‘সারা দেশের জন্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রয়োজন’
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৯:০০
শুধু পার্বত্যবাসীদের জন্য নয়, সব বাঙালি ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
তিনি বলেন,‘পাহাড়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এই জন্য নয় যে পাহাড়িরা সেটিকে অনিরাপদ করে তুলেছে। এটি এ জন্য যে সেখানে জঙ্গিগোষ্ঠী ট্রেনিং ক্যাম্প তৈরি করেছে। এরা দেশের অভ্যন্তরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এটি প্রমাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি শুধু পার্বত্যবাসীদের জন্য নয়, সব বাঙালি ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রয়োজন। এই শান্তিচুক্তির জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই ইউনেসকো শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তি নাই।’
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি’ আয়োজিত গণমিছিল শেষে গণসমাবেশে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এ লড়াইকে যদি আমরা বাংলাদেশের মূল ধারার লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে পারবো না। একসময় আমরা এটি পেরেছিলাম। আমরা পেরেছিলাম বলে ১৯৯১-তে যখন বিএনপি সরকার গঠন করে, এই পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না, তার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং এর পেছনে কাজ করেছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম অধিকার সংরক্ষণ কমিটি। তখন মনে হয়েছে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব যেন শুধু পার্বত্য মানুষের। কিন্তু দায়িত্ব শুধু পাহাড়ি মানুষের নয়, এই দায়িত্ব বাংলাদেশের সব মানুষের, সব গণতান্ত্রিক শক্তির। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ হলে কেবল বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ হয় এমন নয়, বাংলাদেশ অনিরাপদ হয়ে পড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হলে কী হবে, তা আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। দেশের অভ্যন্তরে যেই জঙ্গিদক্ষতা, তাদের কিছু অংশ সেটার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।’
এ সময় বক্তব্য দেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসেন প্রিন্স, বাসদ সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য ড. গন্ধরাজ মাহাত, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রুপা কবির, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলিক মৃ, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলসহ আরও অনেকে।
ইউডি/এ

