একের পর এক চীনের সামরিক মহড়া: তাইওয়ান উপদ্বীপে যুদ্ধের কালো ছায়া
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:৩০
তাইওয়ানকে ঘিরে আবারও সামরিক ‘আগ্রাসন’ শুরু করেছে চীন। গত একদিনে তাইওয়ানের দিকে ৭১টি যুদ্ধবিমান ও ৭টি জাহাজ পাঠিয়েছে তারা। তাইওয়ান ঘিরে চীনের এটা সামরিক মহড়া নাকি যুদ্ধের ইঙ্গিত? এ নিয়ে সাদিত কবিরের প্রতিবেদন।
মার্কিনিদের উসকানি চীনের দাদাগিরি: তাইওয়ানের পক্ষে আমেরিকার সরকারের নানা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় চীনের সামরিক বাহিনী প্রায়শই শক্তি প্রদর্শন হিসাবে বড় সামরিক মহড়া ব্যবহার করে আসছে। এর আগে গত আগস্টে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক সামরিক মহড়া পরিচালনা করে চীন। মূলত তাইওয়ানে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের সফরকে দ্বীপটিকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি এবং চীনের সার্বভৌমত্বের াবির প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে থাকে বেইজিং। উল্লেখ্য, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে আমেরিকা-সহ পশ্চিমা শেগুলোর দীর্ঘনি ধরেই উত্তেজনা চলছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখøের ক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। অবশ্য তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেরে একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং। অন্যদিকে চীনের প্রদেশ নয়, বরং নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে থাকে তাইওয়ান। প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা খল করার পর তাইওয়ান শেটির মূল ভূখন্দ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং। এরপর থেকে তাইওয়ান নিজস্ব সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।

তাইওয়ানের যত অভিযোগ: তাইওয়ান বলছে, চীনের এই সামরিক মহড়ার মধ্য দিয়ে বোঝা গেছে বেইজিং আঞ্চলিক শান্তিকে নষ্ট করছে এবং তাইওয়ানের জনগণকে আতঙ্কিত করতে চাইছে। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) এক সামরিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন আবারও বলেছেন, কর্তৃত্ববাদের অব্যাহত বিস্তার ঠেকাতে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে হবে। যদিও তিনি সর্বশেষ সামরিক তৎপরতার উল্লেখ করেননি। সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যত বেশি প্রস্তুতি নেব, ততই আগ্রাসনের ধাক্কা সামলাতে পারব। আমরা যত ঐক্যবদ্ধ থাকব, তাইওয়ান ততটাই নিরাপদ থাকবে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, মহড়ায় অংশ নেওয়া চীনা বিমানগুলোর বেশির ভাগই ছিল যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে কিছুসংখ্যক বিমান অল্প সময়ের জন্য তাইওয়ান প্রণালির স্পর্শকাতর এলাকা মধ্যরেখা অতিক্রম করে। পরে বিমানগুলো চীনে ফিরে যায়। তাইওয়ানের কাছে চীনা নৌবাহিনীর সাতটি জাহাজও শনাক্ত হয়েছে। চীনের সেনাবাহিনী তাইওয়ানের ক্ষিণাঞ্চলীয় বিমান প্রতিরক্ষা অঞ্চলে ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী বিমানও পাঠিয়েছিল। আগাম সতর্কসংকেতও পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের শাসন মেনে নেওয়ার জন্য তাইওয়ানের ওপর কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ জোরার করেছে বেইজিং। তাইওয়ান সরকার বলেছে, তারা শান্তি চায়, তবে হামলা তা নিজেদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেবে।

নেপথ্যে বেইজিং’র দম্ভ পেন্টাগনের কলকাঠি: গত শনিবার সামরিক খাতে ব্যয়বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমেরিকা। এ সময় তাইওয়ানের জন্য আলাদা করে অর্থবরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেছিল পেন্টাগন। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে ভাল চোখে দেখে নি চীন। সামরিক বাজেটে তাইওয়ানের জন্য অর্থ বরাদ্দ করার সিদ্ধান্তকে সার্বভৌমত্বে ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবেই দেখছে চীন। তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে আমেরিকার এই ‘মদতে’র বিরুদ্ধেই চীন, তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের মুখপাত্র শি ই এক বিবৃতিতে জানান, তাইওয়ানকে নিয়ে আমেরিকার এই প্ররোচণা ভাল ভাবে নিচ্ছে না তারা। তারপরই তিনি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সামরিক টহলদারি এবং সামরিক মহড়া চালানোর কথা ঘোষণা করেন। শি-র এই বিৃবতির আগে থেকেই তাইওয়ানের উদ্দেশে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে শুরু করে। তিনি বলেন, এটি বর্তমান মার্কিন-তাইওয়ানের (সঙ্গে চীনের) উত্তেজনা এবং উস্কানির দঢ় প্রতিক্রিয়া। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পিএলএ তাইওয়ানের চারপাশে পানিতে যৌথ যুদ্ধ টহল এবং যৌথ হামলার অনুশীলন করছে। শি তার বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলের কথাও উল্লেখ করে বলেন, চীন এটিকে একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ বলে থাকে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্ষেত্রে ওই আইনে তাইওয়ানের সাথে বর্ধিত নিরাপত্তা সহযোগিতার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং উদীয়মান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রস্তুতি এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতার প্রয়োজনের কথাও উল্লেখ করেছে।
ইউডি/সুপ্ত/কেএস

