নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার ১৪ স্বজন যাচ্ছেন কানাডা
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:২০
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান নিহত রোহিঙ্গা মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্য কানাডা যাওয়ার উদ্দেশে ক্যাম্প ত্যাগ করেছেন।
এনিয়ে দ্বিতীয় দফায় তার পরিবারের সদস্যরা কানাডা যাচ্ছেন। এর আগে পরিবারের আরও ১১ জন ওই দেশে গেছেন।
গত রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ও শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) এক কর্মকর্তা।
পরিবারের সদস্যরা হলেন- নিহত মুহিবুল্লাহর মা উম্মে ফজল (৬০), ছোট ভাই হাবিব উল্লাহর স্ত্রী আসমা বিবি (৩৫), সন্তান কয়কবা (১৫), বয়সারা (১৩), হুনাইসা (৯), মো. আইমন (৮), ওরদা বিবি (৫), মো. আশরাফ (৫) ও আরেক ভাই আহমদ উল্লাহর স্ত্রী শামছুন নাহার (৩৭), সন্তান হামদাল্লাহ (১১), হান্নানা বিবি (৯), আফসার উদ্দীন (৭), সোহানা বিবি (৫) ও মেজবাহ উল্লাহ (১)।
সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘মুহিবুল্লাহর মা-সহ তার দুই ভাইয়ের পরিবারের ১৪ সদস্য কানাডার উদ্দেশে ক্যাম্প ত্যাগ করছেন। তাদের এখানকার প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা সেখান থেকে কানাডায় রওনা দেওয়া কথা রয়েছে। ক্যাম্প থেকে যাত্রাকালে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারে প্রতিনিধিসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮-এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার (অপস) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘জাতিসংঘের মাধ্যমে মুহিবুল্লাহর মা ও দুই ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানসহ ১৪ জনকে উখিয়া ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর তাদের কোথায় নেবে- বিষয়টি আমার জানা নেই।’
উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্প ডি/৮ ব্লকের সাব মাঝি হামিদ হোসাইন বলেন, ‘মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্য কানাডা চলে যাচ্ছেন। তবে কোনদিন তারা কানাডার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করবে সেটা সরকার নির্ধারণ করবে। তারা কানাডা যাওয়ার জন্য আগে থেকে আবেদন করেছেন।
২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে নিজ কার্যালয়ে গুলিতে নিহত হন শীর্ষস্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ। এরপর তার পরিবারের সদস্যদের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে উখিয়া ট্রানজিট পয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়।
২০২১ সালের বছরের ১৭ অক্টোবর মুহিবুল্লাহর স্ত্রী, সন্তানসহ ১১ জন কানাডায় যাত্রা পাড়ি জমান। তাদের মধ্যে মুহিবের স্ত্রী নাসিমা খাতুন, ৯ ছেলেমেয়ে ছাড়াও এক মেয়ের জামাইও ছিল। তাদের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় কানাডার সরকারি কর্মসূচির আওতায় ‘শরণার্থী’ হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইউডি/কেএস

