বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে ৯২১ পাসওয়ার্ড হামলা
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৯ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৮:০০
বিশ্বে ক্রমেই বেড়ে চলেছে পাসওয়ার্ড হামলা। প্রতি সেকন্ডে ৯২১টি পাসওয়ার্ড অ্যাটাক হচ্ছে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফ্টের একটি সমীক্ষা। সমীক্ষা বলছে, পাসওয়ার্ড হামলার হার ৯৪ শতাংশ বেড়েছে এই এক বছরে।
মাইক্রোসফ্টের ‘ডিজিটাল ডিফেন্স রিপোর্ট ২০২২’-এ বলা হয়েছে, অ্যাটাকাররা নতুনত্ব প্রযুক্তিকে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন পন্থা রোজই আবিষ্কার হচ্ছে। ফলে পাসওয়ার্ড অ্যাটাক রোখা ঘিরে জটিলতা বাড়ছে। ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত যাবতীয় তথ্যে দেখা গেছে, রিমোট ম্যানেজমেন্ট ডিভাইসে এই আক্রমণ বাড়ছে। শুধুমাত্র এই বছরের মে মাসেই ১০০ মিলিয়ন অ্য়াটাক হয়েছে বলে সমীক্ষায় পর্যবেক্ষণ করা গেছে। বিভিন্ন বিজনেজ নেটওয়ার্কের সমঝোতা করে এই হানার কারবার চালাচ্ছে হামলাকারীরা।
সমীক্ষা বলছে, ‘নিজের কম্পিউটং পাওয়ারকে ব্যবহার করে তারা ক্রিপ্টোকারেন্সির খনিতেও হাত বাড়াচ্ছে।’ বলা হচ্ছে, মানবচালিত র্যানসামওয়্যার এই অ্যাটাকারদের অন্যতম হাতিয়ার। র্যানসামওয়্যারের হাত ধরে অন্তত এক তৃতীয়াংশ পাসওয়ার্ড অ্যাটাক হয়ে থাকে। ব়্যানসামওয়্য়ারের থেকে দূরে থাকতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর প্রতিকার হচ্ছে মাল্টিফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন। এছাড়াও বারবার সিকিউিরিটি প্যাচ, নেটওয়ার্কের মধ্যে সহজে বিশ্বাস করার রাস্তায় না হাঁটারও পরামর্শ দিচ্ছে সমীক্ষার পর্যবেক্ষণ।
মাইক্রোসফ্ট বলছে, এখন পর্যন্ত তারা ১০০০০ ডোমেইনস বাতিল করেছে অই সমস্যা থেকে বের হতে। যেগুলো সাইবার অপরাধীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ৬০০টি এমন ডোমেন মাইক্রোসফ্ট পেয়েছে যেখানে দেশের থেকেই কেউ হ্যাকিংয়ের রাস্তায় হেঁটেছিল। ফলে স্বভাবতই পাসওয়ার্ড নিয়ে সতর্ক হতে বলা হচ্ছে সংস্থার পক্ষ থেকে।
তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে প্রয়োজনীয় সব তথ্যই এখন ইমেইলে আদান প্রদান করা হয়ে থাকে। সময় বাঁচাতে সহজেই এখন করা যায় মোবাইল ব্যাংকিং। এসব কিছুই সুরক্ষিত রাখতে আমরা ব্যবহার করি পাসওয়ার্ড। তবে একটু ভুলের কারণেই খোয়া যেতে পারে আপনার পাসওয়ার্ডটি। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউআরএলের কথা। প্রত্যেক ওয়েবসাইটের নিজস্ব একটি মৌলিক ঠিকানা থাকে। এ ঠিকানা ইউআরএলে লেখা থাকে। এ ধরনের হ্যাকিং থেকে বাঁচতে লগ ইন করার আগে খতিয়ে দেখতে পারেন সংশ্লিষ্ট ইউআরএল। কোনও রকম সন্দেহ হলেই এসব ওয়েবসাইটে লগ ইন করা থেকে বিরত থাকুন।
হ্যাকাররা ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের জন্য পাসওয়ার্ড যে কোনো সময় হ্যাক করে ফেলতে পারে। এ সম্পর্কে আপনার ধারণা কম থাকলে সেই দুর্বলতাই পাসওয়ার্ড হ্যাক করতে কাজে লাগায় হ্যাকাররা। পাসওয়ার্ড হ্যাকারের দখলে চলে যাওয়া মানে আপনার ব্যক্তিগত সব তথ্য জনসম্মুখে চলে আসা। যা ব্যবহার করে হ্যাকাররা অনেককেই ব্লাকমেইল করে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এর মাধ্যমে আপনার ব্যাংকের ব্যালেন্সও নিমিষেই শূন্য হয়ে যেতে পারে।
ইউডি/কেএস

