প্রেম করতে লাগবে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি!

প্রেম করতে লাগবে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি!

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:৩০

মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রেম বিষয়টি একদম ব্যক্তিগত হয়ে থাকে। কিন্তু প্রেমে পড়লে যদি কোনো দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয় তবে কেমন হবে? ঠিক ঘটনাই ঘটেছে ইসরায়েলে। দখলকৃত পশ্চিম তীরে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিকের প্রেমে পড়লে বিদেশিদের অবশ্যই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নতুন এক বিধিতে এমনটাই বলা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ও সেখানে ভ্রমণ করা বিদেশি নাগরিকদের জন্য বিধিনিষেধের দীর্ঘ একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের কারও সঙ্গে সম্পর্ক শুরু করার ৩০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৫০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী সেখানে ভিসা পাবেন। বিদেশি শিক্ষকদের জন্য থাকবে ১০০টি কোটা। তবে ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের কোনো সীমা নেই।

এদিকে, ফিলিস্তিনি সংগঠন পিএলও বলছে, ইসরাইলের এমন নীতি বৈষম্যমূলক। এতে একটি রাষ্ট্র ও দুটি ভিন্ন ব্যবস্থার বাস্তবতা উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিরাপত্তার কারণে এ অঞ্চলে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। তবে নতুন নিয়ম ইসরাইলের পাশাপাশি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত অংশ বা ইহুদি বসতি এলাকার জন্য প্রযোজ্য নয়।

ইসরায়েলের এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পিটিশন করেছে বেসরকারি সংস্থা হামোকড। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জেসিকা মনটেল বলেন, ফিলিস্তিনি সমাজকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যই এটা করা হয়েছে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানে এসে কাজ করা, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা, বিনিয়োগ করা, শেখানো ও পড়াশোনার বিষয়টি মানুষের জন্য আরও কঠিন করে তুলছে।

নতুন নিয়ম অবশ্য ইসরায়েলের পাশাপাশি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত অংশ বা ইহুদি বসতি এলাকার জন্য প্রযোজ্য নয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে প্রবেশের সঙ্গে ইসরায়েলি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যুক্ত থাকবে। ফিলিস্তিনি সংগঠন পিএলও বলছে, ইসরায়েলের ওই নীতি বৈষম্যমূলক। এতে একটি রাষ্ট্র ও দুটি ভিন্ন ব্যবস্থার বাস্তবতা উঠে এসেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিরাপত্তার কারণে এই অঞ্চলে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

এদিকে ব্যবসায়ী ও সহায়তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের জারি করা বিধিনিষেধে তাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিধিনিষেধের ফলে ভিসার মেয়াদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিম তীরে স্বেচ্ছাসেবীরাও কয়েক মাসের বেশি কাজ করতে পারবেন না।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading