শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান অব্যাহত রাখতে হবে
শোয়েব শাহরিয়ার । রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৩:৪৫
করোনার সংক্রমণ বিশ্বকে কতটা বিপর্যস্ত করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া করোনার প্রভাবে দেশেও ভীতিপ্রদ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। এর প্রভাবে প্রায় প্রত্যেকটি খাতে নেতিবাচক পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে, মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাও বিঘ্নিত হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতিকে সাফল্যের সঙ্গেই মোকাবিলা করেছে। তদুপরি টিকা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কতটা জরুরি, তা আমলে নেওয়ার বিকল্প নেই। আর করোনা মোকাবিলায় বড়দের পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী হওয়ার বিকল্প নেই।
সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ২৫ আগস্ট থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের টিকা কার্যক্রম। প্রথম দিকে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আগে অর্থাৎ গতকাল থেকে শুরু হলো পরীক্ষামূলকভাবে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি। তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের করোনা টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। প্রথম দিনে আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষার্থী টিকা নিতে এসেছে। জানা গেছে, ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের এই টিকা কার্যক্রম সারাদেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। টিকার প্রথম রাউন্ড চলবে ২৫ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ দিন। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ড (দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম) হবে প্রথম রাউন্ডের দুই মাস পর। এ ক্ষেত্রে উলেস্নখ্য যে, শিশুদের জন্য ফাইজারের বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি করা টিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে এবং টিকাকর্মীরাও সারাদেশে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানা গেছে।
আমরা মনে করি, শিশুদের টিকা কার্যক্রমকে সফল করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। এটাও বলতে চাই, করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সাফল্যর সঙ্গে এগিয়েছে- যা ইতিবাচক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। একইসঙ্গে এটাও বলা দরকার, করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতা থাকলেও প্রথম দিকে কিছু বিশৃঙ্খলা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সংকট উতরে গেছে। আর যেহেতু শিশুদেরও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে- সঙ্গত কারণেই শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টিও প্রাধান্য দিতে হবে। এবারে শিশুদের যে পরীক্ষামূলক টিকা কার্যক্রম শুরু হলো তা আমলে নিয়ে ২৫ আগস্ট থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের যে টিকা কার্যক্রম তার সফল বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। মনে রাখা দরকার, যেহেতু মানুষ করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ফলে এই পরামর্শকে সামনে রেখে উদ্যোগ জারি রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবাইকে টিকা নিতে হবে ও মাস্ক পরতে হবে। ফলে করোনার ভীতি কমে এলেও শিশুদের সুরক্ষায় টিকা কার্যক্রম সফল করতে সব ধরনের উদ্যোগ জারি রাখতে হবে। প্রসঙ্গত, করোনা প্রতিরোধে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুদের জন্য ফাইজারের বিশেষ টিকা দেশে আসে গত ৩০ জুলাই। ওই দিন বিশেষভাবে তৈরি ফাইজারের ১৫ লাখ ২ হাজার ৪০০ ডোজ টিকা এসেছে বলে জানা যায়। শিশুদের জন্য ফাইজারের তৈরি এ টিকা খুবই নিরাপদ ও ভালো বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকার গত এপ্রিল মাসেই ৫ থেকে ১১ বছর বয়সিদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে- এমনটিও জানা যায়। তথ্য মতে, দেশে এই বয়সি শিশুদের অনুমিত সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। আর তাদের দেওয়ার জন্য ৪ কোটি ১০ লাখ টিকার নিশ্চয়তা স্বাস্থ্য বিভাগ পেয়েছে। কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির আওতায় বাংলাদেশ এই টিকা পেয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সঙ্গত কারণেই শিশুদের যত্ন ও সচেতনতার ব্যাপারে যেমন অভিভাবকদের মনোযোগ জরুরি, তেমনিভাবে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ২৫ আগস্ট থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের টিকার যে কার্যক্রম- তারও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সামগ্রিকভাবে করোনাভাইরাস মোকবিলায় উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক- সমাজ গবেষক।
ইউডি/সুস্মিত

