ফের পুরনো চেহারায় তেজগাঁও: দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিন

ফের পুরনো চেহারায় তেজগাঁও: দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিন

রায়হান আমিন । রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৯:৫৮

প্রতিদিন রাজধানীর যেসব এলাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় ও ফার্মগেট এলাকা। তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় ও ফার্মগেট এলাকার যাত্রীরা যাতে যানজট থেকে পরিত্রাণ পান, সেই লক্ষ্যে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ‘তেজগাঁও সাতরাস্তা-রেলগেট’ সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ‘তেজগাঁও সাতরাস্তা-রেলগেট’ সড়ক বা ‘মেয়র আনিসুল হক সড়ক’টি এখন সচল থাকলে মানুষ ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেত।

আনিসুল হক মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উন্নয়নে যুগান্তকারী বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেসবের মধ্যে অন্যতম ছিল তেজগাঁওয়ে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে প্রশস্ত সড়কটি দখলমুক্ত করা। তাতে ফার্মগেট থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কে নিত্যদিনের যানজট দূর হয়। পুরো এলাকা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন।

আনিসুল হক প্রয়াত হয়েছেন। আর তেজগাঁওয়ের সদা ব্যস্ত সড়কটিও বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে আবারও স্থায়ী স্ট্যান্ড বানিয়ে নিয়েছেন ট্রাক চালকরা। সড়কটির বেশিরভাগ জায়গা চলে গেছে ট্রাকের দখলে। এর ফলে সংকুচিত হয়ে পড়া সড়কে ফিরেছে যানজটের সেই পুরনো চেহারা। এই সড়কে চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। এ নিয়ে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার লেখালেখি হলেও কর্তৃপক্ষ সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করছে।
ট্রাক চালকেরা বলছেন, রাজধানীতে ট্রাক রাখার কোনো জায়গা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। সরকার ট্রাক স্ট্যান্ড তৈরি করে দিলেই তারা আর সড়কে ট্রাক রাখবেন না। অপরদিকে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, একটা আধুনিক ট্রাক স্ট্যান্ড তৈরির জন্য জায়গা চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। সরকার জায়গা বরাদ্দ দিলেই কাজ শুরু করা হবে।

২০১৫ সালে সড়কটি দখলমুক্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন মহলের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনিসুল হক। তার মৃত্যুর পর সড়কটি পুনরায় ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিণত হয়। দুঃখজনক হলো, রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার একটি সড়ক পুরোপুরি ট্রাক-ভ্যানের দখলে চলে গেলেও এটিকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করার তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। পত্রিকায় প্রকাশিত এক সচিত্র প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, বেদখলে থাকার কারণে এ সড়কে এখন দুটি রিকশাও পাশাপাশি চলতে পারে না। দুপাশের ফুটপাত দখলে চলে যাওয়ায় পথচারীরা বিপাকে পড়েছেন। চলাচলে যতই দুর্ভোগ হোক, আশপাশের সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা এখনো এ সড়কেই চলাচল করে থাকেন। আনিসুল হক সড়কের রেল গেট এলাকার শুরুতেই বসেছে লেগুলা স্ট্যান্ড। রাস্তার বেশিরভাগ জায়গা দখল করে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য লেগুনা। প্রায় আড়াআড়িভাবে লেগুনা দাঁড় করিয়ে তোলা হচ্ছে যাত্রী। আর ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার থেকে আসা যানবাহনগুলো যানজটে আটকা পড়ে রেললাইনের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে। ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সড়কটি ২০১৫ সালের আগে আরও করুণ ছিল। দখলের এমন মহোৎসব ছিল যে, এ সড়কে হাঁটাই সম্ভব ছিল না। ডিএনসিসির তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক বহু বাধা ও হুমকি উপেক্ষা করে, সরকারি-বেসরকারি-ব্যক্তিগত সব শক্তি কাজে লাগিয়ে সড়কটি দখলমুক্ত করেছিলেন। সড়কটি সংস্কার করে একে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতেও নিয়েছিলেন যথাযথ পদক্ষেপ। দখলের পাশাপাশি সড়কটিতে এখন চলে মাদকসেবন, বসে জুয়ার আসর। ওই পথে চলাচলকারী পথচারীরাও নানা সময় উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন। প্রশ্ন হলো, এসব যাদের দেখার কথা, তারা কী করছেন? ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতির ভাষ্য, ট্রাকস্ট্যান্ডের অভাবে নিরুপায় হয়ে তারা সেখানে ট্রাক রাখছেন। ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয় না।

অভিযানের পর পুনরায় সড়কটি ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিণত হয়। বস্তুত অভিযান পরিচালনার পর পুনরায় বেদখল হওয়ার চিত্র আরও বহুক্ষেত্রেই দেখা যায়। যেহেতু ‘মেয়র আনিসুল হক সড়ক’টিকে সচল করা সম্ভব হলে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড়, ফার্মগেটসহ আশপাশের এলাকার যাত্রীরা ভয়াবহ যানজট থেকে পরিত্রাণ পাবে, সেহেতু এ সড়কটি সচল রাখতে কর্তৃপক্ষের উচিত বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া। ২০১৫ সালে আনিসুল হক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শৃঙ্খলার স্বার্থে রাজধানীতে বিদ্যমান ট্রাকগুলো রাখার জন্য আধুনিক টার্নিমাল নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন। তিনি তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ডিএনসিসির বর্তমান মেয়রের উচিত প্রয়াত মেয়রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া।

লেখক- সিনিয়র সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading