অবশেষে মেসির হাতে স্বপ্নের বিশ্বকাপ
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১১:০০
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর শিরোপা জিতেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিট পর্যন্ত ৩-৩ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি ফলাফল নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে, সেখানে ৪-২ গোলে জয় পায় লাতিন আমেরিকার দেশটি। এ নিয়ে আসাদুজ্জামান সুপ্তর প্রতিবেদন
টানটান উত্তেজনাময় শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল: আর্জেন্টিনার শিরোপা খরা কাটানোর বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি দলটির প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ গ্রহণ। আর্জেন্টাইন এই জাদুকরের ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা ছিলো বিশ্বকাপ ট্রফি, আর কাতারে এসে নিজের শেষ বিশ্বকাপ আসরে সেই আক্ষেপ মেটালেন তিনি। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ভক্তদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ছিলো দেখার মতো। এর আগে ২০১৪ সালে সুযোগ পেয়েও জার্মানির কাছে হেরে তা মিস হয়ে যায়। এবার আর সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি তিনি। নিজের শেষ বিশ্বকাপে সবকিছুই উজার করে দিয়েছেন এই জাদুকর। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে তার দেয়া গোলেই এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তারা। একই সঙ্গে ৯২ বছরের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের সব পর্বে গোল করার অন্যান্য এক রেকর্ড গড়েন মেসি। বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপপর্ব, রাউন্ড অব সিক্সটিন, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে গোল করে এই রেকর্ড গড়েন সাতবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ফাইনালে দুই গোল করায় আসরে মেসির গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ৭টি। পাঁচ আসর মিলিয়ে তার গোল হলো ১৩টি। সঙ্গে অ্যাসিস্ট আছে ৮টি। যেখানে গোলের দিকে ছাড়িয়ে যান পেলেকে আর অ্যাসিস্টে স্বদেশি কিংবদন্তি মেরাডোনাকে। রবিবার ফাইনালে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার (২৬) রেকর্ড গড়ে মেসি টপকে যান জার্মানির লোথার ম্যাথিউসকে।

টাইব্রেকারে হিরো মার্তিনেস: টানটান উত্তেজনার ম্যাচে টাইব্রেকারের হিরো আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস! তার নিদারুণ দক্ষতায়ই মূলত ২০০৬ সালের পর আরও একবার বিশ্বকাপ ফাইনালে টাইব্রেকারে ম্যাচ হারল ফ্রান্স। রবিবার ফ্রান্সের প্রথম শট নেন কিলিয়ান এমবাপে। বুলেট গতির শটে জাল খুঁজতে সমস্যা হয়নি তার। আর্জেন্টিনার প্রথম শট নেন লিওনেল মেসি। ঠিক দিকেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন হুগো লরিস কিন্তু ঠেকাতে পারেননি।ফ্রান্সের দ্বিতীয় শট নিলেন কিংসলে কোমান। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেস। আর এখানেই মোমেন্টাম খুঁজে পায় আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় শট নেন পাওলো দিবালা যার জাল খুঁজে পেতে সমস্যা হয়নি। ফ্রান্সের তৃতীয় শট নেন অহেলিয়া চুয়ামেনি চুয়ামেনি। তিনি মারলেন বাইরে। আর তাতেই মূলত শিরোপা রেসে ছিটকে পরার পেরেক মারেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে তৃতীয় শট নেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস। তিনি খুঁজে নেন জাল। ৩-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সের চতুর্থ শটে গোল করলেন রন্দাল কোলো মুয়ানি। তখনও টিকে থাকে ফরাসিদের আশা। আর আর্জেন্টিনার হয়ে চতুর্থ ও জয়সূচক শট নেন গনসালো মনতিয়েল। আর তখনই বিশ্ব জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে মেসির দল। ৩-৩ গোলে মূল ম্যাচ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা! অবসান হলো ৩৬ বছরের অপেক্ষার।

১৯৮৬ থেকে ২০২২, দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান: অবশেষে আর্জেন্টিনার তিন যুগের প্রতিক্ষার অবসান ঘটলো। আলবিসেলেস্তারা সবশেষ বিশ্বকাপ ট্রফি পেয়েছিল ১৯৮৬ সালে। আর ৩৬ বছর পর মেসি-মার্তিনেজ-আলভারেজরা এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বের চতুর্থ দল হিসেবে তিন বা তার বেশি বিশ্বকাপ জেতার নজির তৈরি করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কাতারের বিমানে উঠে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে। সেই যাত্রা থেমে যায় গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই, সৌদি আরবের বিপক্ষে অভাবনীয় হারে। তাদের জন্য হারটা যেন ছিল জ্বলে ওঠার জ্বালানী হয়ে ওঠে। লিওনেল মেসির সফল স্পট কিকে ফাইনালের ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি পাওয়ার নেপথ্যে ছিলেন আনহেল দি মারিয়া। ৩৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দি মারিয়া। এখানেও জড়িয়ে মেসির নাম, অ্যাসিস্ট করেন তিনি। এরপর ম্যাচের ৮০ ও ৮১ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে দুই গোল দিয়ে সমতায় ফেরালে ১০৮তম মিনিটে দলকে আবারও এগিয়ে দেন সেই মেসি। আর ওই গোলে বিশ্বকাপের আসরে মেসির গোল দাঁড়ায় ১৩টি। কিন্তু ১১৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক নিয়ে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরায় এমবাপে। পরবর্তীতে ফল নিশ্চিত হয় টাইব্রেকারে।
ইউডি/এজেএস

