সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : পর্দার আড়ালে কারা
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:২৫
দেশ স্বাধীনের চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ১২ জনের ফাঁসির সাজা হলেও এর পেছনে নির্দেশদাতা ও ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও আইনের আওতায় আসে নি। ফলে সুদীর্ঘ ৪৮ বছরেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের বিশদ জানতে পারেনি জাতি। দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করতে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জোড়ালো হচ্ছে। এ নিয়ে সিফাত আবদুল্লাহ’র প্রতিবেদন
তদন্ত ও কুচক্রীদের বিচার-এখন সময়ের দাবি: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ড়তিদের বিচার হয়েছে, অনেকের সাজা কার্যকরী হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, কারা ষড়যন্ত্র করেছিল, কারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করেছে সে বিষয়ে তদন্ত কিংবা বিচার এখনও হয়নি। তাই এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত ও বিচার এখন সময়ের দাবি। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, স্বাধীনতার সপক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কয়েক বছর ধরে এই দাবির পক্ষে তাদের সমর্থন জানিয়ে আসছে। রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্টজনরা বলছেন, সামরিক বাহিনীর কিছু অফিসার ও সৈনিকের দ্বারাই শুধু এ ন্যক্কারজনক ও দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ড সম্ভব ছিল না। এর পেছনে অনেক বড় ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, অর্থাৎ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তদন্ত ও বিচার হওয়া জরুরি। এদিকে তদন্তের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার বাংলাদেশ করতে না পারলে আন্তর্জাতিকভাবে বিচার চাওয়া যেতে পারে বলেও পরামর্শ তাদের। তারা মনে করেন দেরিতে হলেও এখনই সঠিক তদন্ত প্রয়োজন। এজন্য একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়। এর মধ্যে ছয়জনের মুত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বাকি ছয়জনের পাঁচজন এখনও অধরা। ২০০২ সালে মারা গেছেন একজন। ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করে।

হাইকোর্টের প্রশ্ন- ‘অনুসন্ধান কমিশন’ কেন নয়: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি স্বাধীন ‘জাতীয় অনুসন্ধান কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) এ রুল জারি করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, অর্থ সচিবকে ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাসের পক্ষে রিটটি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশফাকুজ্জোহা। সোমবার আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল আলিম জুয়েল। রিট মামলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার আদ্যোপান্ত এবং জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিতকরণে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রূপরেখা প্রস্তুত হলেও-কমিশনের খবর নেই: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার চক্রান্তের সঙ্গে জড়িতদের চেহারা জাতির সামনে উন্মুক্ত করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি বলেছেন, কোনো একদিন তা নিশ্চয়ই প্রকাশ হবে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই চক্রান্ত আমার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। এই চক্রান্ত আমাদের আদর্শের বিরুদ্ধে। কাজেই এই চক্রান্তের পেছনে কারা বোধহয় সেটাও খুঁজে বের করার সময় এসেছে। একদিন না একদিন সেটা নিশ্চয়ই প্রকাশ হবে। গত বছরের আগস্ট মাসে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন করবে সরকার। এই কমিশনের রূপরেখা এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে। আইনমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ‘উইচ হান্টিং’ বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই কমিশন গঠন করা হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানানোর জন্যই এই কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দুটো ডাইমেনশন। একটা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অন্যটি আন্তর্জাতিক। এর কোনোটাই বিচারে উঠে আসেনি। দেশের প্রচলিত আইনে আর দশটা হত্যাকাণ্ড যেভাবে হয়ে থাকে, সেভাবেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। ফলে সুদীর্ঘ ৪৮ বছরেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের বিশদ জানতে পারেনি জাতি।
ইউডি/এজেএস

