দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রিম পদক্ষেপ জরুরি
সোলায়মান শাকিল। বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১৯:৩০
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও অগ্রগতির বিষয়টি বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনাও উঠে এসেছে। আর সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও চ্যালেঞ্জও কম নয় বলে তথ্য উঠে এসেছে। আমরা মনে করি, এটি আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই।
তথ্য মতে, ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি ইকোনমিক মেমোরেন্ডাম চেঞ্জিং অব ফেব্রিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মন্তব্য ও চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে বিশ্বব্যাংক। বৃহস্পতিবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উলেস্নখযোগ্য অর্থনৈতিক ও উন্নয়নে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আর এই প্রবৃদ্ধির গতিপথ ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির হারকে আরও ত্বরান্বিত করতে, দেশটির একটি শক্তিশালী সংস্কার এজেন্ডা প্রয়োজন। এছাড়া বাংলাদেশ এ সংস্কার না করতে পারলে ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। সেই সঙ্গে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক অশুল্ক বাধা কমিয়ে আনা, তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ, খেলাপি ঋণ কমানো, বেসরকারি ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি, এলডিসি উত্তরণের পর টিকে থাকতে বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
আমরা মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সামগ্রিক অর্থেই আশাব্যঞ্জক। ফলে এর সঙ্গে সঙ্গে যে চ্যালেঞ্জগুলো সামনে আসছে সেগুলোও আমলে নিতে হবে এবং বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ বিবেচনায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এটাও এড়ানো যাবে না, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গড় শুল্ক তার তুলনাকারী দেশগুলোর চেয়ে বেশি। মধ্যবর্তী পণ্যের গড় শুল্ক হার ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা চীন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যয় এবং অদক্ষ সীমান্ত প্রক্রিয়া বাণিজ্যে প্রধান প্রতিবন্ধকতা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতের সঙ্গে শুল্ক আধুনিকীকরণ, বর্ধিত বাণিজ্য সহজীকরণ এবং পরিষেবা এবং বিনিয়োগ সংস্কারের মধ্যে ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি যথাক্রমে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধি করতে পারে বলেও মন্তব্য উঠে আসছে।
উলেস্নখ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য বেসরকারি খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। এছাড়া সম্পদের গুণমান উন্নত করা, ব্যাংকের মূলধন বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ মোকাবিলা করা আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জরুরি এমন আলোচনাও যখন সামনে আসছে তখন তা বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া থাইল্যান্ড, চীন এবং ভিয়েতনামের বিপরীতে, বাংলাদেশের একটি অপ্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ পুঁজিবাজার রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে কাজে লাগানো প্রয়োজন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পুঁজিবাজারে অর্থ অবকাঠামোর পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পের জন্য ব্যবহার, সবুজ বিনিয়োগ এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে অর্থায়নের জন্য বেসরকারি খাতের অর্থায়ন যুক্ত করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারের মাধ্যমে, স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের প্রচারের মাধ্যমে, বহিরাগত ঋণের সীমাবদ্ধতা সহজ করে এবং আকর্ষণ করার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে বহিরাগত সম্পদের উৎস খুঁজে বের করা, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, প্রাপ্ত বয়স্কদের ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করাসহ ক্রেডিট অবকাঠামো শক্তিশালী করার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে।
আমরা মনে করি, প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখতে হবে। এটা ইতিবাচক বিষয়, পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া এই প্রতিবেদনের যেসব চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান করোনাভাইরাস মহামারি আর এরপর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। কিন্তু তারপরও এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি ও নানামুখী তৎপরতায় অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এখন যখন বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয় সামনে আসছে, ফলে প্রতিবেদনটি আমলে নেওয়াসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
লেখক: অনলাইন বিশ্লেষক।
ইউডি/সিফাত

