শরীরে বিশেষ ডিভাইস নিয়ে ঘুরবে পতঙ্গ!

শরীরে বিশেষ ডিভাইস নিয়ে ঘুরবে পতঙ্গ!

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৬:০৫

একদম যেন সত্যিকারের এক আরশোলা। প্রথম দেখায় বোঝা কঠিন। কিন্তু আসলে সেটি যন্ত্র। ছোট্ট একটা যন্ত্র। যেটা এমন জায়গায় ব্যবহার করা যাবে যেখানে আপনি যেতে চান কিন্তু পোকামাকড়ের জন্য ঢুকতে পারছেন না। যন্ত্রই আপনার হয়ে সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি জানিয়ে দেবে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল এই রিমোট কন্ট্রোলড ‘সাইবর্গ কক্রোচ’ আবিষ্কার করেছেন। এটির সঙ্গে থাকবে ছোট্ট একটি ‘ওয়্যারলেস কন্ট্রোল মডিউল’। কৃত্রিম পোকাটির ভিতরে থাকবে রিচার্জেবল ব্য়াটারি, যাতে সোলার সেল যুক্ত থাকবে। এর ফলে এর চার্জ কখনও ফুরাবে না। নিরন্তর শক্তির প্রবাহ চলতেই থাকবে। চারপাশের পরিবেশকে বুঝে নিতে এই ছোট্ট যন্ত্রটির কোনও বিকল্প নেই। ‘এনপিজে ফ্লেক্সিবল ইলেকট্রনিক্স’ নামের একটি জার্নালে এ সংক্রান্ত একটি পেপার প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকেই এই তথ্যাদি জানা গেছে।

মাদাগাস্কারের আরশোলা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের শরীরে ওই যন্ত্রটি বসিয়ে দেওয়া হয়। তবে তাতে এদের কোনও অসুবিধা হয়নি। তারা যথারীতি নিজেদের মতো ঘুরতে-ফিরতে পারছে। আপাতত আরশোলার শরীরে এই পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর গুবরে বা অন্যান্য কীট-পতঙ্গের শরীরেও এই পরীক্ষা করা হবে। এমন একটি ডিভাইস বিজ্ঞানীরা তৈরি করতে চাইছেন, যা আংশিক যন্ত্র, আংশিক জীবন্ত পতঙ্গ। অর্থাৎ পোকাটাই যন্ত্রটি বহন করবে। আর সেই পোকা-যন্ত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের গতি-প্রকৃতি বুঝে নেবেন সেই যন্ত্রের পরিচালক।

প্রসঙ্গত, পোকা বা কীটপতঙ্গ হলো আর্থ্রোপোডা পর্বের অন্তর্গত অমেরুদন্ডীদের একটি শ্রেণী যাদের একটি করে কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কাল, একটি তিন খণ্ডের দেহ (মস্তক, ধড় ও উদর), তিন জোড়া করে সংযুক্ত পা, জটিল পুঞ্জাক্ষি, এবং এক জোড়া করে শুঙ্গ বা এ্যান্টেনা রয়েছে। দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত। এরা হল পৃথিবীর প্রাণীদের মধ্যে সবচাইতে বৈচিত্রময় যাদের দশ লাখেরও বেশি বর্ণনাকৃত প্রজাতি রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত জানা জীবন্ত জীবকূলের অর্ধেকেরও বেশির প্রতিনিধিত্ব এরাই করে।[এখন পর্যন্ত বিদ্যমান প্রজাতির সংখ্যা ৬০ লক্ষ থেকে ১ কোটির মধ্যে। এরা সম্ভবত পৃথিবীর ৯০ শতাংশেরও বেশি বিসদৃশ প্রাণীর প্রতিনিধিত্ব করে। প্রায় সব ধরনের পরিবেশেই এদেরকে পাওয়া যায়।

কীটের জীবনচক্রের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ কীটই ডিম থেকে ফুটে বের হয়। অনমনীয় বহিঃকঙ্কাল থাকার ফলে কীটের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং এর ক্রমবিকাশের সাথে বেশ কয়েকটি মোচন সংশ্লিষ্ট থাকে। অপরিণত পর্যায়ের সাথে প্রাপ্তবয়স্ক কীটের গঠন, অভ্যাস ও আবাসের মধ্যে তফাৎ থাকতে পারে এবং যেসব উপদল সম্পূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যায় তাদের মধ্যে একটি নিষ্ক্রিয় পিউপা পর্যায় দেখা যায়। যেসব কীট অসম্পূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যায় তাদের মাঝে পিউপা পর্যায় অনুপস্থিত থাকে, এবং প্রাপ্তবয়স্করা ক্রমাণ্বয়ে নিম্ফ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে ক্রমবিকাশ লাভ করে। সবচেয়ে বৈচিত্রময় পতঙ্গের দল সপুষ্পক উদ্ভিদের সাথে সহবিবর্তনের মাধ্যমে আবির্ভূত হয়েছে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading