মোদিকে ‘কসাই’ ডাকল পাকিস্তান, জবাবে ১৯৭১ মনে করালো ইন্ডিয়া
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:১০
১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ বা ২০১৯ এর পুলওয়ামা আক্রমন। দুটো ঘটনার কথা মনে পড়লেই মানুষের চোখে ভাসে নৃশংসতা। ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আধিপত্ব নিয়ে দু দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন শত-শত সামরিক-বেসামরিক মানুষ। এরপর বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের মধ্যে চলমান বিতর্কের যেন শেষ নেই।
এরই মধ্যে ‘বিষাদের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভূট্টো। তিনি ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদিকে ‘গুজরাটের কসাই’ বলে সম্মোধন করেছেন। এর পরই শুরু হয় দুদেশের বাকযুদ্ধ। ইন্ডিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিলাওয়াল ভূট্টোর এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।
গত ১৫ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জাতিসংঘের সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘‘পাকিস্তান মূলত ‘সন্ত্রাসীদের আশ্রয়কেন্দ্র’। ২০০১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে অ্যাবোটাবাটে আশ্রয় দিয়েছিল পাকিস্তান। বারবার ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিকীতরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
‘হিলারি ক্লিনটন পাকিস্তান সফরের সময় বলেছিলেন, আপনি নিজের উঠানে সাপ পুষবেন, অথচ ভাববে সেটা শুধু পড়শিকেই কামড়াবে, তা হয় না। সেই সাপ শেষ পর্যন্ত যারা পোষে তাদেরকেই কামড়ায়’ যোগ করেন জয়শঙ্কর।
এর আগে জয়শঙ্কর পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বলেছিলেন, ‘বিশ্ব গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার অনেক আগেই সীমান্তের ওপারের সন্ত্রাসের আতঙ্ক মোকাবিলা করেছে।’
মূলত জয়শঙ্করের বক্তব্যের পরই বিলাওয়াল ভূট্টো নরেন্দ্র মোদিকে ‘গুজরাটের কসাই’ সম্মোধন করেন। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে দাড়িয়ে পাকিস্তানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন। কিন্তু গুজরাতের কসাই এখনও জীবিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’
২০০২ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মানুষ মারা যায়, যাদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। ওই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।
ওই দাঙ্গা ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মোদির বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত তার আমেরিকা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
বিলাওয়াল ভূট্টো বলেন, ‘ইন্ডিয়া সরকার মহাত্মা গান্ধীর মতাদর্শে বিশ্বাস করে না, বরং তার গুপ্তঘাতকের মতবাদে বিশ্বাসী। ইন্ডিয়া সরকার হিটলারের দ্বারা প্রভাবিত।’
তার এসব বক্তব্যের পর প্রতিবাদ জানায় ইন্ডিয়া। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। দিনটির দিকে ইঙ্গিত করে ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্যই ১৯৭১ সালে আজকের দিনটির কথা ভুলে গেছেন। বাঙালি ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার যে গণহত্যা চালিয়েছিল, তার ফলেই ১৬ ডিসেম্বর এসেছিল। নিজ দেশের সংখ্যালঘুদের সঙ্গে পাকিস্তানের আচরণ এখনো বদলায়নি বলে মনে হচ্ছে।’
সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিউইয়র্ক, মুম্বাই, পুলওয়ামা, পাঠানকোট ও লন্ডনের মতো শহরগুলো পাকিস্তানের মদদপুষ্ট, সমর্থিত ও প্ররোচিত সন্ত্রাসীদের হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। এই সহিংসতার সূচনা তাদের (পাকিস্তান) বিশেষ সন্ত্রাসী অঞ্চলগুলো থেকে এবং তা বিশ্বের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। “পাকিস্তানে তৈরি” সন্ত্রাসবাদ থামাতে হবে।’
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ওসামা বিন লাদেনের তুলনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটির ক্ষমতাসিন দল ভারতীয় জনতা পার্টি- বিজেপি। তারা শনিবার দেশের কয়েকটি রাজ্যে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এ সময় বিলওয়াল ভূট্টোর কুশপত্তিলিকা দাহ করা হয়।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিলওয়ালের দাদু জুলফিকার আলি ভূট্টোর নির্দেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হত্যা ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছিল।
ইউডি/এ

