথে এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসা।
ইউডি/সুপ্ত

