আল কায়েদা প্রধান জাওয়াহিরির মৃত্যু: চুক্তি লঙ্ঘন নিয়ে আমেরিকা-তালেবান পাল্টাপাল্টি

আল কায়েদা প্রধান জাওয়াহিরির মৃত্যু: চুক্তি লঙ্ঘন নিয়ে আমেরিকা-তালেবান পাল্টাপাল্টি
জাওয়াহিরি

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৩:০৫

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র চালানো ড্রোন হামলায় আল কায়েদা প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউসে দেয়া ঘোষণায় বিষয়টি জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাইডেন তার ঘোষণায় বলেন, আমি একটি নির্ভুল হামলা অনুমোদন করেছি, যা তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে একেবারে এবং আজীবনের জন্য সরিয়ে দিয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭১ বছর বয়সী জাওয়াহিরি তার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে কাবুলের প্রাণকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানেই তার ওপর ড্রোন হামলা চালায় আমেরিকা। আমেরিকা বলছে, কাবুলে জাওয়াহিরির উপস্থিতি স্পষ্টতই দোহা চুক্তির লঙ্ঘন। তবে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাল্টা দাবি করেছেন, আমেরিকাই হামলা চালিয়ে দোহা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব: এদিকে, উগ্রবাদীগোষ্ঠী আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণার প্রতি স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এ খবর প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে সৌদি রাজতন্ত্র জানিয়েছে, আল-জাওয়াহিরিকে সন্ত্রাসীদের শীর্ষ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০০১ সালে তাদের নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ ও ঘৃণ্য হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় সৌদি নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশ-ধর্ম-বর্ণের কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। এ সময় সন্ত্রাসবাদ উৎখাত ও এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অন্যতম মিত্রদেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব।

জাওয়াহিরির পরিচয় কী: জাওয়াহিরি ছিলেন চোখের সার্জন। মিসরে ইসলামিক জিহাদ জঙ্গি গ্রুপ গঠনে সহায়তা করেন তিনি। ২০১১ সালের মে মাসে মার্কিন বাহিনী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করলে তারপরে গোষ্ঠীটির নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন জাওয়াহিরি। তার আগে জাওয়াহিরিকে মনে করা হতো বিন লাদেনের ডান হাত। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন আমেরিকায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে হামলার নেপথ্যে ‘আভিযানিক মস্তিষ্ক’ চালিয়েছিলেন জাওয়াহিরি। বিন লাদেনের পর জাওয়াহিরি ছিলেন ২০০১ সালে আমেরিকার ঘোষিত ‘২২ মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীর’ দ্বিতীয় ব্যক্তি। তার মাথার মূল্য নির্ধারণ করা হয় আড়াই কোটি মার্কিন ডলার। ওই হামলার পরবর্তী বছরগুলোতে জাওয়াহিরি হয়ে ওঠেন আল-কায়েদার সবচেয়ে প্রখ্যাত মুখপাত্র। ২০০৭ সালে তিনি ১৬টি ভিডিও ও অডিও টেপ প্রকাশ করেন। যা বিন লাদেনের চেয়ে চারগুণ বেশি। সারা বিশ্বের মুসলিমদের নিয়োগ ও উগ্রবাদী করে গড়ে তুলতে এসব বার্তা প্রকাশ করেন তিনি।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading