বাংলাদেশ নিয়ে রুশদের ‘ইট’ মার্কিনীদের ‘পাটকেল’

বাংলাদেশ নিয়ে রুশদের ‘ইট’ মার্কিনীদের ‘পাটকেল’

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১০:৪০

বিশ্বমোড়লদের দুই পরাশক্তি আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যকার বৈরি সম্পর্কের রেশ এবার বাংলাদেশেও। ঢাকায় দেশ দুটির দূতাবাস তৃতীয় কোনো দেশের ‘অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ’ নিয়ে বাহাসের সৃষ্টি করেছে, যে আলোচনার কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ’। এ নিয়ে মিলন গাজীর প্রতিবেদন

রুশদের টুইটে সরব কূটনৈতিকপাড়া: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনৈতিক বিশেষ করে আমেরিকাকে ইঙ্গিত করে একটি বিবৃতি দেয় ঢাকার রুশ দূতাবাস। তারা সেখানে বলে গণতন্ত্র বা অন্য কোনো অজুহাতে বাংলাদেশসহ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। আর এই বিষয়ে রাশিয়া তার নীতিগত অবস্থানে সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের মতো অনেক রাষ্ট্র বিদেশি শক্তির নেতৃত্ব অনুসরণ না করে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের জন্য তাদের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করে। রাশিয়া তাদের আকাক্সক্ষাকে সমর্থন করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তারা শুধু জাতিসংঘের সার্বভৌম সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপই করে না, বরং অবৈধ বিধি-নিষেধের মতো নির্লজ্জ ব্ল্যাকমেইলিংও করে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশের সার্বভৌমত্ব বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।

রাশিয়া দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অগ্রহণযোগ্যতা এবং তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা সম্পর্কিত ১৯৬৫ সালের জাতিসংঘের ঘোষণা অনুসারে ‘কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যা-ই হোক না কেন সেখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করার অধিকার অন্য কোনো রাষ্ট্রের নেই’। আমেরিকা ইউক্রেন ইস্যুতে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লে রাশিয়া ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে তার উত্তর দেয়। ওই ব্যঙ্গচিত্রে রাশিয়ার দৃষ্টিতে বর্তমানের পররাষ্ট্রনীতি কেমন চলছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে এক পাশে দেয়া হয় পাখির ছবি, অপরদিকে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের পতাকা। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে আমেরিকা যে পশ্চিমা বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে এতে।

বিশ্ব মোড়লদের কেন এতো দরদ!
গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌত্ব ও মানবাধিকার প্রশ্নে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষার দিকে মনোযোগী সবসময়। স্বার্থ বিবেচনায় তারা কখনো কখনো এসব ইস্যু নিয়ে তারা সোচ্চার থাকে, আবার যেখানে এসব পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোর কোনো স্বার্থের খেলা নেই সেখানে তারা দ্বিধা বাড়ায়, নিশ্চুপ থাকে। নিজেদের উন্নত গণতন্ত্র হিসেবে দাবি করা দেশগুলোর মধ্যে আধিপত্যবাদী উচ্চাকাক্সক্ষাগুলো সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে মত দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশে বিদেশি মিশনগুলো। সরকার মিশনগুলোর এমন আচরণ নিয়ে কড়াভাবেই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এমন সময়ে ঢাকায় রুশ দূতাবাস থেকে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে তৃতীয় কোনো দেশে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিবৃতি দেওয়া হলো। রাশিয়ার দূতাবাস এমন এক সময়ে এই বিবৃতি দিয়েছে, যখন পশ্চিমা দেশগুলোর মিশনগুলো নিয়ে সরকার সরাসরি উষ্মা প্রকাশ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশি মিশনগুলো খোলামেলাভাবে তাদের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরছে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ । প্রথম পৃষ্ঠা

ইউক্রেন নিয়ে পাল্টা টুইটে মার্কিনীদের খোঁচা: গণতন্ত্র সুরক্ষা বা অন্য কোনো অজুহাতে বাংলাদেশসহ তৃতীয় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে রাশিয়া বদ্ধপরিকর বলে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস যে বিবৃতিতে, তার পাল্টায় ইউক্রেনের প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা দিয়েছে আমেরিকা। বুধবার ঢাকায় আমেরিকার দূতাবাসের অফিশিয়াল টুইটারে লেখা হয়েছে, ইউক্রেনের ক্ষেত্রে কি এই নীতি মানা হয়েছে? অর্থ্যাৎ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ নিয়ে ছোড়া রাশিয়ার ইটের বিপরীতে পাটকেল ছোড়ে আমেরিকা। যেখানে এটা স্পষ্ট যে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়া যা করছে তা কি সঠিক? স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার কোনোটিই যে ইউক্রেনে মানা হয়নি এটাই রাশিয়াকে স্মরণ করিয়ে দেয় ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস। যেসব দেশ নিজেদের বিশ্বের শাসক বলে মনে করে, তারা ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের’ অজুহাতে নিজেদের মত ও সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। এর পরিণতিতে স্থিতিশীলতার পরিবর্তে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নৈরাজ্যের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, রুশ দূতাবাসের এমন বিবৃতি ইউক্রেনে নিজেদের নেয়া পদক্ষেপের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক সেটাই মনে করিয়ে দেয় আমেরিকা।

ইউডি/সুপ্ত/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading