খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা

খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৯:০৫

বাংলার গ্রামপল্লীর গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুরের রস। খেজুর রসের মাটির ভাড়ে করেই যেন আসে শীতের আগমনী বার্তা। এখনো শীত পুরোপুরি না নামলেও আগেভাগেই শুরু হয়ে গেছে খেজুর গাছ পরিচর্যার (তোলা ও ঝোড়া) কাজ। শীতের আগমনী বার্তায় ঝিনাইদহের গাছিরা এখন খাজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী ৪ মাস চলবে এ কর্মযজ্ঞ।

ঝিনাইদহ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১৫ হাজার ৭শ ৫২ জন খেজুর গাছি ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় গাছ কাটা শুরু করেছে। জেলায় এ বছর ১ লাখ ১৩ হাজার ৪শ ১৫টির বেশি খেজুর গাছ থেকে ৫৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮শ ২৫ লিটার রস ও ৫শ ৮০ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টনের বেশি গুড় পাওয়া যাবে। যেখানে সদর উপজেলায় রয়েছে ৪৭ হাজার ৩শ ৮০টি, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১১ হাজার , কোটচাঁদপুর ২০ হাজার ২শ ২৫টি, মহেশপুরে ১০ হাজার ৮শ ৯০টি, শৈলকুপায় ১৪ হাজার ৩শ ৪৫টি, হরিণাকুন্ডুতে ৯ হাজার ৫শ ৫০টি খেজুর গাছ রয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবু তালেব বলেন, ৩০ বছর ধরে খেজুরের গাছ কেটে বছরের ৬ মাস সংসার চালান। এ বছরও ১২০টির বেশি খেজুরের গাছ তোলার (পরিচর্যার) কাজ শুরু করেছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি ছুটে চলেছেন এক গাছ থেকে অন্য গাছে। গ্রামের একমাত্র গাছী তিনি। বয়সের ভারে গাছে উঠতে কষ্ট হলেও এই রস ও গুড় বিক্রয় করে আগামী ৬মাস চলার আশায় পরিশ্রম করছেন।

আরো বলেন, ১০ ঠিলে (কলস) রস থেকে এক ঠিলে গুড় হয়। একটি গাছ থেকে এক সিজনে প্রায় ১২০-১৪০ ঠিলে রস আহরণ সম্ভব। ভোরে যেমন রসের কদর আছে ঠিক তেমনি গুড়ের কদরও কম না। এক ঠিলে রস ১২০ টাকা করে বিক্রয় হয়। অন্যদিকে এক কেজি নলেন গুড়ের দাম প্রায় ১৮০-২০০ টাকা। এখন বর্তমানে এক ঠিলে গুড় বিক্রি হয় হাজার ১২শ টাকায়। শীতের সময়ে গুড় ও রস বিক্রয় করে সংসারটা ভালোই চলে।

জানা যায়, তার মতোই গ্রামে গ্রামে চলছে গাছ কাটা বা গাছ তোলার ধুম। দা ধার দেওয়া, ঠিলে ও নলি তৈরি করা সহ আরও প্রস্তুতি। আগামী ৪ মাস এই গাছগুলোই তাদের রুজি-রুটি যোগাবে। গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানান, শীতের সময় আসলে তাদের বন্ধুরা রস খেতে গ্রামে আসে। শহরের কিছু বন্ধু রস খাওয়ার আগে জানতোই এই রস এত মজা।

ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুরের গাছী আব্দুল কাদের জানান, গ্রাম বাংলার সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক এ খাত এই পেশায় সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আবার এই কাজে কঠোর পরিশ্রম হওয়ায় বর্তমান যুব কৃষকেরা আগ্রহ হারাচ্ছে। যার কারণে আগামীতে খেজুর গুড় ও রস বিলুপ্ত হবার পথে বলেও মনে করেন।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আজগর আলী বলেন, মধু বৃক্ষ থেকে সংগ্রহ হবে সুমিষ্ট ও স্বাস্থ্যসম্মত, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ রস। তাতে তৈরি হয় নলেন গুড় ও পাটালী। এই জেলা থেকে যে রস উৎপাদন হয় তার ৩০ ভাগ রস খাওয়া হয় এবং বাকি ৭০ ভাগ রস দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জেলায় রস উৎপাদানের টার্গেট রয়েছে ৫৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮শ লিটার । আর গুড় উৎপাদনের টার্গেট ৫৮১ মেট্রিক টন। চিনি থেকে খেজুরের রস বা গুড় অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত ।

ইউডি/আতা

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading