পাহাড়ে বর্ণিল সাজে শান্তি চুক্তি পালন
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:৪০
শুক্রবার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি দিবস। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে এ শান্তি চুক্তি করা হয়। বর্ণিল সাজে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির রজত জয়ন্তী পালন করছে পাহাড়ের মানুষরা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ মাঠে থেকে শোভাযাত্রা বের করে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা তরুণী- শিশুসহ সকল বয়সীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গয়না দিয়ে সেজে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। নেচে-গেয়ে শোভাযাত্রাকে মাতিয়ে রাখেন তারা।
শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোরর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।
কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংর্ঘাত বন্ধ করার জন্য এটাকে একটি রাজনৈতিক সমস্যা চিহৃ করে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়। শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর আজ ২৫ বছর পূর্তি হল।
বান্দরবান
জেলা পরিষদের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় সামনে থেকে বেলুন উড়িয়ে র্যালি উদ্বোধন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জিয়াউল হক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈহ্লা।
ম্রো, ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমীসহ ১১টি জাতি-গোষ্ঠীর নিজস্ব পোশাক, বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে প্ল্যাকার্ড-ব্যানার, ফেস্টুন হাতে শত-শত নারী-পুরুষ র্যালিতে অংশগ্রহণ করে।
পরে টাউন হলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈহ্লার সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষী পদ দাশের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।
অনুষ্টানে অতিথি ছিলেন বান্দরবান ৬৯ পদাতিকের ব্রিগেড কমান্ডার মো. জিয়াউল হক, সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মো. শফিকুর রহমান, বান্দরবান ডিডিএলজি লুৎফুর রহমান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রধান এটিএম কাউছার, পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র মো. ইসলাম বেবী, সিভিল সার্জন ডা. নিহার রঞ্জন নন্দী, জেলা পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, ক্যাসা প্রু, সিং ইয়ং ম্রো, সিং ইয়ং খুমী।
এছাড়াও বান্দরবান রাজার মাঠে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, প্রদান, গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ, জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, সন্ধ্যায় সাউথ এশিয়ান কারাতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ইউডি/কেএস

