স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন আজ

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন আজ

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:৫০

‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’— মানুষ ও সর্বজীবের প্রতি ভালোবাসার অমর এই বাণীর প্রবক্তা স্বামী বিবেকানন্দের ১৬১তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি ইন্ডিয়ার উত্তর কলকাতার ৩ নম্বর গৌরমোহন মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটের এক উচ্চবিত্ত কায়স্থ দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

বহুমুখী গুণের অধিকারী স্বামী বিবেকানন্দ একাধারে ছিলেন সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সংগীতজ্ঞ। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপনে স্বামী বিবেকানন্দ অগ্রসর ভূমিকা পালন করেন। তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য ছিলেন।

বিবেকানন্দের পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। ডাকনাম ছিল বীরেশ্বর এবং নরেন্দ্র বা নরেন। তিনি ১৮৭১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন। পরে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

সে বছর তিনিই ছিলেন ওই পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ একমাত্র ছাত্র। এ ছাড়া তিনি জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশনে লেখাপড়া করেছেন। ১৮৮১ সালে তিনি চারুকলা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্বামী বিবেকানন্দ প্রচুর বই পড়তেন। দর্শন, ধর্ম, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, শিল্পকলা ও সাহিত্য বিষয়ে বইপড়ায় তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। বেদ, উপনিষদ, ভাগবদগীতা, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পাঠেও তার আগ্রহ ছিল।

এ ছাড়া তিনি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত শিখেছেন। পাশাপাশি নিয়োজিত ছিলেন খেলাধুলা ও সমাজসেবামূলক নানা কাজে।

স্বামী বিবেকানন্দ ব্রিটিশ ভারতে ইন্ডিয়ান জাতীয়তাবাদের ধারণাটি প্রবর্তন করেন। তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। গুরু রামকৃষ্ণ দেবের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ ইন্ডিয়া উপমহাদেশ ভালোভাবে ঘুরে দেখেন এবং ব্রিটিশ ভারতের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞানার্জন করেন।

তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— চিকাগো বক্তৃতা, কর্মযোগ, রাজযোগ, জ্ঞানযোগ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বেদান্ত, ভারতে বিবেকানন্দ, ভাববার কথা, পরিব্রাজক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, বর্তমান ভারত, বীরবাণী (কবিতা-সংকলন), মদীয় আচার্যদেব ইত্যাদি।

বিবেকানন্দ সংগীতজ্ঞ ও গায়ক ছিলেন। তার রচিত দুটি বিখ্যাত গান হলো খণ্ডন-ভব-বন্ধন ও নাহি সূর্য নাহি জ্যোতি। এ ছাড়া নাচুক তাহাতে শ্যামা, ৪ জুলাইয়ের প্রতি, সন্ন্যাসীর গীতি ও সখার প্রতি তার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা। ১৯০২ সালের ৪ জুলাই এ জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব মৃত্যুবরণ করেন।

ইন্ডিয়ায় বিবেকানন্দকে ‘বীর সন্ন্যাসী’ নামে অভিহিত করা হয়। তার জন্মদিনটি ১৯৮৪ সাল থেকে ইন্ডিয়ায় জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading