ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল বাড়ালেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল বাড়ালেন ট্রাম্প


উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (২২ এপ্রিল) ২০২৬, আপডেট ১১:০০

ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা এই যুদ্ধ নিরসনে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, তিনি পাকিস্তানের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের নেতা ও প্রতিনিধিরা যতক্ষণ পর্যন্ত একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে না পারছেন, ততক্ষণ দেশটির ওপর আমাদের আক্রমণ স্থগিত রাখতে আমি সম্মত হয়েছি।’


যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইরানের বন্দর ও উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর চলমান অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, এই অবরোধকে শুরু থেকেই ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে ইরান। ট্রাম্পের এই ঘোষণা একপাক্ষিক কি না বা এতে মার্কিন মিত্র দেশ ইসরায়েল কিংবা ইরান একমত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, ইরান কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেনি। তারা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।


ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে একটি ‘চাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো মূলত একটি আচমকা হামলার জন্য সময় বাগিয়ে নেয়ার কৌশল। ইরানের এখন পালটা উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব জমা না পড়া পর্যন্ত এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা যেকোনো এক দিকে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবেন।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading