সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট: মিখাইল গর্বাচেভ এক দ্বৈত চরিত্র
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১১:৪৫
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মস্কোর স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিন দশক আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান আর আমেরিকার হাতে বিশ্বের একক কর্তৃত্ব চলে যাওয়ার কালে যে কয়েকটি আলোচিত চরিত্রের ওপর বিশ্বের প্রায় সবার চোখ ছিল, তার অন্যতম মিখাইল গর্বাচেভ। তার জীবনের নানা দিক তুলে ধরে লিখেছেন বিনয় দাস
পশ্চিমাদের কাছে তিনি ছিলেন সোভিয়েতের কারাগারে বন্দি কোটি কোটি মানুষের মুক্তিদাতা, অন্যদিকে রাশিয়ার নবীন-প্রবীণ অনেকের কাছে তিনি খলনায়ক, যিনি রাশিয়ার বৈশ্বিক প্রভাব মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ এ প্রেসিডেন্ট আমেরিকার সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি করেছিলেন, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বাড়িয়েছিলেন ঘনিষ্ঠতা, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের দ্বিধাবিভক্তি ঘুচিয়ে দিতে এবং জার্মানিকে এক করতে মূল ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ সংস্কার সোভিয়েত ইউনিয়নকে দুর্বল করে দেয় এবং এর পতন ত্বরান্বিত করে, যাকে পরে ভøাদিমির পুতিন বিংশ শতাব্দীর ‘সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়’ অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
কৃষক সন্তান থেকে সোভিয়েতের শীর্ষ নেতা: মিখাইল সের্গেইয়েভিচ গর্বাচেভের জন্য ১৯৩১ সালের ২ মার্চ, সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত রাশিয়ার স্তাভরোপোল ক্রায়-তে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ইয়ং কমিউনিস্ট লীগ কমসমলে যোগ দেন তিনি, পরের ৪ বছর কাজ করেন স্তাভরোপোলের রাষ্ট্রীয় খামারে। কসমসলের সদস্য হিসেবে তার দক্ষতা, যোগ্যতা স্থানীয় নেতাদের নজর কেড়েছিল। ১৯৫২ সালে তিনি মস্কোর স্টেট ইউনিভার্সিটির ল স্কুলে ভর্তি হন, সদস্য হন কমিউনিস্ট পার্টির। ১৯৫৫ সালে আইনে ডিগ্রি নেওয়ার পর গর্বাচেভ কসমসল এবং স্তাভরোপোলের কমিউনিস্ট পার্টিতে একাধিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০-এর দিকে তিনি পার্টির অঞ্চল কমিটির ফার্স্ট সেক্রেটারি হন।
পরের বছর কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য সোভিয়েত ইউনিয়নের (সিপিএসইউ) কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ঢোকেন তিনি। ১৯৭৮ সালে হন পার্টির কৃষি সম্পাদক। পরের বছর পার্টির রাজনৈতিক পরিষদ বা পলিটব্যুরোর প্রার্থী সদস্যপদ পান, ১৯৮০ তে হন সেখানকার পূর্ণ সদস্য।
সিপিএসইউ-র সেসময়কার তাত্ত্বিক নেতা মিখাইল সাসলভের ছত্রছায়ায় থাকায় পার্টির মূল নেতৃত্বে আসতে গর্বাচেভকে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। ইউরি আন্দ্রোপভ ১৯৮২ খেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত যে ১৫ মাস কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন, সেসময় পলিটব্যুরোর অন্যতম সক্রিয় ও দৃশ্যমান সদস্য হয়ে ওঠেন গর্বাচেভ। আন্দ্রোপভের মৃত্যুর পর ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কনস্তান্তিন চেরনেঙ্কো জেনারেল সেক্রেটারি হওয়ার পর থেকেই গর্বাচেভকে তার পরবর্তী উত্তরসূরী হিসেবে দেখা শুরু হয়। ১৯৮৫ সালের ১০ মার্চ চেরনেঙ্কো মারা যাওয়ার পরদিনই সিপিএসইউ-র পলিটব্যুরো গর্বাচেভকে জেনারেল সেক্রেটারি বানায়। এবং সেসময় তিনি ছিলেন পলিটব্যুরোর সবচেয়ে কমবয়সী সদস্য।

যার হাত ধরে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান: ইউরি আন্দ্রোপভ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় বেশ কয়েকবার বিদেশ সফর করেন গর্বাচেভ। ১৯৮৪ সালে লন্ডন সফরের সময় ‘লৌহমানবী’ খ্যাত ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের নজরে পড়েন তিনি। সে সময় বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে থ্যাচার বলেছিলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গ ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে তিনি আশাবাদী।বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন মিখাইল গর্বাচেভ। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময় তিনি ছিলেন রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট, যেটি টিকে ছিল প্রায় ৭০ বছর। এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল সে রাষ্ট্র। ১৯৮৫ সালে সংস্কার কর্মসূচি শুরুর সময় গর্বাচেভের মূল লক্ষ্য ছিল নিজ দেশের স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।
