১১৭ বছর পর ব্রিটেন থেকে ইন্ডিয়ায় ফিরছে ‘বিশেষ তলোয়ার’

১১৭ বছর পর ব্রিটেন থেকে ইন্ডিয়ায় ফিরছে ‘বিশেষ তলোয়ার’

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:১৫

১১৭ বছর পার হয়েছে। ব্রিটেনের অন্তর্গত স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে এবার ইন্ডিয়াতে ফিরছে হায়দরাবাদের নিজামের প্রধানমন্ত্রীর ‘সর্পাকৃতি’র বিশেষ তলোয়ার। ইন্ডিয়াতে ফেরার পর হায়দরাবাদের সালার জং সংগ্রহশালায় রাখা হবে এটি। গত শতাব্দীর শুরুতেই ‘সর্পাকৃতি’ ওই তলোয়ার নিজামের প্রধানমন্ত্রী থেকে কিনে নিয়েছিলেন এক ব্রিটিশ সেনা অফিসার। পরবর্তীকালে সেটি নিয়ে ইংল্যান্ড চলে যান তিনি। হাত ঘুরে সেটি চলে আসে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সংগ্রহশালায়। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর ফের সেই তলোয়ার স্কটল্যান্ডের থেকে ফেরত পাচ্ছে নয়াদিল্লি। এক খবরে একথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার বাংলা সংস্করণ এই সময়।

এছাড়াও কালো পাথরের সূর্য মূর্তি এবং কানপুরের একটি মন্দিরের দরজার ফ্রেমও ইন্ডিয়াকে ফেরত দেবে গ্লাসগোর ওই সংগ্রহশালা। ঔপনিবেশিক সময়কার বহু শিল্পসামগ্রী দেশে ফেরাতে সম্প্রতি উদ্য়োগী হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান হাই কমিশনারের চেষ্টায় এবার সাতটি শিল্পসামগ্রী ফেরাতে রাজি হয়েছে গ্লাসগোর সংগ্রহশালা। এর মধ্যে রয়েছে হায়দরাবাদের নিজামের প্রধানমন্ত্রীর ওই ‘সর্পাকৃতি’ তলোয়ার।

গ্লাসগো সংগ্রহশালা কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘খ্রীষ্টীয় ১৪ শতকের ওই তলোয়ারটির মালিক ছিলেন হায়দরাবাদের নিজাম মাহবুব আলি খান ষষ্ঠ আসফ ঝার প্রধানমন্ত্রী মহারাজা কিষেণ পের্শাদ বাহাদুর ইয়েমিন আস সুলতানত। ১৯০৫ সালে বোম্বে প্রেসিডেন্সির ব্রিটিশ সেনা অফিসার জেনারেল স্যার আর্চিবোল্ড হান্টার সেটি কিনে নেন। পরবর্তীকালে তলোয়ারটি নিয়ে ইংল্যান্ডে চলে যান তিনি।’

১৯৭৮ সালে হান্টারের এক বংশধর সেই তলোয়ারটিকে তাদের উপহার হিসাবে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে গ্লাসগোর ওই সংগ্রহশালা কর্তৃপক্ষ। নিজামের প্রধানমন্ত্রীর তলোয়ারটির বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে। প্রথমত, তলোয়ারটি দেখতে সাপের মতো। দ্বিতীয়ত, এর খাপে রয়েছে সোনার পাত। সোনা দিয়ে তৈরি হাতি এবং বাঘের ছবি আঁকা রয়েছে ওই তলোয়ারের খাপে।

কিছু ঐতিহাসিকের দাবি, এক সময় এই তলোয়ার ব্যবহার করতেন স্বয়ং নিজাম। কিন্তু পরবর্তীকালে তা তার প্রধানমন্ত্রী কিনে নেন। কীভাবে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

সালার জং সংগ্রহশালার ডিরেক্টর নাগেনডর রেড্ডির কথায়, ‘নিজামের প্রধানমন্ত্রী কিষেণ পের্শাদ বাহাদুর যথেষ্ট বিত্তবান ছিলেন। তাদের পরিবার বংশ পরম্পায় নিজামের রাজসভায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। নিজাম এই পরিবারটিকে খুবই বিশ্বাস করতেন। সেই কারণেই এই পরিবারের কাছে তলোয়ার বিক্রি করতে দু’বার ভাবেননি নিজাম।’

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading