ওষুধের দাম বৃদ্ধির ‘অসুখ’ সারাবে কে?

ওষুধের দাম বৃদ্ধির ‘অসুখ’ সারাবে কে?

শোয়েব শাহরিয়ার । বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৮:০০

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চলমান কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে বাজারে আরও বেড়েছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দামও। এ নিয়ে কয়েক দফা ওষুধের দাম বাড়ানো হলো সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে। এছাড়াও ফার্মেসিভেদেও দামের মূল্য পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো ওষুধের দাম ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণও রাখা হয়- যা রীতিমতো অন্যায়। তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই ৫৩টি ওষুধের দাম পুননির্ধারণ করে সরকার। এই তালিকায় ছিল প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, এমোক্সিলিন, ডায়াজিপাম, ফেনোবারবিটাল, এসপিরিন, ফেনোক্সিমিথাইল, পেনিসিলিনসহ অন্যান্য জেনেরিকের ওষুধ।

২০১৩ সালের পর ওই ওষুধগুলোর দাম বাড়ানো হয়। গত ছয় মাসে এসব ওষুধের দাম ১৩ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, এন্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত। দেশের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্যমতে, চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে প্রতি বছর দেশে ৮৬ লাখ মানুষ আর্থিক সমস্যায় পড়ে। ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে ১৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেয়া থেকে বিরত থাকে। ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ওষুধ রপ্তানি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে এ দেশ।

আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ১৫১টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। দেশের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা মিটিয়ে এসব দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এটা দেশের জন্য ইতিবাচক দিক। এই ইতিবাচক সংবাদের মধ্যে দুঃখজনক সংবাদ হচ্ছে, ঢাকা শহরের অনেক ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে- যা রোগীর জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত বাজার তদারকির ব্যবস্থা না থাকলে ওষুধের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ওষুধ কেনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। প্রশ্ন উঠতে পারে ডলার সংকটের কারণে ওষুধের কাঁচামাল আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সে জন্য কি প্রায় সব ধরনের ওষুধের দাম বেড়ে যাবে? ওষুধের কাঁচামাল আমদানি সংকট কি শুরু হয়ে গেছে? নাকি এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি।

গত কয়েক বছরে এই খাতের উন্নতি বেশ দৃশ্যমান এভাবে অযৌক্তিকভাবে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এভাবে লাগামহীনভাবে যদি ওষুধের দাম বাড়তেই থাকে তা হলে সাধারণ রোগী, যারা স্বল্প আয়ের মানুষ এবং প্রবীণরা অবসরে আছেন তাদের অবস্থা কী হতে পারে। জীবনরক্ষাকারী ওষুধসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতার মধ্যে যাতে থাকে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

লেখক: সমাজ গবেষক।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading