বিশ্বাস-ই হচ্ছে বাংলাদেশ-তুরস্কের সম্পর্কের ভিত্তি: রাষ্ট্রদূত
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:১৫
তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান মনে করেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে তুরস্কে মিলিটারি ক্যুর চেষ্টা করা হয়। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম নেতা, যিনি আমাদের প্রেসিডেন্টকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এটি বিশ্বাস না থাকলে হতো না। বুধবার (১৬ নভেম্বর) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত মিট দি এম্বেসাডর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
২০১৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির মতিউর রহমান নিজামির ফাঁসি কার্যকরের পর বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয় তুরস্ক। বাংলাদেশও ওই সময়ে তার রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে পাঠায়। এই গোটা বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি ছিল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। তুরস্কে আমাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে।
তিনি বলেন, বন্ধুদেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা আমরা চেয়েছিলাম এবং আমরা আমাদের পরামর্শ দিয়েছিলাম। কোনোভাবেই আমরা অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে নাক গলাতে চাইনি। কিন্তু বিষয়টি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে আমরা রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিই। যখনই বিষয়টি কিছুটা ঠিক হয়ে আসে, তখন আমরা আমাদের রাষ্ট্রদূতকে ফেরত পাঠাই।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় তুরস্ক: এদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় তুরস্ক। এ জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করতেও তারা রাজি বলে জানিয়েছেন তুস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান। আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার, রকেট লঞ্চার, ড্রোনসহ আরও অনেক পণ্য বাংলাদেশ কিনেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তুরস্কের একটি কোম্পানি বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে শেল বানানোর প্রযুক্তি দিয়েছে এবং সেটি এখানে বানানো হচ্ছে।
নেভি ও কোস্টগার্ডের জন্য নতুন প্রস্তাব বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা পেট্রোল বোট তৈরির জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব করেছি। এটি গ্রহন করা হলে নয়টি পেট্রোল বোট খুলনা ও চিটাগাংয়ে তৈরি করা হবে। গত ১৫ বছরে তুরস্তের কোম্পানিগুলো প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদনে অনেক উন্নতি সাধন করেছে। তারা এখন ন্যাটো মানের পণ্য উৎপাদন করছে এবং শর্ত ছাড়া সুলভ মূল্যে এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ইউডি/সুপ্ত

