আত্মতুষ্টিতে না ভুগে পা মাটিতেই রাখছে নামিবিয়া

আত্মতুষ্টিতে না ভুগে পা মাটিতেই রাখছে নামিবিয়া

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার , ১৭ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ২২:০৫

আসর শুরুর আগে যে দলটি ছিল না একদমই আলোচনায়, প্রথম ম্যাচের পর সেই নামিবিয়াই চলে এসেছে পাদপ্রদীপের আলোয়। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চমকপ্রদ জয়ের পর তাই দলটির উচ্ছ্বাসে ভাসারই কথা। নামিবিয়ার কোচ পিয়ের ডে ব্রুইন অবশ্য পা মাটিতেই রাখছেন। তার মতে, স্রেফ একটি জয়েই সব অর্জন হয়ে যায়নি। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সামনের পথে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

বৈশ্বিক আসরের প্রথম দিনে প্রাথমিক পর্বের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে লঙ্কানদের ৫৫ রানে হারায় নামিবিয়া। আগে ব্যাট করা নামিবিয়া শেষ পাঁচ ওভারে ৬৮ রান তুলে দাড় করায় ১৬৩ রানের লড়াকু স্কোর। এরপর সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে রান তাড়ায় কোনো সুযোগই দেয়নি নামিবিয়া। গুটিয়ে দেয় মাত্র ১০৮ রানে। গত মাসে এশিয়া কাপ জেতা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন দাপুটে জয়ের পর আত্নবিশ্বাসের পালে জোর হাওয়া লাগারই কথা নামিবিয়ার।

জিলংয়ে মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) নামিবিয়ার প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ডে ব্রুইন জানালেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়টা তাদের জন্য বিশেষ হলেও তা নিয়ে পড়ে থাকার পক্ষপাতী নন তারা। তার কাছে প্রতিটি ম্যাচই নতুন চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমি যে ধরনের কোচ তাতে আমার পরামর্শ হল, আমাদের বিনয়ী থাকতে হবে। এই টুর্নামেন্টে এখনও অনেক ম্যাচ বাকি আছে। সামনে সাফল্যের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই খেলাটি এভাবে কাজ করে না।

ডে ব্রুইন আরও বলেন, আমরা একটি ইউনিট হিসেবে এবং একটি দল হিসেবে কোনো আত্মতুষ্টিতে ভুগব না। আগামীকাল একেবারে নতুন একটি দিন হবে। এটা একটা নতুন ম্যাচ। এই গ্রুপটি এখন তিনটি দলের জন্য উন্মুক্ত, একটি ম্যাচ হেরে গেলে সম্ভবত চার পয়েন্ট নিয়ে (গ্রুপ) শেষ করতে হবে।

ডে ব্রুইন আশাবাদী, তার শিষ্যরা আগের ম্যাচের রোমাঞ্চ নিয়ে না থেকে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে নতুনভাবে শুরু করবে। তিনি জানান, আমরা পুরোপুরি অবগত আছি যে, গতকাল ক্রিকেট নামিবিয়ার পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। কিন্তু এটা এখন অতীত এবং আমাদের দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের পুনরায় শুরু করতে হবে এবং আমরা নেটে অনুশীলনে সেই প্রক্রিয়াটি শুরু করেছি।

নামিবিয়ায় ক্রিকেট এখনও খুব জনপ্রিয় খেলা নয়। দেশের কিছু সাফল্যে হয়তো কিছুটা পরিচিতি মিলছে খেলোয়াড়দের। আর ক্রিকেটীয় সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা এসব দিক থেকেও শক্তিশালী দলগুলোর তুলনায় তারা বেশ পিছিয়ে। তবে মাঠের খেলায় হৃদয় দিয়ে খেলে নিজেদের শতভাগ নিংড়ে দেওয়াটা কখনও গড়ে দিতে পারে বড় পার্থক্য।

ডে ব্রুইনের কথায়ও তাই ফুটে উঠল। তার মতে, নামিবিয়া দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা তাদের মানসিক দৃঢ়তা এবং হাল না ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা।

তার মতে, দলের শক্তির জায়গা হল তারা যোদ্ধা। তাদের হৃদয়টা বিশাল। এটা এমন একটি দল যারা কখনই হাল ছেড়ে দেয় না এবং তারা পেছনে ফিরে তাকায় না। আমি মনে করি, আমরা এটা গতকাল দেখেছি। এটাই এই দলের মানসিক দৃঢ়তার গল্প। আপনি কার বিপক্ষে খেলবেন তাতে কিছু যায় আসে না। আপনাকে সবসময় প্রতিপক্ষ দলকে সম্মান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি দলে সবসময় দক্ষতা ও প্রতিভা এবং এসব ব্যাপার থাকেই, কিন্তু হৃদয় দিয়ে খেলা এবং লড়াকু মানসিকতা, কখনও কখনও আপনি একটি দলে এগুলো পাবেন না এবং এসব দিক থেকে এই দলটা দুর্দান্ত। এই দলটি সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক। তারা কেবল একটি ইউনিট যারা একে ওপরকে বিশ্বাস করে ও ভালবাসে, এটা খুব শক্ত একটি ইউনিট।

ইউডি/সিফাত

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading