রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে উপহারের ‘লাইফ সাপোর্ট’ অ্যাম্বুলেন্স
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ২২:০০
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উৎযাপন অনুষ্ঠানে ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশকে ১০৯ টি লাইফ সাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয় ভারত সরকার। যার মধ্যে ২টি অ্যাম্বুলেন্স ওই বছরের শেষের দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়।
অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে কম খরচে, তা ভেবে স্থানীয়দের মাঝে আনন্দের কমতি ছিল না। কিন্তু, এত সুবিধা সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্স দুটি যেন নিজেই রোগী। মানুষকে লাইফ সাপোর্ট সুবিধা দেয়ার পরিবর্তে নিজেরাই যেন দিন দিন চলে যাচ্ছে লাইফ সাপোর্টে। কোটি টাকা মূল্যের অ্যাম্বুলেন্স দুটির দিকে যেন খেয়াল করার মত সময় নেই কর্তৃপক্ষের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপহার হিসেবে পাওয়া লাইফ সাপোর্টসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স দুটি রোগী পরিবহনের কোনো কাজে এখনো ব্যবহার করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের অনীহায় খোলা মাঠেই রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান এ দুটি অ্যাম্বুলেন্স। দীর্ঘদিন না চালানোয় অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ব্যাটারি, চাকাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশও প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। সাধারণ রোগীরা বিভিন্ন সময় আবেদন করেও অ্যাম্বুলেন্স দুটি থেকে পায়নি কোনো সেবা।

সরেজমিনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কম্পাউন্ডে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বরাদ্দ পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল কম্পাউন্ডের পূর্ব পাশে কিডনী ডায়ালাইসিস কমপ্লেক্সের পাশে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এটির চাকাগুলো প্রায় অকোজো। চাকার উপর জন্মেছে আগাছা আর ঘাস। বডির উপরে রংগুলো ধূলাবালিতে মলিন হয়ে আছে। দেখে বুঝার উপায় নেই, এটি এখনো একদিন ও ব্যবহার করা হয়নি।
অন্যদিকে, সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি পাওয়া যায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিমের গ্রামের বাড়ি চাটখিল উপজেলার খিলপাড়ায় তার বাবা-মায়ের নামে করা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ওয়াহাব তৈয়েবা মেমোরিয়াল হাসপাতাল কম্পাউন্ডে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্সগুলো জনসাধারণের জন্য ব্যবহারের কথা থাকলেও তা এভাবে মাসের পর মাস পড়ে থেকে অচল হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় জরুরী প্রয়োজনেও তা পাচ্ছে না কেউ।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক নুর আলমের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ‘সরকার অ্যাম্বুলেন্সগুলো দিছে, কিন্তু এগুলো চালানোর কোন প্রশিক্ষণ দেয়নি। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে আইসিইউর সকল মেশিন দেয়া হয়নি। ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়নি। এ ধরণের অ্যাম্বুলেন্স চালাতে হলে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান। এখানে তার কিছুই দেয়া হয়নি। তাই আমরা এগুলো চালানোর ও সুযোগ নেই। আর, এই অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ায় চাইলেও এগুলো দিয়ে সাধারণ রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা যায় না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভারত সরকার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রহণ করি। কিন্তু এটা চালাতে যেসব ইন্সট্রুমেন্ট দরকার তার সবকিছু এখানে দেয়া হয়নি। আমরা আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সব ইন্সটুমেন্ট পেয়ে যাবো। আমাদের হাসপাতালে আইসিউ সেবা চালু হলেই আমাদের লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সটি চালু হবে। আমরা একটা প্রশিক্ষিত টিম তৈরী করবো।

এই অ্যাম্বুলেন্সটি একদিন ও ব্যবহার করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইসিউ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জরুরীভাবে কেউ এখনো ডিমান্ড করেনি। ডিমান্ড করলে আমরা তখন এটি চালানোর কথা ভেবে দেখবো।
অন্যদিকে, সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটির বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে ও সচল আছে। এটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল পেলে এটি চালু করা হবে।
ইউডি/আতা

