অ্যাপোলো-৭ মিশনের সর্বশেষ সদস্য কানিংহাম আর নেই
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১০:৩০
অ্যাপোলো-৭ মহাকাশ মিশনের সদস্য ওয়াল্টার কানিংহাম ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন। এই মিশনে অংশ নেওয়া মহাকাশচারীদের মধ্যে তিনি একাই বেঁচে ছিলেন।
অ্যাপোলো-৭ ছিল পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া প্রথম মিশন। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) কানিংহাম আমেরিকার হিউস্টনে মারা যান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসা একটি বিবৃতি দিয়ে কানিংহামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ঠিক কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা বিবৃতিতে বলা হয়নি।
তাৎক্ষণিকভাবে কানিংহামের পরিবারের পক্ষ থেকেও কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। কানিংহাম ১৯৬৮ অ্যাপোলো-৭ মিশনে থাকা তিন জন মহাকাশচারীর মধ্যে এক জন ছিলেন। ১১ দিন ধরে মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এই মহাকাশযান। এই সময় টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছিল।

অ্যাপোলো-৭ মিশনে কানিংহামের সঙ্গী ছিলেন আমেরিকান নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন ওয়াল্টার এম. শিরা এবং বিমান বাহিনীর মেজর ডন এফ. আইজেল। কানিংহাম ছিলেন স্পেস ফ্লাইটের লুনার মডিউল পাইলট।
নাসা বলেছে কানিংহাম, আইজেল এবং শিরা একটি নিখুঁত মিশন সম্পাদন করেছিলেন।
কানিংহামের জন্ম আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ক্রেস্টনে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পড়াশোনা করেন তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। একই স্থান থেকে ডক্টরেট শেষ করে নাসাতে যোগদান করেন কানিংহাম। তাকে যখন অ্যাপোলো-৭ মিশনের জন্য বাছাই করা হয়, তখন তিনি বেসামরিক ছিলেন।
দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা কানিংহাম তার অতীতের কথা মনে করতেন প্রায়ই। মৃত্যুর এক বছর আগের একটি সাক্ষাৎকারে কীভাবে দরিদ্রভাবে বেড়ে উঠেছিলেন তা স্মরণ করেন তিনি।

তিনি জানান, ছোট বেলায় মহাকাশযান নয় বরং বিমান ওড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ১৯৭১ সালে নাসা থেকে অবসর নেয়ার পর কানিংহাম ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসা এবং বিনিয়োগে মনোযোগী হন।
এছাড়া, তিনি একজন পাবলিক স্পিকার এবং রেডিও হোস্ট হিসেবে পরিচিতি পান। কানিংহামের আত্মজীবনীর নাম ‘‘দ্য অল-আমেরিকান বয়েজ”।
ইউডি/এ

