জনগণের পায়ের আওয়াজ শুনুন : রিজভী
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৫:২৪
‘শেষ রক্ষা পেতে এবং ক্ষমতা দখলে রাখতে সরকার আবারো সেই পুরোনো খেলা শুরু করেছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বলেছেন, ‘আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ ফুঁসে উঠেছে। তাদের সব অন্যায়-অবিচার, অপকর্মের বিচার দেশের জনগণ করবেই। আর যারা এই নিশিরাতের সরকারকে সহযোগিতা করছেন তারা এসব বন্ধ করুন। জনগণের পায়ের আওয়াজ শুনুন। শেষ রক্ষা পেতে সরকার আবারও সেই পুরোনো খেলা শুরু করেছে।’
বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘গত রোববার ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ২০১৮ সালের শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দীন অপুকে দুদুকের একটি মামলায় ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ। বিএনপির একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে এমন নিপীড়ন-নির্যাতন-অসম্মান নজীরবিহীন।
‘কোনো সভ্য সমাজে এই ধরনের জুলুম-নির্যাতন-ডান্ডাবেড়ি পরানোর মতো ন্যক্কারজনক ঘৃণ্য-বর্বরোচিত চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজ হতে পারে না। মিয়া নূর উদ্দিন অপু কোনো খুন বা ডাকাতি মামলার আসামি নন। তিনি বর্তমান সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার আসামি,’ দাবি করেন রিজভী।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ কারাবন্দিদের জন্য রাষ্ট্রের তরফ থেকে অনুসৃত যে ন্যূনতম নীতিমালা তৈরি করেছে সেখানকার ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদে ডান্ডাবেড়ি পরানোকে অমানবিক বলা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ এবং ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশের হাইকোর্ট বেঞ্চ কোনো আদালতের এজলাসে বিচারাধীন আসামিকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে কাঠগড়ায় তোলার বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে, জামিনও দেয়া হচ্ছে না—যা অমানবিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
রিজভী অবিলম্বে মিয়া নুর উদ্দিন অপুর মুক্তি প্রদান এবং ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাতে হ্যান্ডকাফ দিয়ে আদালতে তোলার জন্য দায়ী কারাকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, যুববিষয়ক সহসম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/এআই

