‘মেট্রোরেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনন্য মাইলফলক’
সাদিত কবির । বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৭:০৫
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল চালু হওয়াকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনন্য মাইলফলক। যোগাযোগ ব্যবস্থায় যতগুলো মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে রেল সিস্টেম সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। পুরো পৃথিবীতে ব্যাপক জনপ্রিয় এই মাধ্যম অল্প সময়ে ও কম খরচে অনেক যাত্রী পরিবহন করতে পারে এবং চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করা যায়। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে রেল তার প্রচলিত ধারণা ভেঙে আকার, আকৃতি, স্পিড, চলার পথ ইত্যাদি বিষয়ে অনেক পরিবর্তিত হয়েছে যার সর্বশেষ আধুনিক সংস্করণ হলো মেট্রোরেল।
১৮৬৩ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডনের কয়েকটা জায়গায় মাটির নিচ দিয়ে টানেল করে রেল চলাচলের মাধ্যমে যে সিস্টেম চালু হয়েছিল, সেই সিস্টেম ১৮৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন, ১৯১৯ সালে মাদ্রিদ, ১৯৩৫ সালে মস্কো, ১৯৫৪ সালে টরেন্টোসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও শহর ঘুরে ১৯৮৪ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতা হয়ে ২০২২ সালে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে প্রথম চালু হতে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য একটি মাইলফলক।
সাধারণত কোনো একটি শহরের জনসংখ্যা ২০ লক্ষ বা তার বেশি হলে সেই শহরের জন্য ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম পরিকল্পনা করা যেতে পারে। সেই হিসেবে ঢাকার যানজট কমানোর জন্য এই ব্যবস্থা অনেক আগেই পরিকল্পনায় নিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল। মেট্রোরেল একটি ব্যয়বহুল প্রকল্প হলেও এর সুবিধা অনেক। মেট্রোরেল যানজট কমানোর মাধ্যমে মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে। মেট্রোরেলে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার সুবিধার কারণে অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দেবে যা রাস্তার উপর থেকে চাপ কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে যেহেতু মেট্রোরেলের ট্রাক সম্পূর্ণটাই খোলা আকাশের নিচে থাকছে তাই রক্ষণাবেক্ষণ, পানি নিষ্কাশন ও পরিছন্নতা বজায় রাখা খুব জরুরি। মেট্রোরেলের কোচ ও যাত্রী পরিবহন পরিকল্পনায় একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এখানে বসে যাওয়ার চাইতেও দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর একটা সুবিধা হলো অনেক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব।
মেট্রো স্টেশনের আশেপাশে যাতে কোনো অবৈধ দোকান, পার্কিং, রিকশার জটলা বা অন্যকোনো সমস্যা না থাকে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে একজন যাত্রী তার ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল বা সাইকেল নির্দিষ্ট জায়গায় নিরাপদে রেখে মেট্রোতে করে কর্মস্থলে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে না পারলে আমরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ধরে রাখতে পারব না। মেট্রোরেলের মতো একটি আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য যাতায়াত ব্যবস্থার যে যাত্রা হতে যাচ্ছে তা ঢাকার যানজট দূর করে যাতায়াতের স্বাধীনতা এনে দিবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ইউডি/সুস্মিত

