ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৭:৪৫
ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরেছেন বিশ্বের সাতটি অঞ্চলের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয়ী একমাত্র বাংলাদেশি পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু জয় করার পর দেশে ফিরেছেন তিনি।
বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন ৩৯ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী।
অনুভূতি জানাতে গিয়ে ওয়াসফিয়া বলেন, বাংলাদেশ যখন ৪০-এ পা দেয়, তখন সেভেন সামিট জয় করার যাত্রা শুরু করি। দেশের ৫০ বছরে চেয়েছিলাম কে-টু জয় করতে। এ জন্য ১০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে কে-টু যাত্রার জন্য তৈরি করেছি। এটা আমার জন্য বড় অর্জন।
বিশ্বের ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গের মধ্যে কে-টুর (৮৬১১ মিটার) অবস্থান মাউন্ট এভারেস্টের (৮৮৪৮ মিটার) পরই। আর উচ্চতার হিসাবে ব্রড পিক (৮০৫১ মিটার) বিশ্বে দ্বাদশ। তবে পর্বতারোহীদের কাছে অন্যতম কঠিন পর্বত কে-টু। গত বছরের জানুয়ারিতে শীতকালে কে-টু শৃঙ্গে উঠে যে ১০ জন নেপালি পর্বতারোহী বিশ্ব রেকর্ড করেন, মিংমা তেনজি শেরপা তাঁদেরই একজন। এ ছাড়া ১০ বার এভারেস্ট জয়সহ ১১টি আট হাজারি শৃঙ্গ জয়ের নজির আছে মিংমার ঝুলিতে।
অন্যদিকে ওয়াসফিয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ২৬ মে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গও জয় (সেভেন সামিট) করেন তিনি।
উচ্চতায় এভারেস্টের পর হলেও পর্বতারোহীদের কাছে সবচেয়ে কঠিন পর্বত হিসেবে কে-টু। ১৯৫৪ সাল থেকে মাত্র ৪২৫ জন এটির চূড়ায় উঠেছেন, যার মধ্যে ২০ জন নারী।
তিনি বলেন, এ সাফল্যে আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞা। দলে যারা ছিলেন তাদের বেশ কয়েকজনকে এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা পর্বতারোহী হিসেবে মনে করা হয়। যারা আমার মঙ্গল কামনা করেছে এবং আমার ওপর ভরসা করেছে, সবাইকে ধন্যবাদ।
কে-টু ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’ নামেও পরিচিত। কে-টু কে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক পর্বত। পরিসংখ্যান বলছে, এই পর্বতের চূড়ায় পৌঁছাতে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন জীবন হারায়। পিরামিড আকৃতির হওয়ায় এর চূড়ায় ওঠা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
উল্লেখ্য,ওয়াসফিয়া নাজরীন প্রথম বাঙালি এবং একইসাথে প্রথম বাংলাদেশি, যিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছেন। তার এই অভিযানের অনেকগুলোতেই স্পন্সর হিসেবে পাশে ছিল রেনাটা। এছাড়াও তিনি পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, পাকিস্তানের উচ্চতম এবং সবচেয়ে দুর্গম ও বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু বিজয়ী। সেক্ষেত্রে বলা যায় ওয়াসফিয়া নাজরীনের এই জয় বাংলাদেশের জন্য গর্বিত এক অর্জন বয়ে এনেছে। নারীশক্তির জয়যাত্রায় নতুন মাইলফলক ছুঁলেন ওয়াসফিয়া।
ইউডি/সুস্মিত

