বাক স্বাধীনতার নামে এ কেমন অনাচার
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৪:১৫
মত প্রকাশের স্বাধীনতা তথা বাক স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে সুইডেনে কোরআন অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। তুরস্ক বিরোধী আন্দোলনে উগ্র ডানপন্থি এক নেতার হাতে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর এ ঘটনায় মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। গত শনিবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহামে তুরস্কের দূতাবাসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে আরেফিন বাঁধনের প্রতিবেদন
মত-প্রকাশের রোষানলে ধর্মীয় অনুভূতি: মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে একটি ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ পুড়িয়ে ফেলা কখনোই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। সুইডেনে তুরস্কবিরোধী বিক্ষোভে ধর্মকে টেনে আনা এবং ধর্মীয় গ্রন্থের অবমাননা মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। কোরআন পোড়ানোর ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন খোদ সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। টোবিয়াস বিলস্ট্রম এক টুইটে ইসলামবিদ্বেষে উসকানিকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে বলেছেন, সুইডেনে মতপ্রকাশের সুদূরপ্রসারী স্বাধীনতা রয়েছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, সুইডিশ সরকার বা আমি প্রকাশ করা মতামতকে সমর্থন করি। সুইডেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু স্টকহোম ‘সন্ত্রাসী কুর্দিদের’ আশ্রয় দিচ্ছে অভিযোগ তুলে তুরস্ক ওই সদস্যপদপ্রাপ্তি ঠেকিয়ে রেখেছে। এনিয়ে তুরস্কবিরোধী বিক্ষোভ করে সুইডেনের উগ্র ডানপন্থিরা। সেখানেই গত শনিবার উগ্র ডানপন্থি রাজনৈতিক দল হার্ড লাইনের বিতর্কিত নেতা রাসমুস পালুদান কোরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেন। পালুদান তার বক্তব্যে তুরস্ককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত নয়, তাহলে আপনাকে অন্য কোথাও থাকতে হবে’। এর আগেও এই নেতা কোরআন অবমাননা ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।

বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা: সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে তুরস্ক দূতাবাসের সামনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশও। রবিবার (২২ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে মুসলিমদের পবিত্র মূল্যবোধকে আঘাত করার ঘটনায় বাংলাদেশ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। বাংলাদেশ মনে করে, যেকোনও পরিস্থিতিতে ধর্মের সম্মানকে সমুন্নত রাখতে হবে। পোস্টে আরও বলা হয়, সবার মধ্যে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য যেকোন ধরনের উত্তেজক আচরণ পরিহারের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। এদিকে, রবিবার (২২ জানুয়ারি) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দেয় তুরস্ক। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমরা আমাদের পবিত্র গ্রন্থের ওপর জঘন্য হামলায় তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাই। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে এমন ইসলামবিরোধী কাজের অনুমতি দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শুধু তা-ই নয়, আঙ্কারা জানিয়েছে, কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে তারা সুইডিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি আসন্ন সফর বাতিল করেছে।
মুসলিম বিশ্বে নিন্দার ঝড়: এদিকে এ ঘটনায় মুসলিম বিশ্বে নিন্দার ঝড় বইছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরব সংলাপ, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায় এবং ঘৃণা ও চরমপন্থাকে প্রত্যাখ্যান করে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও সহিংসতা পরিত্যাগ এবং ধর্মীয় প্রতীককে সম্মান জানানো ও ধর্মের অবমাননা এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক টুইটে বলেছেন, সুইডেনে পবিত্র কোরআন অবমাননার মতো জঘন্য কাজের নিন্দা জানাতে কোনো শব্দই যথেষ্ট নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্বের দেড়শ কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত করার জন্য ব্যবহার করা যায় না। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানয়ানি বলেছেন, বিশ্বের দেড়শ কোটি মুসলমানের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননার পুনরাবৃত্তি গোটা মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা-উন্মাদনা’ ও সহিংসতার সুস্পষ্ট উদাহরণ। এর সঙ্গে মত প্রকাশ ও বাক স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র কাতার বলেছে, কোরআন পোড়াতে সুইডেনের কর্তৃপক্ষ যে অনুমোদন দিয়েছে, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছে তারা। দশটি ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউডি/এজেএস