তার উদ্যোগ বেশ কিছু ঘটনার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে শুধু সোভিয়েত ইউনিয়নে নয়, রাষ্ট্রটির ছায়ায় থাকা অন্য রাষ্ট্রগুলোতেও অবসান ঘটায় কমিউনিস্ট শাসনের।
সোভিয়েত অর্থনীতি পরিবর্তনে ‘গ্লাসনস্ত’
গর্বাচেভের প্রথম কাজ ছিল পতনের দ্বারপ্রান্তে থাকা সোভিয়েত অর্থনীতিকে টেনে তোলা। অর্থনীতিতে সংস্কারের পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টিকেও খোলনলচে বদলানোর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। তার সমাধান নিহিত ছিল রুশ দুটি শব্দে। তিনি বলতেন দেশের ‘পেরেস্ত্রোইকা’ বা পুনর্গঠন দরকার। এটা করতে ‘গ্লাসনস্ত’ (উদক্ততা) ব্যবহার করেছেন তিনি। লেনিনগ্রাদে (১৯৯১ সালে নাম বদলে হয় সেন্ট পিটার্সবার্গ) কমিউনিস্ট পার্টির এক অনুষ্ঠানে গর্বাচেভ জ্যেষ্ঠ নেতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, অন্য অর্থনীতির চেয়ে আপনারা পিছিয়ে আছেন। অর্থনীতিতে একচ্ছত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করলেও সোভিয়েত ইউনিয়নে পুরোপুরি মুক্তবাজার অর্থনীতি কায়েমের ইচ্ছা ছিল না গর্বাচেভের। ১৯৮৫ সালে দলের কংগ্রেসে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি সেটি পরিষ্কার করেছিলেন। সে বছর তিনি বলেছিলেন, আপনাদের কেউ কেউ বাজারকে অর্থনীতির প্রাণরক্ষাকারী হিসেবে দেখেন, তবে কমরেডগণ, আপনাদের জীবনরক্ষাকারীকে নিয়ে চিন্তিত না হয়ে জাহাজ নিয়ে ভাবা উচিত। সে জাহাজ হলো সমাজতন্ত্র। স্থবির হয়ে পড়া ব্যবস্থা মোকাবিলায় গর্বাচেভের আরেক অস্ত্র ছিল গণতন্ত্র। তার সময়ে প্রথমবারের মতো সোভিয়েতের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ কংগ্রেস অফ পিপল’স ডেপুটিজের নির্বাচন হয় অবাধ।

‘পশ্চিমাদের প্রতি রোমান্টিক ছিলেন গর্বাচেভ’
এদিকে, মিখাইল গর্বাচেভের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে পুতিন নিজে শোক জানালেও রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিনের তরফে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, গর্বাচেভ ছিলেন এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক যিনি ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিমজ্জিত হবেন। বুধবার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এই মানুষটি সোভিয়েত ইউনিয়নের অবসান ঘটিয়েছিলেন। রোনাল্ড রিগ্যান ও মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের বিষয়টি ছিল সুবিদিত। পশ্চিমের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে তার একটি ভুল ‘রোমান্টিসিজম’ ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে স্নায়ুযুদ্ধ অবসানে রাখা ভূমিকার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তবে সমালোচকদের কাছে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার রূপকার হিসেবে পরিচিত।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের নেপথ্যে: ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম সোভিয়েতের প্রেসিডিয়ামের চেয়ারম্যানশিপ নির্বাচনে জিতে নিজের ক্ষমতাকে সুসংহত করেন গর্বাচেভ। তিনি তার অর্থনৈতিক সংস্কার কমিউনিস্ট পার্টি গ্রহণ না করলে গর্বাচেভ সরকারের আইন ও নির্বাহী শাখাকে সিপিএসইউ-র মুঠো থেকে সরিয়ে নতুন আকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলশ্রুতিতে ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে পরিবর্তিত সংবিধান নতুন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ইউএসএসআর কংগ্রেস অব পিপলস ডেপুটিস সৃষ্টি করে, যে পার্লামেন্টের কিছু সদস্যকে জনগণের সরাসরি ভোটে একাধিক প্রার্থীল মধ্যে নির্বাচিত হয়ে আসতে হত। পরের বছর ওই পার্লামেন্ট নতুন ইউএসএসআর সুপিম সোভিয়েত বানায়, এবং যার প্রেসিডেন্ট হন গর্বাচেভ। এ সময় থেকে পূর্ব ইউরোপের সোভিয়েত ব্লকভুক্ত দেশগুলোর সংস্কারবাদী কমিউনিস্ট নেতাদের পক্ষে সমর্থন বারবার বিবৃত করেন গর্বাচেভ। পরে সেসব দেশের কমিউনিস্ট শাসন ব্যবস্থার অবসান হওয়ার পর অ-কমিউনিস্ট সরকার দেশগুলোর ক্ষমতায় এলে সিপিএসইউ-র এ নেতা সেসব দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহারেও রাজি হয়ে যান। এরই ধারাবাহিকতায় দুই জার্মানি একত্রিত হলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট নেটো লাভবান হবে, তা জেনেবুঝেই পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানিকে একত্রিত করতেও রাজি হন তিনি। এসবই তাকে ১৯৯০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার এনে দেয়।
‘ঠুঁটো জগন্নাথে’ পরিণত হওয়া: গণতন্ত্রায়ন ও বিকেন্দ্রীকরণের গর্বাচেভের নীতি অনেকগুলো প্রজাতন্ত্রে তুমুল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, অনেক প্রজাতন্ত্র স্বাধীন হওয়ারও চেষ্টা চালায়। মধ্য এশিয়ার অনেক অঞ্চলে জাতিগত বিভেদ দমনে সেসময় গর্বাচেভকে সেনাবাহিনীও ব্যবহার করতে হয়েছিল। তার অভ্যন্তরীণ নীতি ও সংস্কার সিপিএসইউ-র প্রভাব দিন দিন কমিয়ে আনছিল। ১৯৯০ সালের মার্চে কংগ্রেস অব পিপলস ডেপুটিস তাকে ইউএসএসআরের প্রেসিডেন্ট বানায়, দেয় বিপুল ক্ষমতা। এরপর তার নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতায় কমিউনিস্ট পার্টিই থাকবে এমন বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে অন্যসব দলকে বৈধ করার রাস্তা করে দেয়। দলের ভেতর এবং সরকারে তিনি ক্রমশই একা হতে থাকেন; এরই এক পর্যায়ে ১৯৯১ সালের ১৯ থেকে ২১ অগাস্ট ক্ষণস্থায়ী এক অভ্যুত্থানে গৃহবন্দি থাকতে হয় গর্বাচেভ ও তার পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন ও অন্য সংস্কারবাদীদের বাধার মুখে ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যায় এবং গর্বাচেভ ফের সোভিয়েতের প্রেসিডেন্ট হন।
এসময় গর্বাচেভ প্রকৃতপক্ষে ‘ঠুঁটো জগন্নাথে’ পরিণত হন। বাধ্য হয়ে ইয়েলৎসিনের সঙ্গে ঐক্য করতে হয় তাকে, কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এর কেন্দ্রীয় কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি ও সেনাবাহিনীর ওপর সিপিএসইউ-র নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাবে সমর্থন জানান।গর্বাচেভ রাজনৈতিক অনেক ক্ষমতাও বিভিন্ন প্রজাতন্ত্রের হাতে হস্তান্তর করেন। এতে সোভিয়েতের ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়, পরে ইয়েলৎসিন নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষয়িষ্ণু ওই সোভিয়েত সরকারের কার্যভার নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। অনেকগুলো প্রজাতন্ত্র ইয়েলৎসিনের নেতৃত্বে একটি কমনওয়েলথ বানাতে রাজি হয়। ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর গর্বাচেভ সোভিয়েন ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেন; সেদিন একই সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নও আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ইতিহাসের এক দ্বৈত চরিত্র: ১৯৯১ সালের অগাস্টে গর্বাচেভের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন রুশ হার্ডলাইনাররা। গর্বাচেভের সংস্কার কর্মসূচির বিপরীতে তারা রুশ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পক্ষে ছিলেন। সংস্কার-পূর্ববর্তী সোভিয়েত ইউনিয়নে ফেরার লক্ষ্যে অগাস্টে তারা গর্বাচেভের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। এরপর থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়ে সোভিয়েত-ব্যবস্থা। ওই মাসেরই শেষের দিকে গর্বাচেভ পদত্যাগ করেন। গুরুত্বপূর্ণ সেই অধ্যায় সম্পর্কে বিবিসির প্রতিবেদককে গর্বাচেভ বলেন, আমাদের অজান্তেই একটি বিশ্বাসঘাতকতা সম্পন্ন হয়েছিল। একেবারেই আমার অজান্তে।” গর্বাচেভ বিবিসির প্রতিবেদককে বলেন, কেবল একটি সিগারেট জ্বালাতে গিয়ে তারা একটা পুরো বাড়ি পুড়িয়েছিল।” এই ছিল প্রয়াত গর্বাচেভের ভাষ্য। যা ইতিহাস কখনো ভুলবে না। যদি অতীতে ফিরে যাই, তখন আমরা যৌবনের শেষ প্রান্তে। তাসের ঘরের মতো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলির ভোল পাল্টনোর প্রতিযোগিতা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এখনকার প্রজন্ত ভাবতেও পারবে না কেমন ছিল তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। এখন অনেকে মনে করেন রাজনীতির দরকার নাই। রাজনীতি মানে কলহ মারামারি।
ইউডি/সুস্মিত

