যানজটে আর কত দুর্ভোগ পোহাবে রাজধানীবাসী?

যানজটে আর কত দুর্ভোগ পোহাবে রাজধানীবাসী?

শামিম আনসারি । শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৯:৪৫

সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন রাজধানীতে যানজটের মাত্রা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে দুদিন ধরে রাজধানীতে যানজট চরম আকার ধারণ করে। তীব্র যানজটের ফলে ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানীবাসী। বাসে ১০ মিনিটের পথ পার হতে লাগে ঘণ্টারও বেশি সময়। অফিসগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। রাজধানী ও রাজধানীতে প্রবেশের সড়কগুলো দীর্ঘদিন খানাখন্দে পরিণত হলেও এসব সড়ক মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে রাজধানীতে আসা যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজটের সুরাহা হচ্ছে না। যানজটের কারণে প্রতিদিন শত শত কর্মঘণ্টা নষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতি হলেও এ ব্যাপারে যেন নজর দেওয়ার কেউ নেই। রাজধানীতে যানজটের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ পরিস্থিতি থেকে যেন নগরবাসীর মুক্তি নেই। রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা ও বিরক্তির কারণ যানজট। একদিকে উন্নয়নের কাজ চলছে, অন্যদিকে রাস্তায় চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এই দুয়ে মিলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি বাদ দিয়ে বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ঢাকার যানজটে। এ ক্ষতি দেশের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। ঢাকা শহরে যানজটের কারণে বছরে জিডিপির সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাথাপিছু আয়ের ক্ষতি হচ্ছে মাইনাস ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অতিমাত্রার যানজটের পেছনে অনিয়ন্ত্রিত ছোট ছোট যানকেও দায়ী করা যায়। সড়কের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন আপদ হিসেবে দাঁড়িয়েছে মোটর সাইকেল। আমাদের এখনই উচিত এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা। ২০৩০ সালের দিকে সড়কে যানবাহনের গতি মানুষের হাঁটার গতির চেয়েও কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমুদ্রে মৃদু নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ সারাদেশে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে খানাখন্দে ভরা ঢাকা নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলো হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। বিআরটি, মেট্টোরেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উন্মুক্ত স্থানগুলো একেকটি বিপদসঙ্কুল ফাঁদ হয়ে উঠেছে। উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তার মাঝখানে টিনের বেড়া দেয়ার কারণে যান চলাচলের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় এসব রাস্তায় যানজট চরম আকার ধারণ করেছিল। বৃষ্টিতে খানাখন্দ ও গর্তগুলো পানিতে ভরে তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় গত দুইদিনে অস্বাভাবিক যানজটে অবর্ননীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছে নগরবাসি। মঙ্গলবার সারাদিন রাজধানীর ব্যস্ততম বিমানবন্দর সড়কসহ উত্তরা-রামপুরা, টঙ্গি থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সবগুলো সড়কে গণপরিবহন যাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় স্থবির বসে থাকতে বাধ্য হয়েছে। সকালে অফিসগামী পেশাজীবী ও কর্মজীবী মানুষ জীবিকা ও কর্মের তাগিদে বেরিয়ে সময়মত কর্মস্থলে পৌছতে না পেরে আক্ষেপ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে রাস্তায় আটকে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌছতে পারেনি। বৃষ্টিতে রাস্তায় পানিবদ্ধতার কারণে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থাও রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা ছিল অনেক বেশি।
হঠাৎ করেই ঢাকায় এমন অবস্থা দেখা দেয়নি। বছরের পর বছর ধরে এ পরিস্থিতি একটি ক্রমাবনতিশীল বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন হঠাৎ করে পরিকল্পনা মাফিক করে ফেলা যায়না। তবে তথাকথিত উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে মাত্রাহীন যথেচ্ছাচার ও নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে নগর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও ব্যর্থতা সীমাহীন।

অতিমাত্রার যানজটের পেছনে অনিয়ন্ত্রিত ছোট ছোট যানকেও দায়ী করা যায়। সড়কের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের দিকে সড়কে যানবাহনের গতি মানুষের হাঁটার গতির চেয়েও কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নগরবাসিকে এহেন দুর্ভোগ থেকে রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সর্বোচ্চ নজরদারি ও সমন্বয়হীনতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে আইনের বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে না এলে কোনোভাবেই যানজট নিরসন করা যাবে না। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমাতে হবে, বাড়াতে হবে গণপরিবহণের সংখ্যা। যে সব সড়ক অপ্রশস্ত, সে সব কীভাবে কম সময়ে প্রশস্ত করা যায়, ভাবতে হবে। সুতরাং যানজট কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাই সমীচীন।

লেখক- সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading