যুবকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী: দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করুন
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১১ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ২০:২০
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশপ্রেম এবং দেশ ও জনগণের প্রতি কর্তব্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানাই যে, দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাদের কর্তব্য। আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে দেশের মানুষ এখন নতুন করে একটি সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের আশা দেখছে। এই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে, যুবকরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কেননা তারাই দেশ গড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে যুবলীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগ আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
সারাদেশে আইটি পার্ক, হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তুলে তার সরকার যুব সমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তুলছে যেটা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সম্ভব ছিলনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, ঐ এইট পাশ দিয়ে আর মেট্রিক ফেল দিয়ে দেশ চালালে দেশের উন্নতি হয়না।তিনি বলেন, আজকে তরুণ সমাজকে বলবো তাদের দায়িত্বই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যুব লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তোলার জন্য।
তরুণের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি। কাজেই আজকে যুবকদের দেশ গড়ার কাছে মনোযোগী হতে হবে। দেশের সেবা করতে হবে। মানুষের সেবা করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি যুবলীগের প্রত্যেকটা নেতা-কর্মীকে বলবো যে, যারা এখানে আছেন বা বাইরে আছেন সকলে নিজের গ্রামে যান এবং সেখানে কোন জমি যাতে অনাবাদী না থাকে সেটা নিজেদের দেখতে হবে। নিজের জমি যেমন চাষ করতে হবে তেমনি অন্যের জমিতেও যাতে উৎপদন হয় সেই ব্যবস্থাটা প্রত্যেকটা যুবলীগ কর্মীকে করতে হবে। সারাবিশ্বে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি থাকলেও বাংলাদেশে যাতে কোন দুর্ভিক্ষ আসতে না পারে সে ব্যবস্থা আমাদের এখন থেকেই করতে হবে।
রিজার্ভ কাজে লাগাতে হবে: বর্তমানে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে বিএনপি রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে, কিন্তু ’৯৬ সালে তিনি যখন সরকার গঠন করেন এরআগের বিএনপি সরকার রিজার্ভ রেখে গিয়েছিল ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে তাঁর সরকার করোনাকালিন ৪৮ বিলিয়ন ডলারে রিজার্ভ উন্নীত করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে খাদ্য শস্য, করোনার টিকা এবং ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানী করতে গিয়ে রিজার্ভ ব্যবহার করতে হয়েছে। তারপরেও ৮ বিলিয়ন আমরা আলাদাভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছি। কেননা রিজার্ভতো জমিয়ে রাখলে হবেনা সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। তাঁর সরকার নিজেদের অর্থে বিমান ক্রয় করেছে এবং বাংলাদেশ বিমান এই টাকা ঋণ নিয়েছে এবং ২ শতাংশ সুদে ফেরত দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি নেতাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা শোভা পায় না: বিএনপি নেতাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা শোভা পায় না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেখি যে, বিএনপির অনেক নেতা মানিলন্ডারিংয়ের কথা বলে, লুটপাটের কথা বলে, দুর্নীতির কথা বলে। এখানে আমি যুবলীগের নেতাকর্মীদের জানাতে চাই আজকে তারেক জিয়া তার শাস্তি পেয়েছে মানিলন্ডারিং এর কেসে। তার বিরুদ্ধে আমেরিকা থেকে এফবিআই এর লোক এসে বাংলাদেশে সাক্ষী দিয়ে গেছে। মানি লন্ডারিং কেসে সাত বছর সাজা, বিশ কোটি টাকা জরিমানা আর গ্রেনেড হামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি তার জন্যও সে সাজাপ্রাপ্ত। যাদের নেতাই হচ্ছে খুন, মানিলন্ডারিং, অবৈধ অস্ত্র চোরাকারবারি মামলার আসামি তাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা শোভা পায় না।জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া খুনীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি দিয়ে যেভাবে রক্ষা করেছিল তেমনি খালেদা জিয়া অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে হত্যার ক্ষেত্রে তাদেরকে ইনডেমনিটি দিয়ে গেছে। অর্থাৎ খুনিদের লালন-পালন করাটা ওদের চরিত্র।

প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশ পারে: বিএনপি সরকারের রেখে যাওয়া দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে তাঁর সরকার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে এখন আর মঙ্গা হয়না। তার সরকার সেটা দূর করতে পেরেছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়ে রাস্তা-ঘাট, পুল, ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাফল্য নিয়ে এসেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে ৭ নভেম্বর সারাদেশে ১শ’ সড়ক সেতু একযোগে উদ্বোধনে তাঁর সরকারের সাফল্যের উল্লেখ করে বলেন, আমরা প্রমাণ করেছি বাংলাদেশ পারে।
উৎসবমুখর এই আয়োজনে এরই মধ্যে সারাদেশ থেকে লাখ লাখ যুবক মিলিত হয়েছেন। কেউ লাল সবুজ এবং কেউ হলুদ রঙের টিশার্ট ও ক্যাপ পরে সেজে এসেছেন। মিছিলে মিছিলে ঢাকঢোল পিটিয়ে সোওহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিলিত হন তারা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, মল চত্বর, শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ, মৎস্য ভবন, রমনা ও তার আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর দুইটা ৪০ মিনিটে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী যুবলীগের ৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সঞ্চালনা করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন খান নিখিল।শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম ও হারুনুর রশিদ প্রমুখ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সভায় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয়, জেলা ও নগর যুবলীগের নেতা-কর্মী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
ইউডি/সুপ্ত

